
বিশেষ সংবাদদাতা | মঙ্গলবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট | ১২২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেজ । পাশে তার মুখপাত্র স্টিফ্যান ড্যুজারিক। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে ৬ নভেম্বর দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফ্যান ড্যুজারিক বললেন, নির্বাচনের কমিশনের সংলাপে কেন একটি রাজনৈতিক দল (বিএনপির নামোল্লেখ না করে) অংশগ্রহণ করেনি, তার কারণ আমি বলতে পারবো না। সে বাপারে আমার কাছে বিস্তারিত কোন তথ্য নেই। তবে চলমান সংলাপ প্রসঙ্গে আমি আপনাকে বলতে চাই যে, বাংলাদেশে সংঘাত মুক্ত পরিবেশে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনের ব্যাপারে আমরা খুবই আশাবাদি। একইসাথে আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ জানিয়েছি ব্যাপকসংখ্যক মানুষকে গ্রেফতারের সংবাদে।
প্রশ্নটি ছিল, বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি পূরণে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বিএনপি এই সংলাপে অংশগ্রহণ করেনি। অথচ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে তারা আন্দোলনের নামে হরতালের পর অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে। পুলিশ অফিসারসহ বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও। পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে যাত্রীবাহি বাসসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের কোন পর্যবেক্ষণ আছে কী?
দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার আক্রমণে শিশু-নারী-হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীসহ অসহায় মানুষের মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। ইসরায়েলের এহেন হামলা বন্ধে শুধু কথা আর সমালোচনার ঝড় বইছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। অনেকেই এ ধরনের আলোচনার প্রক্রিয়াকে সময় ক্ষেপনের অজুহাত বলে মন্তব্য করছেন। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত করতে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা জাতিসংঘের আছে কী। এর জবাবে মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, জাতিসংঘের সকল সংস্থা আন্তরিক অর্থেই সরব রয়েছে। আমি মনে করছি এটা নির্ভর করছে জাতিসংঘের কোন অংশের ভূমিকার ব্যাপারে আপনি জানতে চাচ্ছেন। আমি মনে করছি এই সংস্থার অনেক সহযোগীই সম্ভবত: অনেক বেশি আন্তরিকতার সাথে কাজ করছেন। এই অংশের (সদর দফতর) ব্যাপারে আমি বলতে পারি, মহাসচিব খুবই সরব রয়েছেন সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে যা কিছুক্ষণ আগেই বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।
(.Question: Thank you. This is Lovlu Ansar from Bangladesh Pratidin. I have two questions. One for Bangladesh. The Election Commission is in dialogue with the main political parties to meet the demands of the fair elections in Bangladesh. But main opposition, BNP, did not attend the dialogue held on 4 November. BNP has given a blockade programme after the [inaudible] in the name of [inaudible]. Several people, including a police officer, already died and after the [inaudible], the name of movement…
Spokesman: Sorry. Sorry. I’m sorry. What is the question?
Question: Yeah. They did not participate Election Commission’s dialogue, but they are demanding for fair election.
Spokesman: Well, I can’t speak to why, I mean, I don’t have the details. I can’t speak to why one party did not attend the dialogue. What I can tell you is that we very much hope for a fair and free elections in Bangladesh, free of violence. And as we said, we’ve expressed our concern about the large number of people who’ve been arrested. Your second question.
Question: Yeah. That’s on the Middle East. Talks have to stop Israeli attacks on Gaza. Many are commenting on this process of discussion as an excuse of waste of time. Does the United Nations have any other plans to take effective action to calm the overall situation in the Middle East?
Spokesman: Well, I mean, it depends which part of the United Nations you’re speaking of. I think there are parts of this organization that could probably be doing more. For his part, the Secretary-General is very focused on continuing to advocate everything that he’s spoken about at length earlier today. I’m going to go to Iftikhar and then I’ll come back to the room.)
প্রেস ব্রিফিংয়ের শুরুতে মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেজ মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির আলোকে একটি বিবৃতি উপস্থাপন করেন। গাজার পরিস্থিতিকে অবিশ্বাস্যরকমের নাজুক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। মানবতাবোধ জাগ্রত হবে সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে এ আশাপোষণ করেছেন মহাসচিব। গভীর উদ্বেগের সাথে মহাসচিব বলেন, শিশুদের কবরস্থান হয়ে উঠছে গাজা। প্রতিটি ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘মানবিক যুদ্ধবিরতি’ অনেক বেশি জরুরি হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। ইসরায়েলের বিমান হামলা বাড়তে থাকায় গাজা শিশুদের জন্য কবরস্থান হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, প্রতিদিনই গাজায় শত শত ছেলে-মেয়ে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন যে লঙ্ঘন হচ্ছে এতেই তা স্পষ্ট। গুতেরেস বলেন, ইসরায়েল-হামাসের এই লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার বিষয়টি “সর্বাগ্রে প্রাধান্য পেতে হবে।”
প্রতিটি ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘মানবিক যুদ্ধবিরতি’ অনেক বেশি জরুরি হয়ে উঠছে বলে উল্লেখ করেন মহাসচিব এবং সংঘাত ব্যাপক এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মহাসচিব বলেছেন, “আমরা এরই মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা বেড়ে যেতে দেখতে পাচ্ছি লেবানন এবং সিরিয়া থেকে, ইরাক এবং ইয়েমেনে।”
ইহুদি-বিদ্বেষী এবং মুসলিম-বিদ্বেষী কথাবার্তা বলা বন্ধ করার ডাক দিয়ে মহাসচিব বলেন, বিশ্বের বহু জায়গাতেই ইহুদি এবং মুসলিমরা তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে ভয়ে ভয়ে আছে।
সবশেষে গাজায় অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে গুতেরেস নতুন করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের দ্বিরাষ্ট্রীক সমাধান প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন।



