
বিশেষ সংবাদদাতা | সোমবার, ২১ অগাস্ট ২০২৩ | প্রিন্ট | ৪৪৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সংবাদ সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য দিচ্ছেন গাইবান্ধা সোসাইটির সভাপতি আব্দুল আওয়াল দুলাল। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট প্রশাসনে ভুলে ভরা বাংলা সংশোধনের মহতি একটি উদ্যোগ নিয়েছে গাইবান্ধা সোসাইটি। গাইবান্ধা সোসাইটির কর্মকর্তারা শনিবার এক সংবাদ সম্মেলন থেকে জানান, শুদ্ধভাবে বাংলা লেখার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহবানে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে ২৬ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে, ২৭ আগস্ট একই সময়ে জ্যামাইকায় ১৬৮ হিলসাইড এভিনিউতে এবং ২৮ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের পর তা রাত ৮টায় আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল সমীপে। এ উপলক্ষে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিনই বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করবেন গাইবান্ধা সোসাইটির কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট প্রশাসনের বিভিন্ন সার্কুলার, বুলেটিন, নোটিশ এবং হাসপাতালসহ অত্যাবশ্যকীয় কোন কোন স্থানে বাংলার সাইনে ক্রমাগতভাবে ভুল হচ্ছে। এতটাই বিব্রতকর যে, অনেক সময় ঐসব সতর্কবানী/নির্দেশনার অর্থই অনুধাবন করা সম্ভব হয় না। এ নিয়ে অতি সম্প্রতি সিটি হলে কম্পট্রোলার ব্র্যাড লেন্ডারকে এক সংবাদ সম্মেলনে এবং কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং-এ সঞ্চালনায় প্রেসিডেন্ট বাইডেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেভিয়ার বেসেরাকে বাংলাদেশ প্রতিদিনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়। তারা উভয়েই অকপটে স্বীকার করেছেন যে, গুগল ট্র্যান্সিলেশন শুদ্ধ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে তারা পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাসও দিয়েছেন। এছাড়া, সিটি কাউন্সিলে অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে সোচ্চার কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফও কাজ করছেন এহেন পরিস্থিতির অবসানে। এমনি অবস্থায় আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে গাইবান্ধা সোসাইটি যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তাকে সকলেই সাধুবাদ দিচ্ছেন। এমন দায়িত্বে অবতীর্ণ হওয়া জরুরী ছিল নিউইয়র্কে মাদার সংগঠনের দাবিদার ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র-এমন অভিমতও পোষণ করেছেন কেউ কেউ।
উপরোক্ত সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন গাইবান্ধা সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রেজা রহমান এবং সঞ্চালনা করেন দীলিপ মোদক। শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং কর্মকর্তাগণকে পরিচয় করিয়ে দেন সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল আওয়াল দুলাল। তিনি শুদ্ধ বাংলা প্রচলনের অভিপ্রায়ে গাইবান্ধা সোসাইটির এই উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্যে গণমাধ্যম-কর্মীগণকে আগাম কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এ সময় সিটি ও স্টেট প্রশাসনের ভুলে ভরা কয়েকটি সার্কুলারের কপিও বিতরণ করা হয়। এমন বিশেষ একটি উদ্যোগের প্রেক্ষাপট উপস্থাপনকালে জানানো হয়, ১৯৫২ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে শহীদ হয়েছেন রফিক, জব্বার, শফিউর, সালাম, বরকত সহ অনেকেই। রক্তের বিনিময়ে অর্জন করা সেই ভাষা নিউইয়র্কে ভুলভাবে উপস্থাপন হলে আমরা আহত হই, আমাদের রক্তক্ষরণ হয়। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়। এসব গ্লানি থেকে মুক্ত হতে আমাদের এই পদক্ষেপ।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন সহ-সাধারণ-সম্পাদক প্রতীমা সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শফিউল আজম, অর্থ সম্পাদক ও গণস্বাক্ষর উপ-কমিটির আহ্বায়ক : দীলিপ মোদক, ক্রীড়া সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম তুহিন, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক ও গণস্বাক্ষর উপ-কমিটির সদস্য সচিব ফাহমিদা চৌধুরী লুনা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুক্তি সরকার এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজমা বেগম, সনজীবন কুমার, জিয়াউর রহমান হেনরি, লায়লা তানি, প্রশান্ত কুমার, হোসনে আরা বেগম রত্না প্রমুখ।



