Advertisement Placeholder
জাতিসংঘ টাস্ক ফোর্সের গভীর উদ্বেগ

বর্ণ ও জাতিগত বিদ্বেষ রোধে অবিলম্বে মার্কিন পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা সংস্কারের পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ১৩৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বর্ণ ও জাতিগত বিদ্বেষ রোধে অবিলম্বে মার্কিন পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা সংস্কারের পরামর্শ

ইউএন মানবাধিকার কাউন্সিলের লগো।

আফ্রিকান-আমেরিকান তথা কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা এবং পুলিশ (এফবিআইসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি) বাহিনীকে জরুরিভাবে সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘ।

মানবাধিকার সুরক্ষায় যথাযথ পরামর্শ প্রদানের জন্যে জাতিসংঘের তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি টাস্ক ফোর্স বৃহস্পতিবার ২৮ সেপ্টেম্বর একথা বলেছে। আর এই টাস্ক ফোর্স গঠিত হয় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে বিশেষভাবে খ্যাতিসম্পন্ন এই তিন জনের একজনও জাতিসংঘের কর্মকর্তা নন অথবা কোন বেতন-ভাতাও নেননি। নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে সারা আমেরিকায় সরেজমিনে খোঁজ-খবর নেয়ার পর উদ্বেগজনক প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতিগত ন্যায় বিচার এবং সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে এমন একটি পরামর্শমূলত প্রতিবেদনের ভীষণ প্রয়োজন ছিল বলে টাস্ক ফোর্সের অন্যতম সদস্য ড. ট্র্যাসি কিসি মন্তব্য করেছেন। ড. ট্র্যাসি বলেন, ভিকটিমরা ন্যায় বিচার বা প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অনেকে জানিয়েছেন এবং বক্তব্যের সমর্থনে দালিলিক ও প্রাসঙ্গিক প্রমাণও মিলেছে-যা হৃদয় বিদারক এবং কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। জানা গেছে, সরেজমিন প্রদক্ষিণকালে অন্তত: ১৩৩ ব্যক্তির (ভিকটিম) সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন এই টাস্কফোর্স। পরিদর্শন করেছেন ৫টি ডিটেনশন সেন্টার। বৈঠক করেছেন ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, লসএঞ্জেলেস, আটলান্টা, শিকাগো, মিনিয়েপলিস প্রভৃতি স্থানের সুশীল সমাজ, প্রশাসন, পুলিশ কমিশনার, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাগণের সাথে।
সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এবং আদালতের তথ্য অনুযায়ী, শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় তিনগুণ বেশি কৃষ্ণাঙ্গ খুন হচ্ছেন পুলিশের নির্যাতনে। একই অবস্থা গ্রেফতার ও কারাবন্দিদের ক্ষেত্রে। ড. ট্র্যাসি উল্লেখ করেছেন, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, কৃষ্ণাঙ্গরা ন্যায় বিচার পাচ্ছেন খুব কম সময়েই এবং অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারও ৯০% ক্ষেত্রে বিচারের আওতায় আসছে না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির অবসান ব্যতিত আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধই রয়ে যাবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়েছে যে, দাসত্বের উত্তরাধিকার বিরাজ করছে। টাস্কফোর্সের সদস্যরা গভীর উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্টে বর্ণবাদ, দাসত্বের উত্তরাধিকার, দাস-বাণিজ্য এবং শতাধিক বছরের পুরনো বর্ণবাদ-যা দাসত্বের বিলুপ্তির পরও বিরাজ করছে। জাতিগত বিদ্বেষমূলক মনোভাব, পুলিশ কর্তৃক হত্যাসহ মানবাধিকার লংঘনের ঘটনাবলি অব্যাহত রয়েছে নানা আবরণে। অথচ, যুক্তরাষ্ট্র সারাবিশ্বের মানবাধিকার নিয়ে খবরদারি করছে অহর্নিশ।
টাস্কফোর্সের উপরোক্ত প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতি বছর মার্কিন পুলিশের হাতে কমপক্ষে এক হাজার জন খুন হচ্ছে। এরমধ্যে মাত্র ১% পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হবার ঘটনা ঘটছে। টাস্কফোর্সের বিজ্ঞ সদস্যরা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী যদি মার্কিন পুলিশের বল প্রয়োগের বিধিবিধান সংস্কার করা না হয় তাহলে পুলিশ কর্তৃক নির্বিচার হত্যার ঘটনা কখনোই থামানো যাবে না।
টাস্কফোর্সের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক জোয়ান মেনডেজ এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা খারাপ আপেল তত্ত্বকে প্রত্যাখ্যান করি। কিন্তু স্বল্পসংখ্যক পুলিশ অফিসারের আপত্তিকর আচরণ অন্য সকলেরই প্রতিনিধিত্ব করছে। আর এটি হচ্ছে বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণ অব্যাহত থাকার মূল কারণ। প্রফেসর মেনডেজ বলেছেন, পুলিশ এবং বিচার বিভাগের এহেন আচরণে গোটা সমাজব্যবস্থারই ইঙ্গিত দৃশ্যমান হচ্ছে। তাই অবিলম্বে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি ১৮ হাজার বাহিনীর প্রতিটির সংস্কার সাধনের ৩০টি সুপারিশ করা হয়েছে টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে। স্থানীয় এবং ফেডারেল প্রশাসনের প্রতিও একই আহবান রয়েছে। টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান বিচারপতি ইয়োভনো মোকগরো বলেন, আমাদের সুপারিশসমুহ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশা করছি। এবং তার দরকার মানবিকতার স্বার্থেই।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার