
বিশেষ সংবাদদাতা | বুধবার, ২১ জুন ২০২৩ | প্রিন্ট | ৮০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

হান্টার বাইডেন। ছবি-সংগ্রহ।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন ২০১৭ ও ২০১৮ অর্থ বছরের ট্যাক্স ফাঁকি এবং অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়ের দোষ স্বীকার করতে যাচ্ছেন। সরকারী কৌশুলির সাথে সমঝোতার মাধ্যমে গুরুতর অপরাধের কথা স্বীকার করায় হান্টার বাইডেনকে কারাগারে থাকতে হবে না। তবে মাদকাসক্ত থেকে পরিত্রাণের চিকিৎসা গ্রহণ এবং নজরদারিতে (প্রবেশন) থাকতে সম্মত হয়েছেন। ২০ জুন মঙ্গলবার দেলওয়ারের স্টেটের আইনজীবীরা এ সংক্রান্ত কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দিয়েছেন। সেখানেই দোষ স্বীকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, মাসকাসক্ত হওয়ায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়ের এখতিয়ার নেই হান্টার বাইডেনের।
এতদসত্বেও তিনি তা ক্রয় করেছেন। সমঝোতার এসব শর্ত কার্যকরে একজন বিচারকের অনুমোদন লাগবে। সে অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে হান্টারের এটর্নী ক্রিস ক্লার্ক এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমি জানি হান্টার বিশ্বাস করেন যে, তার জীবনের বিশৃঙ্খল এবং আসক্তির সময়ে তিনি যে ভুলগুলি করেছেন তার দায় স্বীকার করে নেয়া জরুরি। হান্টার পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে এবং সবকিছু পেছনে ফেলে সামনে অগ্রসর হতে উন্মুখ হয়ে আছেন। উল্লেখ্য, ৫৩ বছর বয়েসী হান্টার চীন এবং ইউক্রেন সহ বেশ কটি দেশের লবিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। আরো উল্লেখ্য, হান্টার নিয়মিত ট্যাক্স পরিশোধ করেছেন কিনা এবং ২০১৮ সালে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়ের সময় কাগজপত্রে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেণ কিনা তা নিয়ে গত ৫ বছর ধরেই বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলছিল। এ অবস্থায় সকল দোষ স্বীকারের মধ্য দিয়ে চলমান ঐ তদন্তের পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গ্রন্থে বাইডেন পুত্র স্বীকার করেছেন যে, তিনি এক সময় বিপুল পরিমাণের মাদক গ্রহণ করতেন। অথচ বিচার বিভাগীয় তদন্তের সময় সে কথা স্বীকার করেননি। এখন এমন এক সময়ে হান্টার তার দোষ স্বীকার করতে যাচ্ছেন যখন রিপাবলিকান কয়েকজন সিনেটর/কংগ্রেসম্যান এবং প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্প হান্টারের বাবা জো বাইডেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টির অনেকেই হান্টারের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ করছেন অনেকদিন ধরেই। লবিস্ট হিসেবে বিদেশে কাজ করার সময় হান্টার দুর্নীতি করেছেন বলেও প্রকাশ্যে অভিযোগ উঠেছে। ট্রাম্পপন্থি একটি সংগঠনের কর্মকর্তা ক্যারলিন লিভিট উপরোক্ত সমঝোতা চুৃক্তিকে ‘স্যুইটহার্ট ডিল’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর ফলে বিচার বিভাগ দুর্নীতি দেখেও না দেখার ভান করার সুযোগ পাবে।
বাইডেন পুত্রের অপকর্মের দায় ধামাচাপা দেয়ার বিষয়টি মঙ্গলবার ‘টক অব কান্ট্রি’ ছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউস এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফার্স্টলেডি জিল বাইডেন তাদে পুত্রকে ভালবাসেন এবং তিনি তার জীবন পুনর্গঠনে যে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন সেটিকে সমর্থন করেন। এ বিষয়ে আমাদের আর কিছু বলার নেই।



