সোমবার ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নৌকার প্রার্থীতা প্রত্যাশী ড. টুকু

বঙ্গবন্ধু আমার আদর্শ, শেখ হাসিনা আমার নেত্রী, দুর্নীতিমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমার স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ৩১ জুলাই ২০২৩ | প্রিন্ট  

বঙ্গবন্ধু আমার  আদর্শ, শেখ হাসিনা আমার নেত্রী, দুর্নীতিমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমার স্বপ্ন

বরগুণায় গণ-সংযোগে ড. মাহাবুবুর রহমান টুকু। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

দেশ মাতৃকার মায়া ছাড়তে না পেরে অনেক প্রবাসীর ন্যায় নিউইয়র্কের ড. মাহাবুবুর রহমান টুকুও বরগুণা-২ থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের দৌড়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। নিউইয়র্কের ব্যস্ততম এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য,অর্থ-কড়ি কিছুই তাকে আটকে রাখতে পারছে না। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে তার বাবা যেমন মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন, ঠিক তেমনিভাবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অবিস্মরণীয় নেতৃত্বে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের একজন সাহসী-সংগঠনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে আগ্রহী ড. মাহাবুবুর রহমান টুকু।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাথে আলাপকালে ড. টুকু বলেন, ‘বাবা আব্দুল বারী মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ায় আমাদের পরিবার যেমন খুশি তেমনিভাবে জননেত্রীর সকল কাজের সহযোগিতা করতে পারলে আমরা ধন্য হবো। বঙ্গবন্ধু আমার আদর্শ, শেখ হাসিনা আমার নেত্রী, দুর্নীতিমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমার স্বপ্ন।’ গত ঈদে এলাকায় গিয়ে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে কথা বলেছেন, দোয়া চেয়েছেন। মতবিনিময় করেছেন সাংবাদিকগণের সাথে। ঈদ উপলক্ষে নগদ অর্থসহ নয়া পোশাক এবং খাদ্য-সামগ্রিও বিতরণ করেছেন বহু মানুষের মধ্যে। সালাম বিনিময় করেছেন মসজিদসমূহের ইমামগণের সাথেও। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বসতি গড়ার আগে টুকু এলাকায় ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে ছিলেন। এক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় কমিটিতেও ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। রক্তের মধ্যে মুজিব আদর্শ বহমান থাকায় সুদূর এ প্রবাসেও জড়িয়ে পড়েন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামোতে। ড. টুকু বললেন, বাংলা আর বাঙালির হৃদয়ের রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে তারই সুযোগ্য তনয়া দেশরত্ন শেখ হাসিনার দর্শনকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে নিজেকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছি। বঙ্গবন্ধু যেমন মধুমতি তীরের সেই টুঙ্গিপাড়া গ্রামের সোঁদা গন্ধ নিয়ে বেড়ে উঠেছেন, একজন প্রান্তিক মানুষ থেকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কথা ভেবেছেন, দেশকে পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্ত করেছেন, একবিংশ শতাব্দীতে এসে বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা তার নিরলস পরিশ্রম স্বীয় মেধা আর দেশকে এগিয়ে নেওয়ার তাড়না থেকে পিতা মুজিবের স্বপ্ন গুলোকে পূর্ণতা দিয়েছেন। এ অবস্থায় আমার মিশন কিংবা ভিশন এর শিরোনাম যদি আসে তবে শুরুতেই আসবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার যে প্রত্যয় নিয়ে শেখ হাসিনা এগিয়ে চলেছেন। সেই চলার পথে বিশ্বস্ত সহযোগি যুব সমাজকে সোনার মানুষে পরিণত করার জন্য আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হয়ে নিজের সর্বোচ্চ শ্রম আর মেধার বিনিয়োগ ঘটাতে চাই। এবং তা বাস্তবায়নে ভুমিকা রাখতে চাই।

রাজনীতির দুর্গম পথ মাড়িয়ে এগিয়ে চলা ড. টুকু বললেন, নির্বাচন এলেই দেশে এক দল লোক আছে, যারা পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। শুরু হয় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র। বিএনপি-জামায়াতের দু:শাসন, দুর্নীতি, হাওয়া ভবনের লুটপাট, খুন-ধর্ষন, ২১ শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা, বাংলা ভাই শায়েখ আব্দুর রহমানের জঙ্গি উত্থান, ১৭ আগস্ট ৬৩ জেলায় একযোগে বোমাবর্ষনের তান্ডব, ভ‚য়া ভোটার দিয়ে ভোট করার চক্রান্ত ফাঁস হলে বিক্ষুব্ধ জনতা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাস্তায় নেমে এলে দেশের ওপর চাপিয়ে দেয়া মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের শাসনামলে গ্রেফতার করা হয় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। এসব কথা বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেলে চলবে না। তেমন একটি পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বতস্ফ‚র্ত ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করেছিলেন মহাজোটকে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। এই সরকার ক্ষমতায় এসে জাতরি পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার অভিযুক্ত ফাঁসির রায় কার্যকর, জেল হত্যার বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার মধ্য দিয়ে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করেন।
ড. টুকু উল্লেখ করেন, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, বিনামূল্যে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের প্রথম দিন নতুন বই প্রদানের কার্যক্রমও শুরু করেছেন শেখ হাসিনা। উন্নত বিশ্বেও এমন ঘটনা বিরল। এছাড়া সর্বস্তরে বেতন ভাতা বৃদ্ধিও পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। ড. টুকু জননেত্রী শেখ হাসিনার সততার উদাহরণ টানতে গিয়ে সাহসেরও প্রশংসা করেন এবং বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, রেলযোগে সুলভে ভ্রমন ব্যবস্থা চালু, দেশে শুরু হয় উন্নয়নের অভিযাত্রা-যা বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ড. টুকু বলেন, গোটাবিশ্বে বাঙালির একটিই স্লোগান আর তা হচ্ছে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার-বারবার দরকার’। তৃণমূলের একজন কর্মী হিসেবে আমি মনে করি জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন সফল প্রধানমন্ত্রী। তিনি পদ্মা সেতুর মতো অনেক কঠিন কাজ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমি মনে করি রাষ্ট্রের উন্নয়নে প্রয়োজন ক্ষমতার ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। সে তাগিদেই সামনের নির্বাচনেও বাঙালিরা নৌকা প্রতিকের প্রার্থীগণকে বিপুল বিজয় দেবেন বলে আশা করছি। ড. টুকু জানালেন, নির্বাচনী এলাকা পাথরঘাটা, বামনা, বেতাগীর প্রত্যন্ত অঞ্চল পরিভ্রমণের সময় প্রত্যক্ষ করেছি সকলেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবিচল আস্থাশীল। যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হওয়ার সুফল গ্রামের প্রান্তিক মানুষেরাও পাচ্ছেন। কাউকে অনাহারে থাকতে হচ্ছে না। খালি পায়ে কাউকে হাঁটতেও দেখিনি। তবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মতো এখনও কিছু লোক আছেন যারা বাংলাদেশের এই উন্নয়নকে সহ্য করতে পারছে না। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ড. টুকু উল্লেখ করলেন, অপপ্রচারণার ক্ষেত্র এই নিউইয়র্ক থেকে বেতাগী পর্যন্ত বিস্তৃত। ড. টুকু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জামাত-শিবিরের এজেন্টরা অপপ্রচারণায় উল্লেখ করছে যে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীন নয়, কেউই সত্য কথা বলতে পারছেন না। এটা যে কতটা ডাহা মিথ্যাচার তা বাংলাদেশে অবস্থানকালে দেখেছি। প্রায় প্রতিটি টিভির টক শোতেই সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করা হচ্ছে। এটি চলছে অবাধে। এতদসত্বেও ‘জ্ঞানপাপীর দলের এজেন্টরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার গভীর এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন’ বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের পোড় খাওয়া নেতা ড. টুকু। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় জনগন সুফল পেয়েছে এবং ক্ষমতার ধারাবাহিকতার কারণেই পদ্মা সেতু, মেট্টোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেলসহ অন্যান্য মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত হলে দেশ ও জনগণ সেই সুফল আরো পাবে। দেশ যখন নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন স্বাধীনতা ও উন্নয়ন বিরোধী অপশক্তি দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।
ড. টুকু উল্লেখ করেন, শৈশব-কৈশোর-যৌবনের উত্তাল দিনগুলোতে সাংগঠনিক তৎপরতার ছোঁয়া এখনও পাই এলাকার মানুষের সাথে কুশলাদি বিনিময়ের সময়। তারা আমাকে এতটাই ভালোবাসেন যে, ঈদ উপলক্ষে দেশে যাবার পর অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। সকলের প্রত্যাশা আমি যেন সামনের নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে প্রার্থী হই। সে প্রত্যাশার পরিপূরক হিসেবে মনস্থির করতে বাধ্য হয়েছি, বরগুণায় ফিরে এলাকার পথে-প্রান্তরে মুজিব সৈনিকদের হাতে হাত রেখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতিরজনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনার পরিক্রমায় নগন্য একজন কর্মী হিসেবে আবির্ভূত হবো।
প্রবাস জীবনেও আওয়ামী রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেননি ড. টুকু। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি জামায়াতের নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মামলা/হামলার শিকার হয় আমার পরিবার, আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবা ও ছোট ভাই। ২০০১ সালে নির্বাচনের পর বিএনপি ও জামায়াতের নির্যাতনের ছবি তোলা ও ভিডিও সহ সকল ডক্যুমেন্ট ছিনিয়ে নিয়েছিলো এবং আমাদের সকলকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলো দুর্বৃত্তরা। তারপরও আমাকে থামাতে পারেনি। নির্যাতনের ডক্যুমেন্ট স্টেট ডিপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে আমি দিয়েছিলাম। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে বিএনপি ও জামায়াতের নির্যাতনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে, জাতিসংঘের সামনে ও স্টেট ডিাপর্টমেন্টের সামনে স্মারকলিপি প্রদান ও সভা-সমাবেশের আয়োজন করেছিলাম।
২০০১ সালে নির্বাচনের পরে খুলনাসহ আরো পাশের যেসব আওয়ামী লীগ পরিবারের ওপর অত্যাচার হয়েছে, তাদের সহায়তাকল্পে খাবার পরিবেশন, গোপনে সংবাদ প্রদানসহ তাদেরকে একস্থান থেকে অন্যস্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম। ১/১১ তে কথিত কেয়ারটেকার সরকার অধিষ্ঠিত হবার পর দলীয় নেতাকর্মীদের দায়েরকৃত মামলার খরচ চালিয়েছি। জননেত্রীকে আটক করার সাথে সাথে তীব্র প্রতিবাদ করে জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্কে নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনের সকল কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করেছি। এবং নেতৃত্ব দিয়েছি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:০২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ৩১ জুলাই ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar