সোমবার ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গাজায় ফসফরাস বোমা হামলার অভিযোগ, লাখ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত

বিশ্ব ডেস্ক   |   শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৩ | প্রিন্ট  

গাজায় ফসফরাস বোমা হামলার অভিযোগ, লাখ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত

গাজায় হামাসের স্থাপনা লক্ষ্য করে এপর্যন্ত চার হাজার টন ওজনের প্রায় ছয় হাজার বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির বিমানবাহিনী বলেছে, বিমান হামলায় মোট ৩৬ হাজারের বেশি স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির পার্লামেন্টে যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বলেছেন, কঠিন সময় আসছে। জাতিসংঘ বলেছে, গাজায় শোচনীয় অবস্থা চলছে কারণ খাবার এবং পানি দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া প্রায় ৫০ হাজার গর্ভবতী নারী প্রয়োজনীয় কোনো সেবা গ্রহণ করতে পারছে না।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী গাজায় নিহত হয়েছে।

ইসরায়েল প্রতিশোধ হিসেবে বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে গাজায় এ পর্যন্ত ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে। আরও তিন লাখ ৩৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। শনিবার ইসরায়েলে হামাসের আক্রমণের পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আরও ১৫০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের তথ্যমন্ত্রী গালিত ডিস্টেল আটবারিয়ান পদত্যাগ করে বলেছেন, তার মন্ত্রণালয়ের অর্থ অন্য কোনো খাতে যাতে ব্যবহার করা হয়।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজা ও লেবাননে বিতর্কিত সাদা ফসফরাস বোমা ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে।

অতি দাহ্য এই রাসায়নিক অনেক সময় সামরিক বাহিনী তাদের সীমান্ত নির্ধারণের জন্য ব্যবহার করে। কিন্তু এটা মানুষকে মারাত্মকভাবে পুড়িয়ে দিতে পারে। আর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে বিশেষ করে গাজার মতো এতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যবহার করা হলে এটি প্রচণ্ড মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, বর্তমানে গাজায় সাদা ফসফরাসযুক্ত অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে তারা সচেতন নন। তবে লেবাননের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এইচআরডাব্লিউ বলছে, তারা গাজা এবং লেবাননে ধারণকৃত ভিডিও দেখে তা বিশ্লেষণ করে সাদা ফসফরাসযুক্ত আর্টিলারি শেল বিস্ফোরিত হতে দেখেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি এর তোলা ছবিতেও এর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ছবিতে উঠে এসেছে, গাজায় বিস্ফোরিত হওয়ার সময় সাদা রেখা তৈরি হয়েছে।

সাদা ফসফরাস বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসলে তা ঘন সাদা ধোঁয়া তৈরি করে।

এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি বলে, গাজায় অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাসের ব্যবহার বেসামরিক নাগরিকদের ঝুঁকি অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয় এবং তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন যেখানে বেসমারিক নাগরিকদের বিনা কারণে ঝুঁকি বাড়ানোর বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সাদা ফসফরাসের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় হয়নি কারণ এর বৈধ ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু মানুষের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণে এর ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ২০০৮-০৯ সালে গাজায় সহিংসতার সময় ধোঁয়ার স্ক্রিন হিসেবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছিল। সেসময় অনেক মানবাধিকার সংস্থা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলেছিল। সামরিক বাহিনী ২০১৩ সালে বলেছিলে, ছদ্মবেশের জন্য এই রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধ করে দেবে তারা।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:৫৭ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar