সোমবার ২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সিএনএনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মানহানির মামলা খারিজ

বিশেষ সংবাদদাতা   |   সোমবার, ৩১ জুলাই ২০২৩ | প্রিন্ট  

সিএনএনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মানহানির মামলা খারিজ

সিএনএন-এর বিরুদ্ধে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়ের করা মানহানির মামলাটি খারিজ করেছেন ফ্লোরিডাস্থ ফোর্টলডারডেলের ফেডারেল কোর্টের মাননীয় বিচারপতি রাগ সিংগাল। গত অক্টোবরে সিএনএন’র কাছে ৪৭৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবিতে ট্রাম্প এই মামলা করেছিলেন। গত ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল উল্টে দেয়ার অভিপ্রায়ে ট্রাম্প যেসব কথা বলেছেন তা ছিল ‘ভয়ংকর মিথ্যা’ এবং সেই মিথ্যার ওপর ভর করে ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এমন মতামত ব্যক্ত করা হয় সিএনএন’র টক শোতে। এরফলে ট্রাম্পের মানহানি হয়েছে বলে উপরোক্ত মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

মাননীয় বিচারপতি রাগ সিংগাল তার রায়ে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উল্লেখ করেছেন যে, ‘ট্রাম্পের নির্বাচনী চ্যালেঞ্জের সাথে সম্পর্কিত শব্দটি (অ্য বিগ লাই) সিএনএন-এর ব্যবহার একটি যুক্তিসঙ্গত অনুমানের জন্ম দেয় না যে ট্রাম্প ইহুদি বা অন্য কোন গোষ্ঠির নিপীড়ন ও গণহত্যার পক্ষে।’ বিচারপতি রাগ যোগ করেছেন, ‘আদালত রাজনৈতিক বক্তৃতায় নাৎসি রেফারেন্সগুলো (যে কোন পক্ষের দ্বারা হতে পারে) ঘৃণ্য এবং বিদ্বেষপূর্ণ বলে মনে করে। কিন্তু সে সব মন্তব্য/মতামত মানহানির পর্যায়ে পড়তে পারে না যখন একটি পরম সত্যের ব্যাপারে মিথ্যা বিবৃতি প্রদান করা হয়। বিচারক রাগ সিংগাল অত্যন্ত স্পষ্টভাবে মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন, যার অর্থ মি. ট্রাম্প এই বিষয়ে অন্য কোন মামলা দায়ের করতে পারবেন না।
টক শো’র মতামত সিএনএন’র ছিল না, তা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞজনেরা। এছাড়া, নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেয়ার কথা বলে ট্রাম্প ভয়ংকর মিথ্যাচার করেছেন যাকে হিটলার ও নাৎসিবাদের সাথে তুলনা করা হয়েছে টক শো-তে। এটিও মানহানির পর্যায়ে পড়ে না। উল্লেখ্য, বিচারপতি রাগ সিংগালকে ২০১৯ সালে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
মামলাটি খারিজের পর সিএনএন কোন মন্তব্য/মতামত দেয়নি। তবে ট্রাম্পের নির্বাচনী টিমের মুখপাত্র স্টিভেন চিউয়ুঙ এক বিবৃতিতে বলেছেন, অত্যন্ত সম্মানীত বিচারকের রায়ের সাথে আমরা একমত যে. প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পর্কে সিএনএন’র বক্তব্য বিদ্বেষপূর্ণ। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, এর আগে ডনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমসসহ আরো কয়েকটি গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তার লাগামহীন আচরণ, মন্তব্য, গণবিরোধী পদক্ষেপের সমালোচনা করলেই ট্রাম্প মামলা করেন অথবা মামলার হুমকি দেন-এমন একটি প্রবণতা রয়েছে। তবে কোন মামলাকেই মাননীয় আদালত আমলে নেননি।

কৈ-এর তেল ?
এদিকে, নির্বাচনী প্রচারণার জন্যে পাওয়া চাঁদার অর্থের একটি অংশ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা পরিচালনায় ব্যয় করা হচ্ছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৬ মাসে এ বাবদ ৪০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যক্তি ট্রাম্পের অপকর্মের দায় নিতে হচ্ছে রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকদেরকে। ইতিমধ্যেই ট্রাম্প এবং তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে যত মামলা দায়ের করা হয়েছে সবগুলোর পরিচালনায় এটর্নীগণকে এই তহবিল থেকে ফি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও সংবাদে জানা গেছে। অর্থাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোকে রাজনৈতিক বিদ্বেষপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে রাজনৈতিক চাঁদাবাজির খাতে আনা হয়েছে-যা কোনভাবেই আইনসিদ্ধ নয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন। আরো জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণার তহবিলকে ‘প্যাট্রিয়ট লিগ্যাল-ডিফেন্স ফান্ড’-এ সরিয়ে তা আইনজীবীগণের ফি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ফান্ড পরিচালনায় রয়েছেন ট্রাম্পের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাইকেল গ্ল্যাসনার এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা লিনী প্যাট্টোন।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:১০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ৩১ জুলাই ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar