শুক্রবার ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হোয়াইট হাউসে ভারতীয় পতাকা : মোদি-বাইডেন বৈঠকে উঠতে পারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

বিশেষ সংবাদদাতা   |   সোমবার, ১৯ জুন ২০২৩ | প্রিন্ট  

হোয়াইট হাউসে ভারতীয় পতাকা : মোদি-বাইডেন বৈঠকে উঠতে পারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

হোয়াইট হাউসের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতীয় পতাকা। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

মুখে বড় বড় কথা বলে ডেমক্র্যাটরা, অথচ ভারতে মানবাধিকার লংঘনের জঘন্যতম কারিগর হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মনে করা হলেও হোয়াইটে হাউসে মোদিকে লাল গালিচা সংবর্ধনার পাশাপাশি জমকালো একটি ডিনার পার্টি অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মধ্যস্থতাতে একইদিন অর্থাৎ ২২ জুন বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনেও বক্তব্য দেবেন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর হোয়াইট হাউসে আগমনকে অর্থবহ করার পূর্বাভাস হিসেবে হোয়াইট হাইসের চারদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার সাথে ভারতীয় পতাকাও শোভা পাচ্ছে।

শনিবার ১৭ জুন পেনসিলভেনিয়া এভিনিউ ধরে হোয়াইট হাউসের মূল গেইটে যাবার সময় ‘ওয়েস্ট এক্সিকিউটিভ এভিনিউ’ (নর্থ-ওয়েস্ট) ক্রস করতেই দৃষ্টি আটকে গেল যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা এবং ভারতের পতাকার পতপত শব্দে। এরপর প্রতিটি স্ট্যান্ডেই একই দৃশ্য। ওয়াশিংটন ডিসি পরিভ্রশনরত সকল পর্যটকের দৃষ্টি একইভাবে স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়। ভারতের হায়দ্রাবাদ থেকে আসা পর্যটক সুনীল পাল অবাক বিস্ময়ে এ সংবাদদাতাকে বললেন, একি কান্ড। কোন কোন কংগ্রেসম্যান/সিনেটর নরেদ্র মোদিকে মানবতা ও সভ্যতার দুশমন হিসেবে অভিহিত করছেন। অথচ হোয়াইট হাউস সেই মানুষটিকে লাল গালিচা সম্বর্ধনার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এ কেমন স্ববিরোধী আচরণ? এ প্রসঙ্গে দীর্ঘ প্রায় চার দশক যাবত নিউইয়র্কে বসবাসরত মানবাধিকার সংগঠক ও শ্রমিক শিক্ষক ড. পার্থ ব্যানার্জি এ সংবাদদাতাকে বললেন, চীনের বিরুদ্ধে বড় একটি শক্তি হিসেবে ভারতকে আবির্ভূত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। চীনের খবরদারিকে কোনভাবেই সহ্য করতে চাচ্ছে না বাইডেন প্রশাসন। তাই নরেন্দ্র মোদিকে খুশী করতে অবিশ্বাস্য রকমের ঘটনা ঘটতে পারে মোদির সফরকালে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ডলারের প্রভু’ত্ব এত দ্রুত কমে যাচ্ছে। অপরদিকে, চীনের সুপার পাওয়ার হয়ে উঠার লক্ষণও ইতিমধ্যেই কথিত মুরুব্বীদের বিচলিত করেছে। পার্থ ব্যানার্জি উল্লেখ করেন, ভারত হচ্ছে সবচেয়ে বড় মার্কেট অস্ত্র বিক্রি আর ফাস্টফুডের। সবদিক বিবেচনা করেই ডেমক্র্যাটরাও মোদিকে খুশী করতে বদ্ধপরিকর। এক্ষেত্রে যে কোন ধরনের ছাড় দিতে কসুর করবে না হোয়াইট হাউস। এমনকি, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান মিত্র হলেও ভারতকে দোষারোপ করছে না যুক্তরাষ্ট্র।
প্রধানমন্ত্রী মোদি হচ্ছেন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বড় খোলোয়াড় এবং প্রেসিডেন্ট বাইডেনও সেই ইস্যুতে মোদির সাথে গুরুত্বপূর্ণ কিছু চুক্তিও সম্পাদন করতে পারেন এ সফরের সময়। ভারতকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিতে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হিসেবে মনে করা হচ্ছে। রিপাবলিকানরাও এক্ষেত্রে ডেমক্র্যাটদের ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘দ্য ইকনোমিক টাইমস’র কলামিস্ট সীমা সিরোহি যুক্তরাষ্ট্রে একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে যে চীন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের পলিসিতে ভারতকে তার এক নম্বর মিত্রে পরিণত করতে চাচ্ছে। তাহলেই এ অঞ্চলেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব কমবে না। ভারতে সীমান্ত চীনের সাথেও যুক্ত। গত দু’বছর থেকেই চীন-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আরও কিছু কারণ রয়েছে যে জন্যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে প্রধান অংশিদার হিসেবে মনে করে। অপরদিকে, ভারতের নিজস্ব উন্নয়ন-পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন। একইভাবে ভারতের মেধা-প্রতিভা দরকার যুক্তরাষ্ট্রের। এটা সকলেরই জানা যে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দু’লাখ ভারতীয় ছাত্র রয়েছেন এবং ভারতীয় আমেরিকানরা মার্কিন রাজনীতি-অর্থনীতি সকল ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব কারণে নরেন্দ্র মোদি এ সফরের সময় প্রযুক্তি স্থানান্তরকে অধিক গুরুত্ব দেবেন। সাপ্লাই চেইনও অন্যতম একটি ইস্যুতে পরিণত হবে এ সফরকালে। উভয় রাষ্ট্রই পরস্পরের প্রতি আস্থাশীল এবং তারা পণ্য উৎপাদন ও পরিবহনকে নিজ স্বার্থে অধিকতর গুরুত্ব দেবেন। কারণ, তারা চায় না যে গোটাবিশ্ব চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকুক। চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য দূর করতে চায় ভারত-যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই। চুক্তির মধ্যে আরেকটি বিষয় যোগ হতে পারে। ভারতে একটি সেমিকন্ডাক্টও ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। এজন্যে মোটা অর্থ বিনিয়োগেও প্রস্তাবও দিয়েছে বৃহৎ একটি কোম্পানী। ভারতের সাথে সামরিক বিমানের ইঞ্জিন (যুদ্ধ-উড়োজাহাজ) প্রস্তুতের জনেও মোদিও সাথে বাইডেনের চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে এই কলামিস্ট উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন রাজনীতির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একজন পেশাজীবী বাংলাদেশি নাম গোপন রাখার শর্তে এ সংবাদদাতাকে বলেন, বাইডেনের সাথে একান্ত বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নেতৃত্ব অটুট রাখার স্বার্থে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও গুরুত্বপূর্ণ একজন পার্টনার হিসেবে পাশে রাখার আহবান জানাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। জাতীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী দমনে শেখ হাসিনার সাহসী পদক্ষেপকে বাইডেন সবসময়ই ক্রেডিট দিয়ে আসছেন। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজের মুরুব্বীয়ানা অটুট রাখার স্বার্থে মোদির এ অনুরোধ বাইডেন কখনোই উপেক্ষা করবেন না বলে ধারণা এই বাংলাদেশি আমেরিকানের। ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসরত এই প্রবাসী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি মহলের লাগাতার দেন-দরবার থামিয়ে দিতে ক্ষমতাসীন সরকারের লোকজন আদৌ কোন ভূমিকা রাখছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে না। উল্লেখ্য, বাইডেন প্রশাসনের সাথে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে দেন-দরবারের জন্যে একটি ফার্ম ভাড়া করেছে বাংলাদেশ সরকার। তাদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। তবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোন কিছুই কাজে আসবে না যদি নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনাকে সত্যিকারের মিত্র হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন। কারণ, বাইডেন প্রশাসনে নরেন্দ্র মোদি এখন বড় একটি ফ্যাক্টর।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:৫৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৯ জুন ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar