
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩ | প্রিন্ট | ১১১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বৃহত্তম অর্থনীতির কয়েকটি দেশসহ বিশ্বের ২৫টি দেশ তাদের দারিদ্র্যের সূচকসমূহকে অর্ধেকে নামিয়েছে। একইসাথে করোনা মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী আরো এক বিলিয়ন মানুষের সামগ্রিক পরিস্থিতির সঠিক তথ্য না পাওয়ায় দারিদ্র বিমোচনের ক্ষেত্রে অগ্রগতির লক্ষ্যকে অস্পষ্ট করেছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির দারিদ্র ও মানব উন্নয়ন উদ্যোগ’র দ্বারা মঙ্গলবার ১১ জুলাই প্রকাশিত ‘হালনাগাদ বৈশ্বিক বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক’ অনুসারে ভারতে কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেছে। যেখানে গত ১৫ বছরে ৪১৫ মিলিয়ন তথা ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছেন। একইসময়ে চীনে এ সংখ্যা ৬৯ মিলিয়ন তথা ৬ কোটি ৯০ লাখ এবং ইন্দোনেশিয়ায় মাত্র ৮০ লাখ।
জাতিসংঘ মানব উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক পেড্রো কনসেসিও এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আমরা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের (২০৩০ এজেন্ডার) মাঝামাঝিতে রয়েছি, আমরা এখন স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি যে, করোনা মহামারির আগে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হ্রাসে স্থিতিশীল অগ্রগতি ছিল। কিন্তু সূচকের আওতাভুক্ত ১১০টি দেশের বেশিরভাগের ড্যাটার অভাব থাকায় করোনা মহামারি কতটা গভীরভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে দরিদ্র করেছে তা বোঝার ক্ষমতাকে সীমিত করেছে।
মোট কথা হচ্ছে, প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের ব্যাপারটিকে এখন অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনের স্বার্থে। ‘শিক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মহামারির নেতিবাচক প্রভাবগুলো খুবই তাৎপর্যপূর্ণ এবং এর পরিণতি দীর্ঘতর হতে পারে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমরা সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত মাত্রা বোঝার প্রয়াসকে নিপতিত করেছি। এ অবস্থায় তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে জোরদার ও বস্তুনিষ্ঠ করতে হবে এবং দারিদ্র্য হ্রাস কার্যক্রমকে সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে নীতিগত প্রক্রিয়া অবলম্বনও করতে হবে’-যোগ করেছেন পেড্রো কনসেসিও। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বৈশ্বিক বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক (এমপিআই) দারিদ্র হ্রাসের ব্যাপারটিকে পরিমাপ করে এবং নীতি নির্দ্ধারণের জন্যে তথ্য সরবরাহ করে। এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন দিক যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অ্যাক্সেসের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যের মূল্যায়ন করে।
এমপিআই দারিদ্র্যের জটিলতার ওপরও আলোকপাত করে-যেখানে বিভিন্ন সূচক বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উপ-অঞ্চলে এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে তথা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে দারিদ্র্যেও অভিজ্ঞতাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে। বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্যেরর তথ্য আপ-টু-ডেট এবং বিস্তৃতভাবে নিশ্চিত করার মধ্যদিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব। শুধু তাই নয় দেশে দেশে বিরাজমান বৈষম্য দূর করতেও সঠিক তথ্য সংগ্রহের ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে-মন্তব্য ইউএনডিপির।



