Advertisement Placeholder

নিউইয়র্কে বাইডেনের অভ্যর্থনা-ডিনারে শেখ হাসিনা

বিশেষ সংবাদদাতা   |   মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ৩৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্কে বাইডেনের অভ্যর্থনা-ডিনারে শেখ হাসিনা

জাতিসংঘে বাংলাদেশের কার্যক্রম আলোকে প্রেস ব্রিফিং দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন। পাশে রাষ্ট্রদূতসহ শীর্ষ কূটনীতিকরা। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ফার্স্টলেডি জিল বাইডেনে রাষ্ট্রীয় ডিনার পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টা) নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে ‘দ্য মেট্রপলিটন মিউজিয়াম অব আর্ট’র মিলনায়তনে এই অভ্যর্থনা সমাবেশ হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন জানান, নয়াদিল্লী সফরকালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে কিছু কথা হয়েছে। তার জের হিসেবে বাইডেনের ডিনার পার্টিতে আরো কথা হবার সুযোগ রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। সে সূত্রে আমরা পরস্পরের সহযোগিতার দিগন্ত আরো প্রসারিত করতে চাই এবং মানবতার সার্বিক কল্যাণে যুক্তরাষ্ট্র তার সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেডরোস আধানম ঘেবরিসাসের সাথে ১৮ সেপ্টেম্বর সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে এক বৈঠক করেন। এসময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বাংলাদেশের সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নতকরণ এবং সবার জন্য সহজ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ক্লাইমেট ভালনারেবেল ফোরামের থিম্যাটিক অ্যাম্বাসেডর এবং অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার সম্পর্কিত জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপার্সন সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও সেখানে ছিলেন। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের চলতি ৭৮তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্কে এসেছেন। জাতিসংঘ সফরের প্রথম দিনের কর্মসূচি আলোকে সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর হোটেলে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমে প্রেস ব্রিফিং দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন। পাশে ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এম এ মুহিত, উপস্থায়ী প্রতিনিধি তৌফিক ইসলাম শাতিল, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল নাজমুল হুদা, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি নূরএলাহি মিনা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ইমদাদ চৌধুরী।
জাতিসংঘে এসডিজি সম্পর্কিত শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশের বক্তব্য উপস্থাপন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন। সে প্রসঙ্গে তিনি প্রেস ব্রিফিংকালে জানান, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য তথা এসডিজি অর্জনে উন্নত দেশগুলো প্রতি বছর এক বিলিয়ন ডলারের অনুদান প্রদানের অঙ্গিকার করলেও এখন পর্যন্ত একটি ডলারও দেয়নি। এরফলে অনেক দেশই কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম না হলেও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ড. মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশ সকলের অংশগ্রহণে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। দারিদ্র্য এবং ক্ষুধা নিরসনে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ফলাফলস্বরূপ বাংলাদেশের অতি দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালে ৫.৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০০৬ সালে ছিল ২৫.১ শতাংশ। কিন্তু এসডিজি বাস্তবায়নে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে বড় ধরণের ফারাক বিদ্যমান। ড. মোমেন বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, আমরা চাই, ‘দোহা প্রোগ্রাম অফ অ্যাকশন ফর এলডিসি’র অধীনে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। আমরা চাই নিয়ম ভত্তিক বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা। অর্থায়ন ইস্যুতে আমাদের বক্তব্য হলো, রেয়াতি ঋণ এবং জীবন রক্ষাকারী প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ন্যুনতম শর্তাদি আরোপ। সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাত যাতে এসডিজি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে পারে সেজন্য যথেষ্ট প্রণোদনা থাকা দরকার বলে আমরা মনে করি।
এদিন, বাংলাদেশ এবং হাঙ্গেরির মধ্যে তিনটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এগুলো হলো- অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি, ২০২৪-২০২৬ সালের জন্য স্টাইপেনডিয়াম হাঙ্গারিকাম প্রোগ্রামের কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক এবং একই সময়ের জন্য স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন এবং হাঙ্গেরির পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী এসব চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ দ্বিপাক্ষিক অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়। সে সময় রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে হাঙ্গেরির সহযোগিতা কামনা করি। এপ্রেক্ষিতে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারের উপর হাঙ্গেরি চাপ অব্যাহত রাখবে বলে হাঙ্গেরির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চাপ অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধীনে প্রদত্ত ইবিএ সুবিধা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যাতে না পায় সে বিষয়ে হাঙ্গেরি সরকারের চেষ্টা থাকবে বলেও তিনি জানান। বৈঠকে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে আলোচনা হয়। প্রস্তাবিত সফরে দ্বৈত কর পরিহার ,বিনিয়োগের নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি এবং পানি সহযোগিতা চুক্তি স্মারক স্বাক্ষর হবে বলে আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ঘানার পররাষ্ট্র মন্ত্রী শালি আয়োরকর বচিইয়ীর সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের সৌজন্য সাক্ষাত হয় এদিন। এসময় বাংলাদেশ এবং ঘানার মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারণের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন ড. মোমেন, বিশেষত, বাণিজ্য সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন এবং এতে দু’দেশই লাভবান হবে বলে একমত হয়েছেন উভয় মন্ত্রী-এ তথ্য জানিয়ে ড. মোমেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের একসাথে কাজ করা জরুরি বলে আমরা অভিমত ব্যক্ত করেছি এবং আগামী কপ সম্মেলনে আমাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছি।
ড. মোমেন আরো জানান, সোমবার সন্ধ্যায় তিনি জার্মানীর চ্যান্সেলরের আমন্ত্রণে আয়োজিত নৈশভোজে যোগদান করেন। সেটি ছিল জার্মানীর জাতিসংঘে সদস্য হবার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে। সামনের বছর বাংলাদেশেরও ৫০ বছর পূর্তি উৎসব হবে। তাই জার্মানির অনুষ্ঠানে গিয়ে কিছুটা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করলেন বলেও মন্তব্য করেন ড. মোমেন।
এদিকে, শেখ হাসিনাকে নাগরিক সম্বর্ধনার হোস্ট কে হবেন তা নিয়ে চরম উত্তেজনা চলছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অভিমত জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের নেত্রী যখন যে দেশেই যান, সেখানেই গণসম্বর্ধনা অথবা নাগরিক সংবর্ধনা হয়ে থাকে। নিউইয়র্কেও তা হবে। তবে সেখানে কে সভাপতিত্ব করেন আর কে সঞ্চালনা করবেন-সেটি একান্তভাবেই নেত্রীর নির্দেশের ওপর নির্ভর করছে। তাই, উত্তেজনার কোন অবকাশ থাকতে পারে না।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার