সোমবার ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট  

বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে সেমিনারে কথা বলছেন ড. এ কে এ মোমেন। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

নিউইয়র্কে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক মতবিনিময় সমাবেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন বলেন, গত ৪/৫ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কও দ্বিগুণ বেড়েছে। ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে মার্কিন বাণিজ্যের পরিধি। শুধু তাই নয়, মার্কিন বিনিয়োগও বেড়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের ২১% হচ্ছে আমেরিকান। আরো বহু আমেরিকান কোম্পানী এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করছেন। জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তিরক্ষা মিশন, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, নিরাপত্তা সেক্টরসহ সর্বত্র বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক চমৎকার। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন যে, তিনি এই সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করতে চান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সরকারের অঙ্গিকারের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে আরো বলেন, ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন অনুষ্ঠানের অঙ্গিকার করেছি আমরা। শেখ হাসিনার সরকার গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। আমাদের যেখানে ১০ বিলিয়ন ডলারের এক্সপোর্ট ছিল, এখন তা ৬০ বিলিয়নে উঠেছে। জিডিপি ছিল ৯০ বিলিয়ন, এখন তা ৪৬৫ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। এখন বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। অগ্রগতির এই ধারা অব্যাহত থাকলে খুব শীঘ্রই ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবো। ড. মোমেন বলেন, আমাদের দেশটি ১৭০ মিলিয়ন মানুষের। তাই আমাদের মার্কেটটি অনেক বড়। এজন্যে অনেকেরই আকর্ষণ বেড়েছে বাংলাদেশের প্রতি। আমাদের দেশের পারক্যাপিটা ইনকাম ৫ গুণ বেড়েছে। দারিদ্র অর্ধেকের নীচে নেমে এসেছে। আর এসবই সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের আন্তরিকতার কারণে। বলতে দ্বিধা নেই যে, শেখ হাসিনার প্রচন্ড ইচ্ছা রয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনায়। সে লক্ষ্যে উনি কাজ করছেন এব্ং আল্লাহ ও মেহেরবান যে, আমাদের কাজের সুফলও পাচ্ছি। আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন। আমরা পৃথিবীর মধ্যে মাছ ও সব্জি উৎপাদনে তৃতীয়। এমনকি চাল উৎপাদনেও চতুর্থ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, আবাদি জমির পরিমাণ কমলেও খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে চারগুণ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন উল্লেখ করেন, আমরা উন্নতি করছি বলে অনেকের গাত্রদাহ হয়েছে। কারণ আমরা এখন বিদেশি পয়সায় চলিনা। আগে আমাদের ৯৬% উন্নয়ন প্রকল্প বিদেশীদের টাকায় হতো। এখন আমরা দেড় পার্সেন্টের বেশি বিদেশি টাকার ওপর নির্ভরশীল প্রকল্প নেই না। এ অবস্থায় অনেকে ঈর্ষান্বিত। এছাড়া আমরা অবস্থান করছি বে অব বেঙ্গলের মধ্যিখানে। ভারত মহাসাগরের এই স্থান দিয়ে পৃথিবীর ৬৮% ব্যবসা-বাণিজ্য হয়। এবং এগুলো চীনারা করছে। আমেরিকা ও চীনের মধ্যে একটা বৈরিভাব আছে। অর্থাৎ কে বড়লোক হবে-সেই প্রতিযোগিতা। আমরা অর্থাৎ বাংলাদেশ চীনকে কনটেন্ট করতে চায়। অনেকে চায় আমরা তাদের লেজুড়বৃত্তি করি। কিন্তু বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনা তা চান না। কারণ, আমরা একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। আমরা একটা বিজয়ের জাতি। আর আমাদের জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অত্যন্ত সুন্দর একটি পররাষ্ট্র নীতি দিয়ে গেছেন-‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’। সে আলোকে আমাদের পররাষ্ট্র নীতি কারো পক্ষে নয়। আমরা ব্যালেন্স নিয়ে চলছি। কেউ কেউ চায়, আমরা এই ব্যালেন্সটা হারিয়ে তাদের লেজুড়বৃত্তি করি। আমরা সেটিতে রাজি নই। এজন তারা একটু অসন্তুষ্ট। আমরা উন্নতি করেছি যে, আমেরিকা আমাদেরকে যুদ্ধে লিপ্ত করে অস্ত্র বিক্রি করতে চায়। কিন্তু আমরা কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চাই না। এজন্যে তারা পাবলিক ইস্যু নিয়ে অর্থাৎ মানবাধিকার, সুশাসন, গণতন্ত্র ইত্যাদি ইস্যুতে আমাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে। আসলে এগুলো কিছুই নয়। সবটাই ভাওতাবাজি।
ড. মোমেন সচেতন প্রবাসীদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন মূলধারার সাথে সম্পর্ক জোরদার করার জন্যে। তাহলেই কংগ্রেসম্যান/সিনেটরদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হবে না।
ঊঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়ার সভাপতিত্বে এবং আশরাব আলী খান লিটনের সঞ্চালনায় এ সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন কবি ও কলামিস্ট ফকির ইলিয়াস, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১’র যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি ড. মশিউর মালেক এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট এম এ খালেক প্রমুখ।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:৩৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar