বৃহস্পতিবার ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফেডারেল প্রশাসনের উদ্বেগ

বেআইনীভাবে সীমান্ত ঢুকে পড়া অভিবাসীর মধ্যে ১৭৭০০০ জনের হদিস নেই

বিশেষ সংবাদদাতা   |   মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট  

বেআইনীভাবে সীমান্ত ঢুকে পড়া অভিবাসীর মধ্যে ১৭৭০০০ জনের হদিস নেই

২০২১ সালের মার্চ থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১৭ মাসে মেক্সিকো হয়ে বেআইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়া অভিবাসীর মধ্যে সীমান্ত রক্ষী কর্তৃক গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে ১২ লাখকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে তারা নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে অথবা আদালতে হাজিরা দিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়া অবলম্বন করবে। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এর মধ্যে এক লাখ ৭৭ হাজারের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। আর এ উদ্বেগজনক তথ্য সোমবার প্রকাশ করেছেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের মহাপরিদর্শক জোসেফ কাফারি। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রশাসনের উদার নীতি অনুযায়ী আইন লংঘনকারিদেরকেও মুচলেকা রেখে মুক্তি প্রদানের পর তারা নিরুদ্দিশ হয়ে পড়ছেন। এরফলে বেড়েছে অপরাধের ঘটনা।
মহাপরিদর্শকের রিপোর্ট অনুযায়ী, মুচলেকা দিয়ে মুক্ত হবার সময় যে ঠিকানা তারা দিয়েছেন সেখানে তারা অবস্থান করছেন না অর্থাৎ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে তারা অবৈধভাবেই দিনাতিপাতের চেষ্টা করছেন। ‘গড়পরতা প্রতি মাসে সীমান্ত রক্ষী কর্তৃক গ্রেফতারের সাথে সাথে মুচলেকা রেখে মুক্তি প্রদানের সংখ্যা ৬০ হাজারের মত। এরমধ্যে যারা নিরাপত্তার জন্যে হুমকিস্বরুপ, তাদেরকে পুনরায় গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পন্থা অবলম্বন করতে গিয়ে ভুয়া ঠিকানার হদিস উদঘাটিত হয়েছে’-বলেছেন মহাপরিদর্শক। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী আলেজান্দ্রো মেয়রকাস বলেন, বেআইনীভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারিদেরকে গ্রেফতারের পরই মুক্তি প্রদান করা হলেও তারা কর্তৃপক্ষের নজরে থাকে এবং ইমিগ্রেশনের আবেদন মঞ্জুর না হলেই তাদেরকে গ্রেফতারের পর নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আলেজান্দ্রো মেয়রকাসের এ দাবি মানতে নারাজ তারই দফতরের মহাপরিচালক। তদন্ত কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, অন্তত: ২৫ হাজার অভিবাসীর দেয়া ঠিকানায় হানা দিয়ে কাউকে পাননি। এরা নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিস অথবা আদালতেও হাজিরা দেননি। এদেরকে খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের এজেন্টরা (আইস)। ঐসব পলাতকরা অন্য কোন অপরাধে গ্রেফতার হলেই কেবলমাত্র কর্র্তপক্ষের দৃষ্টি প্রসারিত হচ্ছে। আইসের ফিল্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে যে, সীমান্তে ভীড় এতটাই বেড়েছে যে, গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির আগে নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে মাথাপিছু গড়ে ৩ মিনিট সময়ও পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে শিশু এবং প্রবীন অভিবাসীর ক্ষেত্রে মুক্তি প্রদানের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে না বলেও মন্তব্য করেছেন আইসের এজেন্টরা।
এদিকে, সীমান্ত অতিক্রমকারিদের ভীড় সামলাতে না পেরে টেক্সাসের গভর্ণর কর্তৃক নিউইয়র্কে পাঠিয়ে দেয়া লক্ষাধিক অভিবাসী নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মেয়র এরিক এডামস। এদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে অক্ষম মেয়র প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রতি সহায়তার আবেদন জানিয়েও সাড়া পাননি। এ অবস্থায় সিটির বাজেটের ১৫% কর্তন করে সেই অর্থে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ২৫ বছরের অধিক সময় আগে থেকে প্রায় সোয়া কোটি অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন বেআইনীভাবে। এদের বড় একটি অংশ নিয়মিত ট্যাক্স প্রদানও করছেন। অনেকের স্ত্রী/স্বামী/সন্তান রয়েছেন সিটিজেন অথবা গ্রীণকার্ডধারী। তবুও তারা আইনের মারপ্যাচে বৈধতা পাচ্ছেন না। বিল ক্লিন্টন, বারাক ওবামা অঙ্গিকার করেও এদের বৈধতা প্রদানের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বাইডেন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার দিন থেকেই সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশসমূহ থেকে বানের পানির নাহাল লোকজন ঢুকে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে। বেআইনী এই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ন্যূনতম পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে তাদেরকে স্বাগত জানানো হচ্ছে বলে অধিকাংশ আমেরিকানের ধারণা। এরফলে সামাজিক অস্থিরতা বেড়েছে। চুরি-ডাকাতি কমানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:২৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar