সোমবার ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বঙ্গসম্মেলনের রঙ্গমেলা ও আদিকথা

ফকির ইলিয়াস   |   সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩ | প্রিন্ট  

বঙ্গসম্মেলনের রঙ্গমেলা ও আদিকথা

দীর্ঘ বছর যাবৎ বঙ্গসম্মেলনে যাওয়া হয় না। কারণ এর আয়োজকরা একপেশে। তারা গোটা বাঙালি সমাজকে গুরুত্ব দেন বলে মনে হয়নি কখনোই। সবকিছুই যেন বাণিজ্যিক! অনুষ্ঠান করতে টাকা লাগে। কিন্তু সেই ডলার যদি সঠিকভাবে, পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার না হয়! ৩০ জুন, ১ ও ২ জুলাই-২০২৩ অনুষ্ঠিত হলো এই সম্মেলন আটলান্টিক সিটিতে। আমন্ত্রণ পেয়ে এবার সেখানে গিয়েছিলাম।
এবারের ৪৩তম বঙ্গসম্মেলনের মূল স্পনসর ছিলেন শ্রী কালিপদ চৌধুরী। তিনি সিলেটের লোক। থাকেন ক্যালিফোর্নিয়াতে। আমার জানামতে কালিদার কেপিসি গ্রæপ এবারের বঙ্গ সম্মেলনে এক মিলিয়ন ডলার (১০ লাখ ডলার) দিয়েছে। জানা গেছে তাদের বাজেট ছিল ১৫ লাখ ডলার। তাহলে এত অব্যবস্থাপনা কেন হলো এবারের আটলান্টিক সিটির বঙ্গসম্মেলনে?

নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স (এনএবিসি) হলো একটি বার্ষিক বাঙালি সংস্কৃতি সম্মেলন যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসের উইকএন্ড জুলাইয়ের সপ্তাহান্তে। এটি ১৯৮১ সালে নিউইয়র্কে কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতি বছর এটি একটি সংস্থা দ্বারা হোস্ট করা হয়। সম্মেলনে পারফরম্যান্স, রিডিং, আলোচনা, নেটওয়ার্কিং এবং ক্লাস পুনর্মিলন অন্তর্ভুক্ত থাকে। হালে বিজ্ঞান প্রযুক্তি আইটি বিজনেস ইত্যাদি যুক্ত হয়েছে।

পারফর্মাররা প্রায়ই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বাংলাদেশ এবং ভারত থেকে আসেন। শ্রোতারা মূলত ভারতীয় আমেরিকান, বাংলাদেশি আমেরিকান, বাংলাদেশি কানাডিয়ান এবং ভারতীয় কানাডিয়ান। ২০২২ সালে, বাংলাদেশি অভিনেতা-প্রযোজক শাকিব খানকে এনএবিসির বাংলাদেশ আউটরিচ ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। যিনি ছিলেন এই সম্মেলনের ৪২ বছরের ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। ৪৩তম সম্মেলন হলো এবছর। ২০২৪ সালে শিকাগোতে ও ২০২৫ সালে কানাডায় এই সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

এই সম্মেলনের স্টিয়ারিং কমিটির সকলেই ভারতীয় বাঙালি। বাংলাদেশির সংখ্যা সেখানে খুবই গৌণ। এখন দেখা যাক এর আগে এই সম্মেলনগুলো কোথায় কবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কারা ছিলেন আয়োজক।
১৯৮১ : নিউইয়র্ক সিটি, নিউইয়র্ক। আয়োজক- কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল।
১৯৮২ : নিউইয়র্ক সিটি, কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল দ্বারা আয়োজিত।
১৯৮৩ : নিউইয়র্ক সিটি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল দ্বারা আয়োজিত।
১৯৮৪ : বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইংল্যান্ডের প্রবাসী দ্বারা আয়োজিত।
১৯৮৫ : বাল্টিমোর, মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোরের প্রান্তিক দ্বারা আয়োজিত।
১৯৮৬ : ক্লিভল্যান্ড, ওহাইও, বেঙ্গলি কালচারাল সোসাইটি দ্বারা আয়োজিত।
১৯৮৭ : সান ফ্রান্সিসকো/সান জোসে, ক্যালিফোর্নিয়া স্কুল ফর দ্য ডেফ, ফ্রেমন্ট, ক্যালিফোর্নিয়ায় বে এরিয়া অডিটোরিয়াম। বে এরিয়া প্রবাসী কর্তৃক আয়োজিত।
১৯৮৮ : আটলান্টিক সিটি, নিউজার্সি, জিম হুইলান বোর্ডওয়াক হল, কল্লোল এনজে দ্বারা আয়োজিত।
১৯৮৯ : নিউ ইয়র্ক সিটি, কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল দ্বারা আয়োজিত।
১৯৯০ : মেরিল্যান্ড, মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সংস্কৃত ডিসি দ্বারা আয়োজিত।
১৯৯১ : বোস্টন এলাকা, লোয়েল, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইংল্যান্ডের প্রবাসী দ্বারা আয়োজিত।
১৯৯২ : টরন্টো, অন্টারিও, কানাডা, পিবিসিএ টরন্টো দ্বারা আয়োজিত।
১৯৯৩ : লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, ফুলারটন দক্ষিণী লস অ্যাঞ্জেলেস দ্বারা আয়োজিত।
১৯৯৪ : শিকাগো, ইলিনয়, হায়াত রিজেন্সি ও’হারে, বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অফ গ্রেটার শিকাগো দ্বারা আয়োজিত।
১৯৯৫ : নিউইয়র্ক মেট্রো এরিয়া, হোয়াইট প্লেইনস, নিউইয়র্ক, কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল দ্বারা আয়োজিত।
১৯৯৬ : হিউস্টন, টেক্সাস, অ্যাডামস মার্ক হোটেল হিউস্টনের ঠাকুর সোসাইটি দ্বারা আয়োজিত।
১৯৯৭ : ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া ভ্যালি ফোর্জ কনভেনশন সেন্টার, প্রগতি ফিলাডেলফিয়া দ্বারা আয়োজিত।
১৯৯৮ : টরন্টো, রিগাল কনস্টেলেশন, পিবিসিএ টরন্টো দ্বারা আয়োজিত।
১৯৯৯ : সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া, সান্তা ক্লারা কনভেনশন সেন্টার, সান্তা ক্লারা, ক্যালিফোর্নিয়া, বে এরিয়া প্রবাসী দ্বারা আয়োজিত।
২০০০ : আটলান্টিক সিটি, নিউ জার্সি, আটলান্টিক সিটি কনভেনশন সেন্টার ও কল্লোল এনজে এবং অন্যাদের দ্বারা আয়োজিত।
২০০১ : বোস্টন, পল সোঙ্গাস এরিনা লোয়েল, নিউ ইংল্যান্ডের প্রবাসী দ্বারা আয়োজিত।
২০০২ : আটলান্টা, জর্জিয়া ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস সেন্টার, সাউথ ইস্টার্ন বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা আয়োজিত।
২০০৩ : লং বিচ, ক্যালোফোর্নিয়া, লং বিচ কনভেনশন সেন্টার, ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণী বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা আয়োজিত।
২০০৪ : বাল্টিমোর, বাল্টিমোর কনভেনশন সেন্টার, সংস্কৃত ডিসি দ্বারা সংগঠিত।
২০০৫ : নিউইয়র্ক সিটি, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন, কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল দ্বারা আয়োজিত।
২০০৬ : হিউস্টন, ট্যাক্সাস। জর্জ আর. ব্রাউন কনভেনশন সেন্টার হিউস্টনের ঠাকুর সোসাইটি দ্বারা আয়োজিত।
২০০৭ : ডেট্রয়েট, কোবো কনফারেন্স/এক্সিবিশন হল/টিসিএফ সেন্টার, বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার মিশিগান দ্বারা আয়োজিত।
২০০৮ : টরন্টো, মেট্রো টরন্টো কনভেনশন সেন্টার। পিবিসিএ টরন্টো দ্বারা আয়োজিত।
২০০৯ : সান জোসে, ম্যাকেনারি কনভেনশন সেন্টার, বে এরিয়া প্রবাসী দ্বারা আয়োজিত।
২০১০ : আটলান্টিক সিটি, আটলান্টিক সিটি কনভেনশন সেন্টার, কল্লোল দ্বারা আয়োজিত।
২০১১ : বাল্টিমোর, বাল্টিমোর কনভেনশন সেন্টার, সংস্কৃত ডিসি দ্বারা আয়োজিত।
২০১২ : লাস ভেগাস, প্যারিস লাস ভেগাস, কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল দ্বারা আয়োজিত।
২০১৩ : টরন্টো, অন্টারিও, কানাডা, মেট্রো টরন্টো কনভেনশন সেন্টার, পিবিসিএ টরন্টো দ্বারা আয়োজিত।
২০১৪ : অরল্যান্ডো, ফ্লোরিডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দ্য পিবডি অরল্যান্ডো বেঙ্গলি সোসাইটি অব ফ্লোরিডা দ্বারা আয়োজিত।
২০১৫ : হিউস্টন, টেক্সাস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জর্জ আর. ব্রাউন কনভেনশন সেন্টার, হিউস্টনের ঠাকুর সোসাইটি দ্বারা আয়োজিত।
২০১৬ : নিউ ইয়র্ক সিটি, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন, কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল দ্বারা আয়োজিত।
২০১৭ : সান ফ্রান্সিসকো, সান্তা ক্লারা কনভেনশন সেন্টার, বে এরিয়া প্রবাসী দ্বারা আয়োজিত।
২০১৮ : আটলান্টিক সিটি, আটলান্টিক সিটি কনভেনশন সেন্টার, আনন্দ মন্দির এনজে দ্বারা আয়োজিত।
২০১৯ : বাল্টিমোর, বাল্টিমোর কনভেনশন সেন্টার, সংস্কৃত ডিসি দ্বারা আয়োজিত।
২০২০ : ব্যক্তিগতভাবে কভিড-এর কারণে বাতিল করা হয়েছে। বেঙ্গল কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা আয়োজিত অনলাইন জনহিতকর উদ্যোগ হোপ ২০২০ অনুষ্ঠিত হয়।
২০২১ : ব্যক্তিগতভাবে বঙ্গ সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে। এনএবিসি গেøাবাল নামে অনলাইন, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্ল্যাটফরমে কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল দ্বারা আয়োজিত হয়েছিল।
২০২২ : লাস ভেগাস নেভাদা, প্ল্যানেট হলিউড ক্যাসিনো এবং রিসোর্ট এবং জাপ্পোস থিয়েটার লাস ভেগাস। কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল দ্বারা আয়োজিত।
২০২৩ : আটলান্টিক সিটি, জিম হুইলান বোর্ডওয়াক হল এবং সিভিউ কেপিসি বেঙ্গলি হল অব ফেম এডিসন এনজে দ্বারা আয়োজিত।

এই সম্মেলন ৪৩ বছর পেরিয়েছে। কিন্তু এর অর্জন কি? শুধুই নাচ গান? নাকি অন্য কিছু? এর জবাব একটু খোঁজা দরকার। ১৯৭৪ সালে গঠিত হয় কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল। যার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন ভারতীয় বাঙালিরা। এর উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ ছিল- উত্তর আমেরিকায় বাংলার ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিকে তুলে ধরা এবং বাংলা ভাষার প্রচার। এর লক্ষ্য নিয়ে আয়োজকরা যা করতে পেরেছেন তার একটা নমুনা এখানে পাওয়া যায়। বাংলা বই এবং জার্নালগুলো সংগ্রহে রাখার জন্য লাইব্রেরি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়। শুরুর মাত্র ৬ বছরের মধ্যে আমেরিকাজুড়ে ২৩টি লাইব্রেরি তৈরি করা হয়। উত্তর আমেরিকা ও কানাডার বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বই রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ২০০০ সাল পর্যন্ত এই নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এই কমিটি। শিশুদের জন্য বাংলা ভাষার স্কুল, ক্লাস চালু করা, অবাঙালিরাও সেখানে বাংলা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

১৯৮০ সালের মধ্যে আমেরিকার বিভিন্ন শহরে রবিবার বাংলা ক্লাস চালু করা হয়েছিল। স্থানীয় বাঙালিরা দায়িত্ব নিয়েছিলেন। স্কুলের সিলেবাস লিখে কপি করে বিভিন্ন শহরে পাঠানো হতো। তাদের চেষ্টায় কলম্বিয়া, ইয়েল, হার্ভার্ড’র মতো নামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মূল পাঠ্য তালিকায় বাংলাকে ঢোকানো সম্ভব করেছিলেন এঁরা। আরেকটি কাজ ছিল, নিউজ বুলেটিন চালু এবং প্রচার করার জন্য। ১৯৭১ সালের ১৫ নভেম্বর চালু হয় প্রথম হাতে লেখা পত্রিকা। ‘সংবাদ বিচিত্রা’ নামে এই কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন নিউইয়র্কের শ্রী রণজিৎ কুমার দত্ত। ধীরে ধীরে এর কলেবর বেড়ে হয় ২৪ পাতা। লক্ষ্য ছিল, সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং প্রদর্শনী।

প্রথম প্রথম বিভিন্ন শহরে স্থানীয় বাঙালিরা ঘরোয়াভাবে নববর্ষ, রবীন্দ্রজয়ন্তী, বিজয়া সম্মিলনী ইত্যাদি আয়োজন করতেন। এরপর আলোচনা শুরু হলো কীভাবে এক ছাদের নিচে বিভিন্ন শহরের প্রবাসী বাঙালিদের একত্র করা যায়। এঁদের অনেকেই ভাল গানবাজনা, আবৃত্তি, নাচ, নাটক করেন। তাদের প্রতিভা তুলে ধরার জন্যও তো মঞ্চ দরকার। এই সম্মেলনের সাথে প্রথম থেকেই জড়িত ছিলেন, রণজিৎ দত্ত, প্রবীর রায়, স্বদেশ বসু, সত্যব্রত চৌধুরী, মীরা দাস, দীপক হালদার, মিহির সেন, প্রণব দাস, মনোরঞ্জন সিকদার, কল্যাণ ভট্টাচার্য, সুশান্ত রায় এবং আরও অনেকে।

১৯৮১ সালে প্রথম বঙ্গসম্মেলন হয় নিউইয়র্কে। কুইন্স-এর একটি স্কুলে জড়ো হলেন কাছাকাছি কয়েকটি শহরের বাঙালিরা। টরন্টো, বস্টন, নিউজার্সি, মেরিল্যান্ড থেকে সমবেত হয়েছিলেন প্রবাসী শিল্পীরা। উৎসাহ দিতে সে বার এসেছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। দর্শক ছিলেন মাত্র ২৬৫ জন আর টিকিটের দাম ছিল ৫ ডলার। আর আর মূল নীতি ছিল সম্মেলনকে ধর্ম ও রাজনীতি থেকে দূরে রাখা। ১৯৮৩ সালে নিউইয়র্কে সম্মেলনের আসর থেকেই ঘোষণা করা হয়, পরের বছর থেকে নানা শহরে হবে এই মিলনমেলা।

২০০০ সালে পা দেওয়াটা চির স্মরণীয় করে রাখতে কী করা হবে, সেই পরিকল্পনা চলছিল অনেক দিন ধরেই। কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের আলোচনায় ঠিক হলো, দুই শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে কলকাতা আর হাওড়ায় ১৩ দিন ধরে হবে বিশ্ব বঙ্গসম্মেলন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। ২৯ ডিসেম্ব^র থেকে ১০ জানুয়ারি ১৪টা মঞ্চে হই হই কাণ্ড। সম্মেলনের চেয়ারম্যান হলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় আর প্রবীর রায় হলেন সভাপতি। ৭৪৫ জন শিল্পী অংশ নিয়েছিলেন উৎসবে। দর্শক এসেছিলেন লাখ দেড়েক।

এই সম্মেলনে বিভিন্ন সময়ে এসেছেন, মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, প্রণব মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব গুহ, পন্ডিত রবিশংকর, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ, গৌতম ঘোষ, সৈয়দ শামসুল হক, সুস্মিতা সেন, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, অভীক সরকার, তিলোত্তমা মজুমদার, নবনীতা দেবসেন, নবকুমার বসু, অমিত মিত্র, শ্রীজাত, ড. মণি ভৌমিক, ড. পরিতোষ চক্রবর্তী, আমজাদ আলি খান, শ্রেয়া ঘোষাল, সেলিনা হোসেন, প্রমুখ।

বেদনার কথা হচ্ছে- ইন্টারনেটের বদৌলতে বই পড়ার অভ্যাস কমে গিয়েছে সর্বত্র। ২০০০ সালের পর বন্ধ হয়ে গিয়েছে তৈরি করা লাইব্রেরিগুলো।

এখন এই এনএবিসি একটি বড় পরিসর। কিন্তু ২০২৩ এর সম্মেলনে, যে হীন লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছে, তা এর আগে কখনো ঘটেনি। বাসি খাবার খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন। গ্রুপ হোটেল নিয়ে ভাড়া পরিশোধ না করায় কর্তাদের একজন এরেস্ট হয়েছেন মার্কিনি পুলিশের হাতে! খাবার ক‚পন অনলাইনে কিনেও খাবার পাননি অনেকে। দর্শকরা জাানেন না কোন অনুষ্ঠান কোথায় হচ্ছে। এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশিদের একটা বড় দল যোগ দিয়েছিলেন ঠিকই- কিন্তু তারা আশাহত হয়েছেন। জয়তী চট্টোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীকে হোটেল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে দুদিন আগেই! তিনি লাইভে এসে খুবই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। কেন এমন হলো, তা খোঁজা দরকার। বঙ্গসম্মেলন সব বাঙালিদের মিলনমেলা। সেখানে জাভেদ আলী আর সনু নিগমের সস্তা হিন্দি গান কতটা মানানসই ভাবতে হবে তা নিয়েও। বাংলায় কি ভালো গান নেই? সম্মেলনে রবীন্দ্র-নজরুল-জীবনানন্দ উপেক্ষিত কেন? এর জবাব আয়োজকদের দিতে হবে।

উত্তর আমেরিকায় এখন লাখ লাখ বাঙালি। দুই বাংলা মিলিয়ে ৬০ লাখ হতে পারে! তাদের জন্য কমন প্লাটফরম হতে পারে এই মহাসম্মেলন। হতে পারে প্রজন্মের অধিকার আদায়ের প্লাটফরমও। না, নতুন প্রজন্মের বড় কোনো অনুষ্ঠান চোখে পড়েনি এবারও। এটা দুঃখজনক। ১৫ লাখ ডলার খরচ করে শুধু দুচারটি হিন্দি গানের বড় কনসার্ট করা তো বঙ্গসম্মেলনের লক্ষ্য হতে পারে না।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:৪০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar