
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১৭ মে ২০২৩ | প্রিন্ট | ৭১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

জাতিসংঘে রেজ্যুলেশনের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
জাতিসংঘে ১৬ মে মঙ্গলবার কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক একটি রেজ্যুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়েছে। “কমিউনিটি ভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা অর্জনের লক্ষ্যে একটি অংশগ্রহণমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি” শিরোনামে ঐতিহাসিক রেজ্যুলেশনটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বাংলাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক ভিত্তিক মডেল প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসামান্য উদ্ভাবনী নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বাংলাদেশ কর্তৃক প্রস্তাবিত রেজ্যুলেশনটিতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল উদ্ভাবনী উদ্যোগের ব্যাপক স্বীকৃতি দিয়ে এই উদ্যোগকে ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি জনগনের স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সেবায় সাম্য আনয়নে বাংলাদেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে সাধারণ পরিষদে মঙ্গলবার রেজ্যুলেশনটি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবদুল মুহিত। কমিউনিটি ক্লিনিক ভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনস্বরূপ জাতিসংঘের ৭০টি সদস্য রাষ্ট্র এই রেজ্যুলেশনে কো-স্পন্সর ছিলো।
রাষ্ট্রদূত মুহিত তার বক্তব্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা অর্জনে এই রেজ্যুলেশনের ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রসমূহ কর্তৃক এই রেজ্যুলেশনের অনুমোদনকে ২০৩০ সালের মধ্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা অর্জনের বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত মুহিত বলেন, রেজ্যুলেশনটির সফল বাস্তবায়ন কমিউনিটি ক্লিনিক ভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। রাষ্ট্রদূত মুহিত আরো বলেন,সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নিমিত্ত্বে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এই রেজ্যুলেশনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। কারণ এটি সদস্য দেশসমূহে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে, এই কমিউনিটি ক্লিনিক ভিত্তিক মডেল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রবর্তন ও বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বহুপাক্ষিক এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংক এবং দাতাদের যথাযথ কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানায়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সকল মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশে এই অনন্য কমিউনিটি ক্লিনিক ভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চালু করেছিলেন-যা সারাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় সরকারের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার সুফল সরবরাহে বিপ্লব ঘটিয়েছে। মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার এ পর্যন্ত সারাদেশে পাবলিক-প্রাইভেট অংশিদারিত্বে ১৪ হাজারেরও বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অদম্য উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির আরো উজ্জ্বল করবে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকে রেজ্যুলেশনটি সদস্য রাষ্ট্রের সাথে নেগোসিয়েশন করেন উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ডঃ মোঃ মনোয়ার হোসেন। মিশন গত কয়েক বছর ধরে স্বাস্থ্য কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এবং এর ধারাবাহিকতায় এই রেজ্যুলেশনটি এই বছরের শুরুর দিকে মিশন সদস্য রাষ্ট্রের বিবেচনার জন্য প্রস্তাব করে। সদস্য রাষ্ট্রগুলির সাথে বিগত ৪ মাস নিবিড় আলোচনা ও নেগোসিয়েশনের পরে মঙ্গলবার প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহিত হয়েছে।
রেজ্যুলেশনটি পাশের সংবাদ জেনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো, জাফর উল্লাহ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার এবং সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি। পৃথক পৃথক বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেছেন, মানবতার কল্যাণে উদ্ভাবনী চিন্তা-চেতনার সুফল আসায় এভাবেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নেতা থেকে বিশ্বনেতায় পরিণত হচ্ছেন। শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্ব গুণে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অভিযাত্রাকে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।



