
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট | ৬৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

এটর্নী জান্নাতুল রুমা। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
নতুন অফিসে কাজ শুরুর পরই কম্যুনিটির জন্যে আশাব্যঞ্জক সংবাদ দিলেন এটর্নী জান্নাতুল রুমা। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি জানালেন, ইউএসসিআইএস বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পারিবারিক কোটায় গ্রীণকার্ডের প্রসেসিংয়ের প্রক্রিয়াকে দ্রত করতে। শুধু তাই নয়, দক্ষ কর্মীর ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমিট ইস্যুতেও ধীরগতি কমানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এটর্নী রুমা নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ৭৪ স্ট্রিটের অফিস ছেড়ে ৭৫ স্ট্রিটে (৩৭-৫১ ৭৫ স্ট্রিট, অর্থাৎ ৩৭ এভিনিউ এবং ৩৭ রোডের মধ্যে) উঠেছেন। নিরিবিলি পরিবেশে এ অফিসেই কথা হচ্ছিল ইমিগ্রেশনের হাল-হকিকত নিয়ে। এটর্নী রুমা জানালেন, করোনা মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে টানা তিন বছরের মত কার্যক্রম এক ধরনের স্থবিরতায় আক্রান্ত হয়েছিল। গত বছর হঠাৎ করে তা শুরু হওয়ায় জট দেখা দেয়। কারণ, ট্রাম্পের আমলে ইমিগ্রেশনের অনেক কর্মচারি ছাটাই করা হয়েছে। তেমনি অবস্থায় জট কমানো দূরের কথা স্বাভাবিক কার্যক্রমও অব্যাহত রাখতে হিমসিম খাচ্ছে বাইডেন প্রশাসন। এখন ইউএসসিআইএস চেষ্টা করছে ধীরগতি কমিয়ে আনতে। যার সুফল কিছুটা হলেও দেখতে পাচ্ছি। এটর্নী রুমা বলেন, গ্রীণকার্ডের আবেদন পেন্ডিং রয়েছে ৭৬ লাখের মত। এরমধ্যে স্কিল্ড ওয়ার্কার হিসেবে গ্রীণকার্ডের পেন্ডিংয়ের সংখ্যা ১৮ লাখ। অবশিষ্টগুলো পারিবারিক কোটা। এটর্নী রুমা বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এসাইলাম মঞ্জুরির পরের সপ্তাহেই গীণকার্ডের আবেদন করা যাচ্ছে এবং খুবই স্বল্প সময়ে তা চলে আসছে। আগে আবেদনই করতে হতো এক বছর পর। একইভাবে পারিবারিক কোটায়ও (আই-১৩০)জট কমতে শুরু করেছে। এ্যাপ্রুভাল আসছে দ্রুত। এসাইলাম অথবা অন্য কোন প্রোগ্রামে আবেদন গ্রহণের পর ওয়ার্ক পারমিট পেতেও সময় অনেক কমেছে। এটর্নী রুমা বলেন, সিটিজেনশিপের আবেদন প্রসেসিংয়ের সময়ও অনেক কমেছে। ৪/৫ মাসের মধ্যেই ইন্টারভিউ হচ্ছে। তিনি বলেন, এফ-২ এ হচ্ছে গ্রীণকার্ডধারিগণের ২১ বছরের কম বয়সী সন্তানের জন্যে ভিসার আবেদন প্রসেসিং, (নভেম্বরের ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী) বর্তমানে ফেব্রুয়ারি-০৮, ২০১৯, এবং এফ-২ বি ক্যাটাগরিতে (গ্রীণকার্ডধারির ২১ বছরের অধিক বয়সী অবিবাহিত সন্তান) ২২ সেপ্টেম্বর’২০১৫এর মধ্যে অনুমোদিতদের ইন্টারভিউ চলছে। তবে গত দু’মাসের তুলনামূলক আলোচনায় খুব বেশী আগাচ্ছে না। এর আগে অনেকটাই উঠানামা করেছিল। ইউএস সিটিজেনদের বিবাহিত সন্তানের জন্যে (এফ-থ্রি) আবেদনের বর্তমান প্রসেসিংয়ের ক্যাল্ডোর হচ্ছে ২০০৯ সালের জানুয়ারির ৮তারিখের আগে অনুমোদিত।
এটর্নী রুমা উল্লেখ করেন, আগস্ট থেকে কিছুটা হলেও ব্যাকলগ কমেছে। এটাই সুসংবাদ যে, কিছুটা হলেও নাড়াচাড়া করতে শুরু করেছে। আগে তো থমকে ছিল। গত সেপ্টেম্বর মাসে ৩৮৭৫৫ জনের ইন্টারভিউয়ের সময় নির্দ্ধারণ করা হয়েছিল। আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ৩৯৩৪৭। অক্টোবরের তথ্য পেতে আরো কদিন অপেক্ষা করতে হবে।
অসাধারণ ক্ষমতা অথবা কৃতিত্বের অধিকারিদের জন্যে ইবি-১, এডভান্সড ডিগ্রি অথবা ব্যতিক্রমী মেধাসম্পন্নদের জন্যে ইবি-২, দক্ষ শ্রমিক, পেশাদার অথবা অন্য শ্রেণীর কর্মীর জন্যে ইবি-৩, স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্যে ইবি-৪ এবং ইবি-৫ হচ্ছে বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রীণকার্ডের ভিসা। এগুলোর প্রসেসিংয়ের জটও কমিয়ে আনার অভিপ্রায়ে লোকবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জেনেছি।
কক্সবাজারের কণ্যা, মৃদুভাষী এবং ইমিগ্রেশন, সিভিল, পারিবারিক আইনে অসাধারণ মেধার অধিকারি এটর্নী রুমা কম্যুনিটির জন্যে পরামর্শ দিয়েছেন যে, অভিবাসীদের গড়া এই আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে অভিজ্ঞ এটর্নীর পরামর্শক্রমে আবেদন সাবমিট করা উচিত। সাবমিশনের সময়ে যদি ক্রুটি না থাকে অথবা প্রয়োজনীয় ডক্যুমেন্টের ঘাটতি না থাকে, তাহলে দ্রুত রেজাল্ট পাওয়া যায়। একবার ত্রুুটি ধরা পড়লে খেসারত দিতে হয় দীর্ঘ সময়, এমনকি এসাইলাম অফিসার/বিচারকও সন্দেহ পোষণ করেন আবেদনে বর্ণিত ঘটনায়। এটর্নী রুমা বললেন, মেক্সিকো হয়ে যারা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেই এসাইলাম চেয়েছেন তাদের মঞ্জুরির হার অনেক বেশী। এছাড়া যারা ট্যুরিস্ট ভিসা বা অন্য কোন ভিসায় এসে প্রয়োজনীয় ডক্যুমেন্টসহ এসাইলাম চাচ্ছেন তারাও গ্রীণকার্ড পাচ্ছেন স্বল্পতম সময়ে। সবকিছু নির্ভর করছে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সাবমিশনের ওপর। এক্ষেত্রে বিএনপি ও এলডিপি প্রাধান্য পাচ্ছে।



