Advertisement Placeholder

জ্যাকসন হাইটস রণক্ষেত্র : পুুলিশ থামালো আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মারপিট

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ১৯ জুলাই ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ১৩০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

জ্যাকসন হাইটস রণক্ষেত্র : পুুলিশ থামালো আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মারপিট

বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মারদাঙ্গা পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশের হস্তক্ষেপ। ছবি-নিহার সিদ্দিকী।

আবারো রণক্ষত্রে পরিণত হলো নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ স্ট্রিট। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় পরস্পর বিরোধী স্লোগানের পর ধাক্কা-ধাক্কিতে লিপ্ত হয়েছিলেন। পানির বোতল ছুড়ে মারার ঘটনায় এলাকাবাসী আতংকিত হয়ে উঠেন।

শতশত বিক্ষোভকারির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার জন্য যানবাহন চলাচল থমকে দাড়িয়েছিলো। এমনি অবস্থায় কয়েক ডজন পুলিশ এসে ঘন্টাখানেক চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত করতে সক্ষম হওয়ায় রক্তপাতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে ফটো-সাংবাদিক নিহার সিদ্দিকী এ সংবাদদাতাকে জানান। উল্লেখ্য, ১২ জুলাই জ্যাকসন হাইটসের এই বাংলাদেশী বাণিজ্যিক এলাকায় এসে তোপের মুখে পড়েছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা ও নারায়নগঞ্জের সংসদ সদস্য শামিম ওসমান। তিনি ঘুরতে এসে বিএনপি, যুবদলের নেতা-কর্মী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন। শামিম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি ও যুবদলের কর্মীরা অশ্রাব্য গালিগালাজ সম্বলিত স্লোগান দিলে আশেপাশে থাকা আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পরিস্থিতি বেশী দূর গড়ায়নি। শামিম ওসমানের ওপর হামলাকারি যুবদলের নেতা বাদল মির্জার গ্রামের বাড়ি (নোয়াখালির সোনাইমুড়ি উপজেলার আমকি গ্রাম)তে ১৫ জুলাই সকালে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করার সংবাদ জানার পর তার প্রতিবাদে ১৭ জুলাই নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় বিক্ষোভ করেন বিএনপি-যুবদলের নেতা-কর্মীরা।

বৃহত্তর নোয়াখালী জাতীয়তাবাদি ফোরামের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে ছিলেন জসীম ভূঁইয়া, জাকির এইচ চৌধুরী, হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, সাঈদুর রহমান সাঈদ, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আবু সাঈদ প্রমুখ। তারা জ্বালাময়ী বক্তব্য প্রদান করেছেন। এরপর সকলে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশ স্ট্রিটে নবান্ন রেস্টুরেন্টের বেসমেন্টে নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির পূর্বনির্ধারিত সভায় যোগদানের জন্যে। সে সময় নবান্ন রেস্টুরেন্টের সম্মুখস্ত সড়কে শামিম ওসমানের সাথে দুর্ব্যবহারের ঔদ্ধ্যত্ব প্রদর্শনকারিদের ধিক্কার জানিয়ে সেখানে স্লোগান দিচ্ছিলেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা। এথেকেই শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা। পরস্পরকে আক্রমণাত্মক স্লোগানের পাশাপাশি চলে পানির বোতল ছোড়াছুড়ির ঘটনা আর ধাক্কাধাক্কি। এহেন পরিস্থিতিতে গোটা এলাকা সন্ত্রস্ত হয়ে উঠে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতৃস্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করার নামে মূলত: ক্ষুব্ধ কর্মীদেরকে আরো উস্কে দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। মারদাঙ্গা পরিস্থিতির সংবাদ জেনে টহল পুলিশের কয়েকটি গাড়ি এসে পুরো এলাকা ঘেরাও করে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হয়।
জানা গেছে, রক্তপাতের ঘটনা না ঘটলেও অনেকে সামান্য আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। এ ধরনের পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ঘনঘন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মীরা এহেন পরিস্থিতির অবতারণা করলে ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠবে বলে তারা মন্তব্য করেছেন। দূর-দূরান্তের ক্রেতারা জ্যাকসন হাইটসে আর নিরাপদ মনে করছেন না। সাধারণ প্রবাসীরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রবাসে অযথা হানাহানি-মারামারির নিন্দা জানিয়েছেন এবং সকলকে অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশী রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিহারের জন্যে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার