Advertisement Placeholder

স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির গগনবিদারি স্লোগান

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ২০৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির গগনবিদারি স্লোগান

‘শেখ হাসিনার সরকার-বারবার দরকার’ স্লোগানে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে ৩০ অক্টোবর সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ব্যানারে শতশত প্রবাসী পরস্পর-বিরোধী স্লোগানে গোটা এলাকা প্রকম্পিত করে। রাস্তার মাঝখানে শতাধিক দাঙ্গা পুলিশ অবস্থায় নেয়ায় কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব না হলেও অশ্রাব্য ভাষায় পরস্পরকে আক্রমণাত্মক স্লোগানে অনেকে বিব্রত। ৩/৪ ঘন্টাব্যাপী সমাবেশ চলার পর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ফজলুর রহমান এবং সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনী ব্লিঙ্কেন সমীপে প্রেরণ করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থি কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। আন্দোলনের নামে তারা নাশকতা তৈরী করে বাংলাদেশকে আবারো জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত করার নীল নক্শা অনুযায়ী ২৮ অক্টোবর অরাজক পরিস্থিতি তৈরী করতে চেয়েছিল। সরকার জনস্বার্থে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করায় ওরা কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে হত্যা এবং বাস ও হাসপাতালে আগুন দেয়। বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে লুটতরাজের পাশাপাশি আগুন দিয়ে ক্ষতি করেছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার-যা সামনের নির্বাচনের জন্যে জরুরি হয়ে পড়েছে। এই স্মারকলিপি প্রেরণের পর নেতৃবৃন্দ স্লোগান ধরেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার-বারবার দরকার’, ‘বাংলাদেশ ধন্য-শেখ হাসিনার জন্যে’, ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ ইত্যাদি। আওয়ামী লীগ ছাড়াও যুবলীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও সরব ছিলেন। নিউইয়র্ক মহানগর, স্টেট, নিউজার্সি, ফ্লোরিডা, ওয়াশিংটন ডিসি, ম্যারিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, মিশিগান, পেনসিলভেনিয়া স্টেটের নেতা-কর্মীরাও এসেছিলেন বাস ভরে।

State dept Rally-2

কেয়ারটেকার সরকারের দাবি আদায়ে বাইডেন প্রশাসনের সহায়তা চেয়ে প্রেরিত স্মারকলিপি পাঠ করছেন বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফ সম্রাট। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

পুলিশের উপস্থিতিতে রাস্তার অপর পাশে বিএনপি, যুবদল, জাসাস, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরাও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে দলীয় স্লোগানে মেতে ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিটি ছিল তাদের স্লোগানের কেন্দবিন্দু। এক পর্যায়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে প্রেরিত স্মারকলিপি সমবেত সকলের সামনে পাঠ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট। এ সময় তার পাশে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অপর সদস্য গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান, মিল্টন ভূইয়া, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির আহবায়ক মাওলানা আতিকুর রহমান ও সদস্য সচিব সাঈদুর রহমান, নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা প্রমুখ। এ সময় স্লোগানে নেতৃত্ব দেন যুবদল নেতা জাকিও এইচ চৌধুরী, জাসাসের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম ফারুক শাহীন, ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির সভাপতি হাফিজ খান সোহায়েল এবং সেক্রেটারি জাকির হোসেন প্রমুখ।
আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে বিকেল ৪টার পর। তবে ৫টা পর্যন্ত দাঙ্গা পুলিশের উপস্থিতি ছিল সমগ্র এলাকায়। অর্থাৎ এক ধরনের উত্তেজনার মধ্যেই ৪/৫ ঘন্টার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল ৫টার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নানা স্লোগানসহ পায়ে হেঁটে হোয়াইট হাউসের সামনে যান। সেখানে তারা প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে উঠা বাংলাদেশের প্রতি তার সহযোগিতার দিগন্ত প্রসারিত করার জন্যে। নেতৃবৃন্দ বাইডেন প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার অঙ্গিকারের পরিপূরক ভূমিকায় অবতীর্ণ হবার জন্যে। দিনভর কর্মসচিকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্যে সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ে এখন থেকেই কাজ শুরুর অনুরোধ জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা এম ফজলুর রহমান ও নিজাম চৌধুরী।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার