সোমবার ২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া অংশগ্রহণকারিগণের

মার্কিন কংগ্রেসের ‘টম ল্যান্টস মানবাধিকার কমিশনের শুনানীতে বিএনপি-জামায়াতের ধারাবিবরণী?

বিশেষ সংবাদদাতা   |   বুধবার, ১৬ আগস্ট ২০২৩ | প্রিন্ট  

মার্কিন কংগ্রেসের ‘টম ল্যান্টস মানবাধিকার কমিশনের শুনানীতে বিএনপি-জামায়াতের ধারাবিবরণী?

‘টম ল্যান্টস মানবাধিকার কমিশন’র লগো।

মার্কিন কংগ্রেসের ‘টম ল্যান্টস মানবাধিকার কমিশন’র উদ্যোগে ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি: হালনাগাদ” শিরোনামে অনুষ্ঠিত শুনানীতে বিএনপি-জামায়াতের ভাষায় ‘শেখ হাসিনা-সরকার কর্তৃক বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, এবং সাংবাদিক সহ সরকারের সমালোচকদের অত্যাচারের’ ধারাবিবরণী উপস্থাপন করা হয়। সঞ্চালনা করেন লাইব্রেরী অব কংগ্রেসের বিদেশ-বিষয়ক আইনের বিশেষজ্ঞ তারিক আহমেদ।প্রধান বক্তা ছিলেন এশিয়ান হিউম্যান রাইটস ও এশিয়ান লিগেল সেন্টারের মোহাম্মদ আশরাফুজ্জমান। তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৯ সাল থেকে এ যাবত ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার শাসনামলে বিচারবহিভর্’ত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে ২৬৮৩ জন। ২০২১ সালে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা ১০৭টি বিচার বহিভর্’ত হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে। গত বছর ৪টি। অর্থাৎ র‌্যাবের কয়েক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এহেন বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের সংখ্যা কমলেও বিরোধী মতবাদ পোষণকারিদের দস-পীড়ন অব্যাহত আছে বলে মন্তব্য করেছেন আশরাফুজ্জামান। ভাচর্’য়ালে অনুষ্ঠিত এ শুনানীতে বক্তা ছিলেন রবার্ট কেনেডি হিউম্যান রাইটসের ক্রিষ্টি উয়েডা, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জুলিয়া বেøকনার, এবং ইউ. এস, ইনস্টিটিউট অব পীস ও ইন্টারন্যাশন্যাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের এশিয়া-প্যসিফিক ডিভিশনের এ্যাডভাইজার ডক্টর জেফ্রি ম্যাকডোনাল্ড। হোস্ট করেন কংগ্রেসম্যান (ডেমক্র্যাট)জেমস পি ম্যাকগভার্ন এবং রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ক্রিস্টোফার এইচ স্মীথ। এরা দু’জন হলেন আয়োজক সংগঠন ‘টম ল্যান্টস মানবাধিকার কমিশন’র কো-চেয়ার। শুনানীর সারাংশ তারা কংগ্রেসে সাবমিট করবেন।
উল্লেখ্য, ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের জাতির পিতা, সেক্যুলার ডেমোক্র্যাটিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার দিবস তথা বাঙালিদের জাতীয় শোক দিবস সত্বেও এই শুনানীতে তার কোন কোন ছাপ পরিলক্ষিত না হওয়ায় অংশগ্রহণকারিগণের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন প্রসঙ্গটির অবতারণা করলেও সঞ্চালক তা আমলে নেননি বলে একজন অংশগ্রহণকারি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন। তবে প্যানেলিস্টদের একজন বক্তব্য উপস্থাপনের সময় সকলকে একথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ১৫ আগষ্ট হত্যা করা হয়েছিল, বাংলাদেশে আজ শোক দিবস।
প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রশ্ন ওঠেছিল যে, ১৫ আগষ্টকে কেন এই শুনানীর জন্য বেছে নেয়া হল। কিন্তু সঞ্চালক এই প্রশ্নটি এড়িয়ে যান।
কম্যুনিটি লিডার ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির অন্যতম সংগঠক ড. দিলীপ নাথ এই শুনানীতে ছিলেন। তিনি এ সংবাদদাতার কাছে ক্ষোভের সাথে বলেন, শুনানীর নামে প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে শুনানীর আয়োজন করা হলো, অথচ আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্যে বাংলাদেশের সরকারের অথবা ক্ষমতাসীন দলের কাউকে সুযোগ দেয়া হয়নি। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা অধ্যাপক নব্যেন্দু দত্ত এবং ড. দ্বীজেন ভট্টাচার্য একই মন্তব্য করেছেন আয়োজকদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে। ড. দ্বীজের ভট্টাচার্য বলেন, অংশগ্রহণকারিগণের বক্তব্য শুনতে শুনতে মনে প্রশ্ন জাগছিল, এই শুনানীর আয়োজক আসলে কে? টম ল্যান্টস হিউম্যান রাইটস কমিশনের শুনানী তো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হওয়ার কথা, এই কমিশন কি জানেনা আজ আমাদের জাতীয় শোক দিবস – এই দিনে ওরা এই শুনানীর আয়োজন করতে গেল কেন? বক্তা হিসেবে তারা কোন সরকারী প্রতিনিধি, বাংলাদেশের কোন বিখ্যাত সাংবাদিক বা মানবাধিকার কর্মি/প্রবক্তা, নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি-কাউকে আনেনি কেন? কেউ কেন বলছে না ২০০১ সালের কথিত নির্বাচনে বিজয়ী বি. এন.পি-জামাত কি নারকীয় তান্ডব চালিয়েছিল দেশের সংখ্যালঘু নাগরিকদের ওপর। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর জন্য সরকার এবং বিরোধী দলসমূহের কার কী করনীয় সে কথাও উপস্থাপিত হলো না।
ড. দ্বীজেন এবং অধ্যাপক নব্যেন্দু বিস্ময়ের সাথে এ সংবাদাতার কাছে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ কখনও কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান না নিয়ে দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনে ঐতিহাসিকভাবে সকল দলেরই নেতিবাচক ভূমিকার কথা যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও কংগ্রেসকে জানিয়ে এসেছে এবং এর সমাধানে তাঁদের সাহায্য চেয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায়, আমরা মনে করি যে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আজকের শুনানীতে আনিত সকল অভিযোগের কী জবাব তারা দেবে সেটা তাদের ব্যাপার, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করলে তো বাংলাদেশে রাষ্ট্র এবং বাঙালী জাতীয়তাবাদ কিছুরই অস্তিত্ব থাকে না।
শুনানীতে কে কে উপস্থিত ছিলেন সেটা স্ক্রীনে দেখা যায়নি। প্রশ্নোত্তর পর্বে সঞ্চালক নিজেই প্রশ্নগুলো তাঁর মত করে পড়ে শোনালে প্যানেলিস্টরা উত্তর দেন,যা তাদের লিখিত বক্তব্যের চেয়ে ভিন্ন কিছু ছিল না। ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেছেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রে অসংখ্য হিয়ারিং শুনেছি, কিন্তু এমন একপেশে হিয়ারিং দেখলাম এই প্রথম।
একটি প্রশ্ন ছিল নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য কেয়ারটেকার সরকার গঠিত হওয়া দরকার কি না। ডক্টর জেফ্রি ম্যাকডোনাল্ড এই প্রশ্নের জবাবে বলেন যে, সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ইলেকশন কমিশনকে শক্তিশালী করা দরকার।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:৫০ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৬ আগস্ট ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar