
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি | বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩ | প্রিন্ট | ১৫৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

পুলিশ এবং দুর্বৃত্তের গুলিতে সাম্প্রতিক সময়ে ৩ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে কর্তৃপক্ষের সীমাহীন নির্লিপ্ততার নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে ২৫ জুলাই মঙ্গলবার অপরাহ্নে নিউইয়র্কে যৌথভাবে মানববন্ধন করলো ‘যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এবং ‘মুক্তিযোদ্ধা-সন্তান-প্রজন্ম ফোরাম’। এ সময় প্রবাসীদের নিরাপত্তা দাবিতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও উঠে।
জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় এ মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার এবং সঞ্চালনা করেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান-প্রজন্ম ফোরামের সভাপতি আশরাব আলী খান লিটন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফোরামের সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, সন্তান-প্রজন্ম ফোরামের মাহমুদুল হাসান, আব্দুল আওয়াল মিন্টু প্রমুখ। বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফউল হক চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক, ছাত্রনেতা আব্দুস সালাম, আনোয়ার পারভেজ, আমজাদ সুমন। এ আয়োজনে সহযোগিতা করেছে মিরসরাই সমিতি। উল্লেখ্য, নিহতদের মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শামসউদ্দিন আহমদের কনিষ্ঠ পুত্র ইয়াজউদ্দিন আহমেদ ওরফে রমিম (২৩)ও রয়েছেন।
১৮ন জুলাই মিজৌরি স্টেটের সেন্ট লুইসে কর্মস্থলের পার্কিং লটে বন্দুকধারী এক কৃষ্ণাঙ্গ দুর্বৃত্ত তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ওই দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করা হলেও নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে পৌছার আগেই হ্যান্ডকাপ-সহ পলায়ন করেছে বলে পুলিশ উল্লেখ করে। ইয়াজউদ্দিনের রক্তের দাগ শোকানোর আগেই ২৩ জুলাই সকালে আরিজোনা স্টেটের ফিনিক্স সিটির অদূরে কারাগ্রান্দে এলাকায় নিজ গ্রোসারি স্টোরে মোহাম্মদ আবুল হাশিম (৪২) নামক আরেক বাংলাদেশির প্রাণ ঝরে বন্দুকের গুলিতে। সেই কৃষ্ণাঙ্গ ঘাতককে অবশ্য গ্রেফতার করা হয়েছে।
চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি সকাল ১১টার দিকে বস্টনের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসেচুসেটসের ছাত্র সৈয়দ ফয়সাল (২০) কে টহল পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। সেই হত্যাকান্ডে সুনির্দিষ্টভাবে এখন পর্যন্ত কোন পুলিশকে অভিযুক্ত করা হয়নি। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে নিউইয়র্ক সিটির ওজোনপার্কে নিজ বাসার সামনে গাড়ি পার্ক করে বের হবার সাথে সাথে দুর্বৃত্তের গুলিতে মারা গেছেন বাংলাদেশি খন্দকার মোদাচ্ছের (৩৬)। সেই দুর্বৃত্ত গ্রেফতার হওয়া দূরের কথা, এখনো পর্যন্ত শনাক্তই করতে পারেনি বিশ্বের সবচেয়ে চৌকষ বাহিনীর দাবিদার নিউইয়র্কের পুলিশ। গত বছর মে মাসে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনে সাবওয়েতে নিহত হয়েছেন হান্টার কলেজের ছাত্রী জিনাত হোসেন (২৪)।
আজ অবধি মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে সক্ষম হয়নি নিউইয়র্কের পুলিশ। এভাবেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা ন্যায় বিচার থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন এই মানববন্ধনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার। তিনি অভিযোগ করেন, অথচ বাংলাদেশের মানবাধিকার আর আ্ইনের শাসন নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের মাতব্ববির শেষ নেই। খবরদারি করা হচ্ছে গোটা দুনিয়ার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও। নিজের চেহারা আয়নায় দেখে মার্কিন প্রশাসনের উচিত অন্যের সমালোচনা করা।
এ সময় স্লোগান উঠে ‘নো-জাস্টিস-নো পিস’, ‘ইয়াজউদ্দিন হত্যার বিচার চাই’ ইত্যাদি।



