
প্রতিদিন ডেস্ক | মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট | ১১৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ভারতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এক শিখ নেতাকে হত্যার অভিযোগ’ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এ অভিযোগ তদন্তের প্রেক্ষিতে ভারতের এক শীর্ষ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে কানাডা। ট্রুডো সরকারের এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। সেইসঙ্গে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে নয়াদিল্লিতে থাকা কানাডার এক শীর্ষ কূটনীতিককে ৫ দিনের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর টরেন্টো স্টার, সিএনএন, বিবিসি।
গত ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার একটি শিখ মন্দিরের বাইরে অজ্ঞাত মুখোশধারীদের গুলিতে নিহত হন শিখ সম্প্রদায়ের নেতা হারদ্বীপ সিং নিজ্জার। হারদ্বীপ সিং ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক ছিলেন। তিনি ভারতে শিখদের আলাদা খালিস্তান রাষ্ট্রের দাবির আন্দোলনের অন্যতম বড় নেতাও ছিলেন।
এ হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে জাস্টিন ট্রুডো বলেন, হারদ্বীপের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতার ‘বিশ্বাসযোগ্য’ প্রমাণ পেয়েছে কানাডার গোয়েন্দারা।
তিনি আরও বলেন, সদ্য সমাপ্ত জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও এ বিষয়টি নিয়ে তিনি কথা বলেছেন।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার জেরে কানাডা থেকে ভারতের গোয়েন্দা প্রধানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে এটি আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং দু’দেশের মধ্যকার সবচেয়ে প্রাথমিক নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা হবে। এ কারণে আমরা একজন শীর্ষ ভারতীয় কূতনীতিককে বহিষ্কার করেছি।
১৮ সেপ্টেম্বর কানাডার আইনসভা হাউজ অব কমন্সে জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘কানাডার মাটিতে কানাডার নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো বিদেশি সরকারের সংশ্লিষ্টতা অগ্রহণযোগ্য এবং এটি আমাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।’
ভারত অবশ্য আগেই শিখ নেতা নিজ্জারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে, শিখ নেতা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের জেরে এক শীর্ষ কূটনীতিককে ৫ দিনের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে নয়াদিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কানাডায় নিযুক্ত ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং র’র প্রধানকে বহিষ্কারের কয়েক ঘণ্টা পরই নয়াদিল্লির তরফে ওই ঘোষণা আসে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নয়াদিল্লির এই সিদ্ধান্তে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো নিয়ে কানাডার কূটনীতিকদের হস্তক্ষেপ ও ভারত-বিরোধী কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততার ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটেছে’।



