Advertisement Placeholder

যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্বেও জাতিসংঘে গাজায় যুদ্ধ বিরতির রেজ্যুলেশন পাস

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   শনিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ৭৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্বেও জাতিসংঘে গাজায় যুদ্ধ বিরতির রেজ্যুলেশন পাস

অবিলম্বে গাজায় ‘মানবিক যুদ্ধ বিরতি’র উদাত্ত আহবান জানিয়ে শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি রেজ্যুলেশন পাস হয়েছে। ইসরায়েলের ভারী বোমা বর্ষণে ক্ষত-বিক্ষত ফিলিস্তিনি ছিটমহলে আটকা পড়া নাগরিকদের জন্যে খাদ্য-ওষুধসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রি নিরবিচ্ছিন্নভাবে সরবরাহের জন্যে যুদ্ধ বিরতি বিশেষ প্রয়োজন বলে রেজ্যুলেশনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ ১৪টি দেশ প্রস্তাবনাটির বিপক্ষে থাকলেও ১২০টি দেশ রেজ্যুলেশনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ভোট দানে বিরত ছিল ৪৫ দেশ।

রেজ্যুলেশনটি কার্যকর করতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বাধ্যবাধ্যকতা না থাকলেও এর একটি রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। এতে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন-উভয় অংশের বেসামরিক নাগরিকের ওপর দমন-পীড়ন, সহিংসতার সমস্ত কর্মকান্ডের সমালোচনা ও নিন্দা করা হয়েছে। যার মধ্যে সমস্ত সন্ত্রাস এবং নির্বিচার আক্রমণের পাশাপাশি উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং ধ্বংসযজ্ঞের প্রসঙ্গও রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলের ভেতরে ঢুকে শতশত ইসরায়েলিকে হত্যা এবং আমেরিকানসহ দুই শতাধিক বেসামরিক নাগরিককে জিম্মি করার পর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েলিরা গাজায় আক্রমণ চালাচ্ছে। এমন একটি পরিস্থিতির পর এই প্রথম ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘জাতিসংঘ একটি রেজ্যুলেশন পাশ করলো মানবেতর পরিস্থিতিতে নিপতিত লোকজনের জন্যে। রেজ্যুলেশনটি পাশের পরই জাতিসংঘে ইসরায়েলের স্থায়ী প্রতিনিধি গিলাদ এরদান জাতিসংঘের সমালোচনা করে ক্ষুব্ধচিত্তে বলেছেন, এমন একটি রেজ্যুলেশন পাশ হলো যারমধ্যে বিন্দুমাত্র ন্যায্যতা নেই। এরফলে শুক্রবার দিনটিকে চিহ্নিত করা হলো কুখ্যাত একটি অভিদায়। জাতিসংঘ আরো নৃশংসতাকেই উস্কে দেয়ার পন্থা অবলম্বন করলো। রাষ্ট্রদূত গিলাদ আরো উল্লেখ করেছেন,ত আন্তর্জাতিক সংস্থাটির এমন মনোভাবে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার আর কোন অধিকার থাকলো না।

রেজ্যুলেশনটি উত্থাপনের কিছুক্ষণ আগে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি ত্রাণ সংস্থার প্রধান কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ্পে লাজারিনি একটি মানবিক যুদ্ধবিরতির আহবান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করেছিলেন যে, গাজা এখন ভয়ংকর স্বাস্থ্যঝুকির দ্বারপ্রান্তে, কারণ রাস্তাসমুহ ময়লা-আবর্জনায় উপচে পড়ছে। পয়:প্রণালী নিস্কাষনের ন্যূনতম সুযোগ নেই গাজায়। বোমা বর্ষণের পাশাপাশি যেখানেই মানুষের চিহ্ন রয়েছে সেখানেই হামলার ঘটনা ঘটছে।

ফিলিপ্পে লাজারিনি আরো উল্লেখ করেন, আমরা এখানে কথা বলছি, ওদিকে গাজায় বেসামরিক লোকজন মারা যাচ্ছে। তারা শুধু বোমা এবং হামলায় মারা যাচ্ছে। শীঘ্রই যদি গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা না হয় তাহলে বহু মানুষের প্রাণ ঝরবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৩৫ সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে কানাডা আরেকটি রেজ্যুলেশন উত্থাপন করেছিল কিন্তু সেটি দুই তৃতীয়াংশ ভোটের অভাবে পাস হয়নি। সেখানে গাজা পরিস্থিতির জন্যে একতরফাভাবে হামাসকে দায়ী করা হয়েছিল। অপরদিকে অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধ বিরতির রেজ্যুলেশনটি ৪৫ সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে উত্থাপন করেছিল জর্দান।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার