
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৩ | প্রিন্ট | ১১১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

‘হাছন জানের রাজা’র বিশেষ একটি দৃশ্য। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
বাংলা লোক সংস্কৃতির এক অভূতপূর্ব ধ্রুবতারা মরমী সাধক হাসন রাজার জীবনকাহিনী আলোকে নাট্যকার শাকুর মজিদ রচিত ‘হাছন জানের রাজা’ ১ অক্টোবর নিউইয়র্কে মঞ্চস্থ হলো প্রবাসীদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসার মধ্যদিয়ে। জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্ট সেন্টারে শেখ মাওলা মিলনের পরিচালনা/নির্দেশনায় নাটকটি পরিবেশন করে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ‘প্রগতিশীল ও লোকজ ধারার একনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র’ হিসেবে খ্যাতি অর্জনকারি ‘একতারা’। মঞ্চায়নে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানকারি বিএনপি নেতা ও মূলধারার রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বাংলা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে হাসন রাজার যে অবদান তা যতদিন বাংলাদেশ টিকে থাকবে, বাঙালির পদচারণা থাকবে, ততদিন তা টিকে থাকবে। সে কারণে আজকের এই শুভক্ষণে আমি মরমী সাধক হাসন রাজাকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধা আর পরম মমতায়। এমন এক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ‘একতারা’র এ আয়োজনে যারা নিরলসভাবে শ্রম দিয়েছেন, অভিনয় করছেন, তাদেরকেও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
‘হাছন জানের রাজা’কে উপস্থিত দর্শকের হৃদয়ের গভীরে নিয়ে যেতে অংশগ্রহণকারি সকলেই বিশেষ এক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কাহিনীর সাথে নৃত্য-গীত-সংলাপ একাকার হওয়ায় অভিনেতা-অভিনেত্রী-নৃত্য শিল্পীরাও পরম এক মমত্ববোধে আবিষ্ট ছিলেন। গীতি-নৃত্য-নাট্যটিতে অভিনয় করেছেন শামীম চৌধুরী, আরিফুর রহমান স্বপন, মো. রহমতুল্লাহ, মীর দোজা, তিলক কুমার কর, হাসনাত সানী, আবুবকর সরকার, ছোটন বড়ু–য়া, আফরিন ফেন্সী, আনিকা বড়ু–য়া, শর্মিষ্ঠা চৌধুরী, ফাহমিদা হোসাইন, মোহাম্মদ আনোয়ার জামান, আহনাফুর রহমান, প্রজ্ঞা আহমেদ, সম্পদ পেরেরা, মুক্তা মেবেল রোজারিয়ো। হাছন রাজার চরিত্রে অভিনয় করেন শেখ মাওলা মিলন ।
নৃত্যে ছিলেন পিটার, মেহেক, মেঘা, ঈশাল, সুকন্যা, এ্যামিলি। উল্লেখ্য, ‘হাছন জানের রাজা’র প্রথম প্রদর্শনী হয় জুনে ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ভার্জিনিয়ায়। সে জন্যে রিহার্সাল করতে হয়েছে টানা ৬ মাস। প্রবাসের কর্মব্যস্ততা সত্বেও রিহার্সালের জন্যে সময় বেড় করার মধ্যেই বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত ধারাকে বহুজাতিক এ সমাজে জাগ্রত রাখার প্রতি ব্ঙাালিদের গভীর মমত্ববোধের প্রকাশ ঘটেছে বলে সুধীজন মন্তব্য করেছেন। নিউইয়র্কে নাট্যপ্রেমী-দর্শকের মধ্যে ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, কন্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসান, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. ফাইজুল ইসলাম, কন্ঠশিল্পী সেলিম চৌধুরী, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আতাউর রহমান সেলিম, শো-টাইম মিউজিকের কর্ণধার আলমগীর খান আলম, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ, খ্যাতনামা অভিনেতা সউদ চৌধুরী, কলামিস্ট শামসুদ্দিন আজাদ প্রমুখ।
কোরিওগ্রাফি ও নৃত্য পরিচালনা করেন রোজমেরি মিতু রিবেইরো। সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন কালাচাঁদ সরকার। বাশী বাজিয়েছেন মোহাম্মদ মজিদ। তবলায় আশীষ বড়ু–য়া, মন্দিরায় সরোজ বড়–য়া এবং পার্কাশনে সুকুমার পিউরিফিকেশন । কোরাস কন্ঠে ছিলেন রুমানা সুমী চৌধুরী, শিখা আহমেদ, আতিয়া মাহজাবিন, জেসমীন আবেদীন এবং সাবরিনা রহমান।



