
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট | ১২১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স এলায়েন্স।
টানা ৮ বছরের আইনী লড়াই এবং রাজপথে সরব থাকার সুফল পাচ্ছে নিউইয়র্ক সিটির বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিসহ ৮০ হাজারের অধিক উবার এবং লিফট ড্রাইভাররা। এ দুটি কোম্পানী কর্তৃক ২০১৫ সাল থেকে কঠোর পরিশ্রমী ড্রাইভারদের উপার্জিত আয়ের বড় একটি অংশ তছরুপ করা হয়েছে। সেই চুরিকৃত অর্থ ৩২৮ মিলিয়ন ডলার সংশ্লিষ্ট ড্রাইভারদের ফিরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি ন্যূনতম ঘন্টায় ২৬ ডলার করে প্রদানের নিশ্চয়তা এবং অসুস্থকালিন ভাতা প্রদানেও সম্মত হয়েছে। তবে ‘উবার ইটস ডেলিভারি’ ওয়ার্কার্সরা এ সুযোগ পাবেন না।
জানা গেছে, এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স এলায়েন্স ২০১৭ সালে। এই মামলার ১২দিনের মাথায়ই উবার কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুল স্বীকার করে চুরিকৃত ৯৬ মিলিয়ন ডলার সংশ্লিষ্ট ড্রাইভারদের ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু সেটিও প্রকৃত পাওনার পরিপূরক ছিল না এবং ঐ সমঝোতার পরও প্রযুক্তির সুবাদে ড্রাইভারের আয়কৃত অর্থ থেকে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত কেটে নেয়া অব্যাহত রেখেছে। এজন্যে আইনী লড়াই অব্যাহত রেখেছিল ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স এলায়েন্স। এই মামলার পর নিউইয়র্ক স্টেটের এটর্নী জেনারেল লেটিশা জেমস স্বউদ্যোগে তদন্ত শুরু করেছিলেন। তারই সুফল হিসেবে ১ নভেম্বর উবার এবং লিফট কোম্পানী চুরিকৃত ৩২৫ মিলিয়ন ডলার সংশ্লিষ্ট ড্রাইভারদের একাউন্টে ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানান ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স এলায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ভৈরবী দেশাই। দেশাই বলেছেন, কঠোর পরিশ্রমী ড্রাইভারের অধিকার প্রশ্নে বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না। দীর্ঘ ৮ বছরের আইনী লড়াইয়ের সুফল এলো। ন্যায় বিচার পেলেন আমাদের সদস্যরা। কঠোর পরিশ্রমী ড্রাইভারের পকেট কেটে উবার এবং লিফট বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক সেজেছে। ভৈরবী উল্লেখ করেন, এ রায়ে আমরা আনন্দিত। এ এক ঐতিহাাসিক বিজয়। কারণ, উন্নত জীবনের অভিপ্রায়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এই অভিবাসীরা নিজ নিজ পেশার প্রতি অত্যন্ত যত্নবান। এমন সহজ-সরল মানুষদের সাথেই প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল উবার এবং লিফট। বাংলাদেশি উবার ড্রাইভার ইশতিয়াক আহমেদ উবার কর্তৃপক্ষের প্রতারণা প্রসঙ্গে বলেন, ২০১১ সাল থেকে ড্রাইভিং করছি ৪ সন্তানের পরিবার নিয়ে। এ পেশাকে উপযোগী হিসেবে বেছে নিয়েছি। প্রথম দিকে আয়-রোজগার ভালোই ছিল। উবার তার কমিশন বাবদ খুবই স্বল্প পরিমাণের অর্থ কেটে রাখতো। ক’বছর পরই নানা অজুহাতে উবার অনেক বেশী অর্থ কেটে নেয়া শুরু করে। এক পর্যায়ে দেখতে পাই যে, আমি শুধু শ্রম দিচ্ছি, গাড়ির জ্বালানী, মেরামত খরচ বহন করছি। গাড়ির মালিকও আমি। অথচ দিন শেষে হিসাব করে দেখি আমার আয়কৃত অর্থ থেকে প্রায় অর্ধেকই নিয়ে নিচ্ছে উবার। এজন্যে আমাদের সংগঠন ‘নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স এলায়েন্স’র শরনাপন্ন হয়েছি মামলার জন্যে। আজ আমি কৃতজ্ঞ এলায়েন্সের প্রতি। ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐতিহ্য রয়েছে এই সংগঠনের।



