
বিশেষ সংবাদদাতা | সোমবার, ০৫ জুন ২০২৩ | প্রিন্ট | ৮০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্কে কংগ্রেস সমর্থকদের ডিনার পার্টিতে রাহুল গান্ধী। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
যুক্তরাষ্ট্র সফররত কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গত শনিবার ৩ জুন এবং বৃহস্পতিবার ১ জুন নিউইয়র্ক এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে বেশ কটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতেও শিক্ষার্থীসহ ভারতীয় আমেরিকানদের সাথে কথা বলেছেন। ভারতীয় আমেরিকানরা ‘ইন্ডিয়ান ওভারসীজ কংগ্রেস’ ব্যানারে এসব কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে মতবিনিময়কালে “গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের জন্য বাংলাদেশে মানুষকে লড়তে হচ্ছে। আপনি কী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত?” এমন এক প্রশ্নের জবাবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “বাংলাদেশ ভারতের বন্ধু। তবে বাংলাদেশের মানুষকেই তাদের চলার পথ ঠিক করতে হবে। এক্ষেত্রে আমার বলে দেয়া উচিত হবেনা।”
এসময় তার বিরুদ্ধে করা মামলা, ভারতের চলমান পরিস্থিতি, গণমাধ্যম, ভূ-রাজনীতিসহ নানান বিষয় নিয়ে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। ভারতের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং চলমান দমন-নিপীড়ন প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ভারতে ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে, এটা লুকানোর কিছু নেই। সবাই জানে- ভারতে এ বিষয়টা এখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। পৃথিবীর অন্য দেশের সবাই এটা দেখতে পাচ্ছে। আমি মনে করি একটি দেশের গণতন্ত্রের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজনকে স্বাধীনভাবে সমালোচনার সুযোগ দিতে এবং অপরজনকে সে সমালোচনা শুনতে হবে। আর এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই গণতন্ত্র মজবুত হয়। অবশ্যই ভারতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দুর্বল হচ্ছে।
রাহুল গান্ধী উল্লেখ করেন, শুধু গণমাধ্যম নয় বরং আরও নানাবিধ ক্ষেত্রে স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেগুলো সমালোচনা করতে পারে এবং যে প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের জনগণকে সমাঝোতার ক্ষেত্রে সহায়তা করে- সেসকল প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে।
এদিকে, নিউইয়র্ক সিটিতে ৩ জুন দুপুরে রুজভেল্ট হাউস পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউটে শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এক আলোচনায় রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতের মুসলমানদের ওপরে যে ঘৃণামূলক আক্রমণ চলছে, কংগ্রেস সরকারের আমলে কখনো তা হয়নি। কারণ কংগ্রেস তার সমস্ত সমস্যা ও সংকট সত্ত্বে ও মোটামুটিভাবে ভারতে ধর্মনিরপেক্ষ এক অবস্থান বজায় রাখতে চেষ্টা করেছে। বিজেপি-আরএসএস সরকারের আমলে মোদির জমানায় মুসলমান এবং দলিতদের ওপরে নির্যাতন অনেক বেড়েছে। তবে, সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন চেতনা যে জাগ্রত হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সাম্প্রতিক “ভারত জোড়ে যাত্রা” এক অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছে। লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ এই যাত্রায় রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অংশ নিয়েছেন, এবং কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত চার হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছেন। তাঁরা সকলেই ধর্ম, জাত নির্বিশেষে এক নতুন ঐক্যবদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ভারত গড়ে তুলতে চান। ভারতে মুসলমানদের নাজুক পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের ভাবনা সম্পর্কিত এমন প্রশ্ন করেছিলেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক বাংলাদেশী আমেরিকান ড.দীনা সিদ্দিকী। ভারতের সামগ্রিক পরিস্থিতি আলোকে জানতে মানবাধিকার আন্দোলনের নেতা, শিক্ষাবিদ ও লেখক ডঃ পার্থ ব্যানার্জী। এ সময় রেল দুর্ঘটনায় হতাহতের প্রসঙ্গও উঠে আসে। রাহুল বলেছেন, সাধারণ মানুষের জীবন-মানের উন্নয়নে বিজেপির চরম উদাসীনতার এ এক নিষ্ঠুর উদাহরণ। এদিন সন্ধ্যায় রাহুল গান্ধী শতশত ভারতীয় আমেরিকানের উপস্থিতিতে কুইন্সে ‘টেরেস অন দ্য পার্কে’ এক ডিনার পার্টিতেও বক্তব্য রেখেছেন। উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধী ভারতীয় লোকসভার সদস্য নন, বিরোধী দলীয় নেতাও নন, এতদসত্বেও সবকটি অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক ভারতীয়র উপস্থিতি ঘটেছিল। সবকটি অনুষ্ঠানেই প্রবাসীদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন রাহুল গান্ধী। কারণ, তারাই নাকি নিজ মেধার বদৌলতে ভারতকে বহুজাতিক এ সমাজে বিশেষ এক মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। একইসাথে মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন রাহুল গান্ধী।



