
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট | ৮৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক মডেল তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডস্থ ব্রাউন ইউনিভার্সিটি বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করলো। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠির স্বাস্থ সেবায় অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখার জন্যে কয়েক মাস আগে জাতিসংঘও শেখ হাসিনার এই মডেলের স্বীকৃতি দেয়।
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ওয়ারেন অ্যালপার্ট মেডিকেল স্কুলের মেডিসিন অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের ডিন ডা. মুকেশ কে. জৈন ১৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থানস্থল ‘দি লোটে নিউইয়র্ক হোটেলে’ এসে প্রশংসাপত্রটি হস্তান্তর করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মো. নূর এলাহি মিনা জানান, “ব্রাউনের ওয়ারেন অ্যালপার্ট মেডিকেল স্কুল কমিউনিটি ক্লিনিক মডেলের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীকে তার স্বীকৃতির জন্য বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে।”
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে প্রদত্ত প্রশংসাপত্রে বলা হয়েছে, “জাতিসংঘ কর্তৃক ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ’-এর সা¤প্রতিক স্বীকৃতির জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন।” এতে আরো বলা হয়, “কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার একটি সফল মডেল: প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, নারীর ক্ষমতায়ন, এবং কমিউনিটি সম্পৃক্ততা উন্নয়নের মাধ্যমে সর্বজনীন স্বাস্থ্য পরিধির জন্য একটি অংশগ্রহণমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি।”
প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের সময় ড. জৈন জনস্বাস্থ্য ও গবেষণার ক্ষেত্রে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি সম্ভাব্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বাংলাদেশ-ব্রাউন বায়োমেডিকেল রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন ইনিশিয়েটিভ সম্পর্কে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এর প্রতি তাঁর সমর্থন ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে চিকিৎসা ও ক্লিনিক্যাল গবেষণার উন্নয়নের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “আমরা সবসময় গবেষণাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
ব্রাউন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের পরীক্ষা করছে। ড. জৈন আরও বলেন, তারা ক্লিনিক থেকে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী রোগীদের রেকর্ড রাখার জন্য বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিককে ইলেকট্রনিক ডেটা ম্যানেজমেন্ট চালু করতে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে পারে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটি গবেষণা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে একটি অংশীদারিত্ব গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এ লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনের ফাঁকে ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দফতরে স্পেন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল আয়োজিত ‘টুওয়ার্ডস এ ফেয়ার ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল আর্কিটেকচার’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে এই গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী ক্রেডিট রেটিং সিস্টেম পর্যালোচনা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, কারণ, এটি বর্তমানে অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের জন্য তহবিলের সুবিধা সীমিত করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে একমত যে বৈশ্বিক ক্রেডিট রেটিং সিস্টেম অবশ্যই পর্যালোচনা করা উচিত। বর্তমান রেটিং সিস্টেম অনেক নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশের জন্য তহবিলের সুবিধাকে আরও সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, তাদের ভোটাধিকার, কোটা এবং বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবিএস) এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (আইএফআইএস) প্রতিনিধিত্বের সীমা তাদের দর কষাকষির ক্ষমতাকেও ক্ষুন্ন করে।
তিনি বলেন, “আমরা প্রায়শই আন্তর্জাতিক পাবলিক ফাইন্যান্সগুলোকে ব্যয়বহুল এবং নাগালের বাইরে দেখতে পাই। ঋণের ঝামেলা এড়াতে আমরা উচ্চ-সুদের ঋণ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি। বাংলাদেশ কখনই এই ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয়নি এবং আমরা সেই রেকর্ড বজায় রাখার আশা করি।”
আন্তর্জাতিক ফাইনান্সিয়াল-আর্কিটেকচারের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং গেøাবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশের উন্নয়ন বিবরণী দেখায় যে, আমরা আমাদের অংশ করতে পারি। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার জন্য আমাদের প্রত্যাশার প্রতি সায় দেওয়ার সময় এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্বীকার করি যে আন্তর্জাতিক ফাইনান্সিয়াল-আর্কিটেকচারের জরুরী সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু সংস্কারের প্রকৃতি ও পরিধির বিষয়ে এগ্রিমেন্টের ক্ষেত্রে এখনো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আর এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ।’
মহাসচিবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।’ এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেন। প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, এমডিবি, আইএফআই এবং বেসরকারি ঋণদাতা সংস্থাগুলোকে তাদের অগ্রাধিকারগুলো পুনরায় সাজাতে হবে এবং এসডিজি বাস্তবায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবেলার জন্য অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত এবং তৃতীয় দফা সম্পর্কে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বল্প ব্যয়ে, রেয়াতি হারে তহবিলের পর্যাপ্ততা প্রয়োজন এবং পছন্দসই উচ্চমানের বিপুল পরিমাণে অনুদান এবং সমস্ত ঋণদানের উপকরণগুলোতে দুর্যোগের ধারা থাকতে হবে যাতে দুর্বল দেশগুলো সংকটকালের ধাক্কা সামলাতে পারে। চতুর্থ দফা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ঋণদাতাদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে ন্যায্য ও কার্যকর ঋণ হিসেবে ত্রাণ ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’ পঞ্চম এবং শেষ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটার পরিবর্তে এসডিআর ঋণের সীমা প্রয়োজন এবং সীমাবদ্ধতার ভিত্তিতে সহজ ঋণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তার সুষ্ঠু সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য সুনাম কুড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মহামারীর ঠিক আগে আমাদের অর্থনীতি ৮.১৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জলবায়ু সংকট আমাদের অর্থনীতিকে চাপের মধ্যে ফেলেছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশ আইএমএফের সঙ্গে ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, লেনদেনে ভারসাম্য এবং আমাদের উন্নয়ন ব্যয় বজায় রাখার চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দারিদ্র্যের হার ৪১.৯ শতাংশ থেকে ১৮.৭ শতাংশে এবং চরম দারিদ্র্যের মাত্রা ২৫.৫ শতাংশ থেকে ৫.৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছি।’ এই সভা আহ্বান করায় শেখ হাসিনা স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতিকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) থিমেটিক অ্যাম্বাসেডর সায়মা ওয়াজেদ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৮তম অধিবেশনের ফাঁকে ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহে, তিমুর-লেস্তের রাষ্ট্রপতি ড. হোসে রামোস হোর্তা ও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।
জাতিসংঘ সদর দফতরে দ্বিপাক্ষিক সভা কক্ষে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন ব্যস্ততা নিয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর এ কে আবদুল মোমেন বলেন, এতে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ওপর জোর দেন এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও অপ্রসারণে বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর প্রথম মেয়াদে সরকার গঠন করার পর বাংলাদেশ পরমাণু অপ্রসারণ চুক্তি ও ব্যাপক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা চুক্তি অনুমোদন করে। তিনি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং সাভার নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়ার জন্য আইএইএ-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশ ও সিয়েরা লিওনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সম্পর্কে মোমেন বলেন, সিয়েরা লিওনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জে ফ্রান্সিস কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি সিয়েরা লিওনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, বাংলাদেশ কৃষি খাতের পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে সিয়েরা লিওনকে সহায়তা করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, ‘আমি তাকে (সিয়েরা লিওন মন্ত্রীকে) বলেছি কৃষি ছাড়াও আমরা উৎপাদন, ফার্মাসিউটিক্যালস ও আইসিটি ক্ষেত্রেও প্রচুর অগ্রগতি করেছি। আমরা সিয়েরা লিওনকে শুধুমাত্র কৃষিতে নয়, আইসিটি সেক্টরেও সাহায্য করতে আগ্রহী।’ ডেভিড জে ফ্রান্সিস সিয়েরা লিওনের এসব সেক্টরের উন্নয়নে বাংলাদেশের সহায়তা চেয়েছেন। সিয়েরা লিওনের মন্ত্রী সে দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অধীনে কাজ করা বাংলাদেশী সেনাদের অবদানের জন্যও ধন্যবাদ জানান।
এ প্রসঙ্গে মোমেন বাংলাকে আফ্রিকার দেশটির রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সিয়েরা লিওনের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব রয়েছে। সিয়েরা লিওনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার দেশে বাংলাদেশ মিশন স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছেন।
মোমেন বলেন, এখন বাংলাদেশ আফ্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক স¤প্রসারণে কাজ করছে এবং সে অনুযায়ী অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওআইসি-এর রোহিঙ্গা কন্টাক্ট গ্রুপের একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন এবং রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে ওআইসি সদস্যদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহের আহ্বান জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আমাদের একার সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। তিনি আরো বলেন, আমরা মানবিক ভিত্তিতে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু অন্যদের (আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়)ও এখানে দায়িত্ব রয়েছে। যে দেশগুলো মানবিক ইস্যু ও মানবাধিকার নিয়ে সোচ্চার- তাদের এখানে অনেক বড় দায়িত্ব রয়েছে।’
ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ তাদেরকে প্রায়ই এই ইস্যু সমাধানের জন্য মিয়ানমারের উপর চাপ বজায় রাখতে বলে আসছে। তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই বলব যে- তাদের এই ইস্যুতে মিয়ানমারের উপর জোরালোভাবে চাপ অব্যাহত রাখা উচিৎ।’ মিয়ানমারকে বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার বলেছিল তারা রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাদের জন্য উপযুক্ত অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে। কিন্তু মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ আজ পর্যন্ত তাদের সে কথা রাখেনি। যদিও এই ইস্যুতে আলোচনা চলমান আছে।
মোমেন আরো বলেন, ‘আমি সব সময়ই আশাবাদী। আমি আশা করছি যে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আমাদের প্রচেষ্টা সফল হবে। তবে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারের উপর নির্ভর করছে।’ তিনি আরো বলেন, এখন বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা ও আন্তর্জাতিক সমুদ্র তীর কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে গভীর সমুদ্রের বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও যোগ দেন।
জাতিসংঘে ভাষণ শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংকালে পররাষ্টমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ভাষণ উপস্থাপন করবেন শুক্রবার দুপুরে। বরাবরের মত এবারও বিশ্বসভায় বাংলায় ভাষণ উপস্থাপন করবেন বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনা। একইদিন তিনি নিউইয়র্কে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথেও কথা বলতে পারেন।



