Advertisement Placeholder

নিউইয়র্কে প্রতিবাদী কাব্য-সমাবেশ : আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কবিতা হোক শব্দবাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ২৩৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্কে প্রতিবাদী কাব্য-সমাবেশ : আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কবিতা হোক শব্দবাণ

গাজায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আহবান জানান কবি ফকির ইলিয়াস। ছবি- বাংলাদেশ প্রতিদিন।

বিশ্বের সকল আগ্রাসন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কবিদের প্রতিবাদী শব্দাবলি উচ্চারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। সকল মানবিক বিপর্যয় রুখে সত্যের পক্ষেই এগোতে হবে মানুষকে। নিউইয়র্কে ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় কবিতাপাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠানে এমন অভিমতই উচ্চারিত হয় কবি ও আলোচকদের মুখে।
উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কবি ও লেখকদের এই আয়োজনে স্মরণ করা হয় সদ্য প্রয়াত কবি আসাদ চৌধুরী ও জীবনানন্দ দাশকে। কবি কামরুজ্জামান বাচ্চুর উপস্থাপনায় মঞ্চে অতিথি হিসেবে উপবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পজন ও অভিনেতা আহমেদ শরীফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক ড: মহসিন আলী, কবি ফকির ইলিয়াস ও কবি কাজী আতীক। শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মামুনুর রশীদ মামুন। আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘সাহিত্য একাডেমি’ নিউইয়র্কের পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, একজন কবি কিংবা লেখকের সকল লেখাই কিন্তু আমরা পড়ি না। পড়ার সুযোগও হয় না। কিছু লেখা আছে, যা ওই লেখককে কালে কালান্তরে বাঁচিয়ে রাখে। কবি আসাদ চৌধুরী কিংবা কবি জীবনান্দ দাশ তাঁদের কালজয়ী কবিতার মাঝেই বেঁচে থাকবেন। তিনি বলেন, একজন লেখককে পথ তৈরি করে যেতে হয়। মানুষকে এগিয়ে নিতে লেখকের দায়িত্ব অপরিসীম।
অনুষ্ঠানে কবি আসাদ চৌধুরীর কবিতা আবৃত্তি করেন আহমেদ শরীফ ও সেলিম ইব্রাহিম। ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারবিশের কবিতা ‘পরিচয়পত্র’ আবৃত্তি করেন, কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি।
অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, ড: মহসিন আলী, সমাজসেবক মিয়া জাকির, সাইদুর রহমান, কাজী রবিউজ্জামান, শফিউল আজম, শিল্পী মেহেরুন আহমেদ, হাকিকুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।
কবিতা পাঠে অংশ নেন আবু তাহের চৌধুরী, সুধাংশু মন্ডল, ও মাহবুবুর রহমান।
আলোচনা ও কবিতাপাঠ করেন কবি কাজী আতীক। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনে যে গণহত্যা চলছে- এর প্রতিবাদ করা সকলের দায়িত্ব। আমরা যদি খামোশ থাকি তাহলে সময়ের কাছে দায়ী থেকে যাবো।
সর্বশেষ বক্তা কবি ফকির ইলিয়াস বলেন, আমরা একটি চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। গাজায় একটি হাসপাতালে বোমা হামলা করা হয়েছে। মিসরের সীমান্তে ত্রাণবাহী
ট্রাক পৌছুঁতে বাধা দেয়া হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতির সময় গাজায় চরম আগ্রাসন দেখিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এটা সুস্পষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ। সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। আমাদের এর প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে হবে।
ফকির ইলিয়াস আসাদ চৌধুরীর ‘বারবারা বিডলারকে’ কবিতাটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনাকালে বলেন, ভিয়েতনামে মার্কিনি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফ্লোরিডার একজন কিশোরী স্কুলছাত্রী ১৯৬৭ সালে একটি কবিতা লেখেন। একটি চার্চের ম্যাগাজিনে কবিতাটি ছাপা হওয়ার পর, মার্কিন প্রশাসন কবিতা ও ম্যাগাজিনটি নিষিদ্ধ করে। বারবারা’র ওই কবিতাটি পড়ে ভিয়েতনামের বিখ্যাত কবি হুই কান ভিয়েতনামী ভাষায় আরেকটি কবিতা লেখেন। কবি নির্মলেন্দু গুণের ভাষ্যমতে কবি আসাদ চৌধুরীর ‘বারবারা বিডলারকে’ কবিতাটি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে লিখিত।
এটি ওই সময়ে আবদুল গাফফার চৌধুরী সম্পাদিত , মুক্তিযুদ্ধেও মুখপত্র ‘জয়বাংলা’-তে ছাপা হয় । ১৯৮৩ সালে আসাদ চৌধুরী তাঁর ‘ যে পারে পারুক’ কাব্যগ্রন্থে কবিতাটি
সংকলিত করেন। কবি ফকির ইলিয়াস বলেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এটি একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ আগ্রাসন বিরোধী কবিতা। তিনি বলেন, যার যার অবস্থান থেকে আমরা প্রতিবাদ করবো- এটাই হোক আমাদের প্রত্যয়।
অনুষ্ঠানে জীবনানন্দ দাশ ও আসাদ চৌধুরীর কবিতা আবৃত্তি করেন কবি কামরুজ্জামান বাচ্চু।
অনুষ্ঠানের শেষে সমবেত কন্ঠে রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন মেহেরুন আহমেদ ও জয়গুন নেসা।
এ উপলক্ষে কবি কামরুজ্জামান বাচ্চুর সম্পাদনায় ‘অক্ষর’ নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার