
বিশেষ সংবাদদাতা | বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট | ৭৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

জলবায়ু পরিবর্তনের যে ধারা শুরু হয়েছে তা রোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে বিশ্বের দুই বিলিয়ন মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে। গ্লোবাল মার্কেট রিসার্চ এবং জনমত যাচাইয়ের প্যারিসভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইপসোস’ পরিচালিত এই গবেষণা-জরিপে আরও উদঘাটিত হয়েছে যে, ইতিমধ্যেই বিশ্বের ৩১ দেশের ৫৭% মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ংকর প্রভাব প্রত্যক্ষ করছেন। ইতোমধ্যেই মেক্সিকো, ব্রাজিল এবং তুরস্কের অধিবাসীরা তা অনুধাবনে সক্ষম হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মেক্সিকোতে হারিকেনের তান্ডব, তুরস্কে ভূমিকম্প এবং ব্রাজিলে অবিশ্বাস্য খরার প্রকোপ দেখা গেছে। দুবাইতে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সম্মেলন (সিওপি২৮)এর আগের দিন অর্থাৎ ২৭ নভেম্বর সোমবার উদ্বেগজনক এ জরিপ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা গেছে যে, ঐ ৩১ দেশের প্রতি ১০ জনের ৪ জনই গৃহহীন হয়ে পড়ার আলামত প্রত্যক্ষ করছেন। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অনুপাতে তা দুই বিলিয়নের অধিক। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে ২৪২২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক এই জরিপে অংশ নেন বলে পরিচালনাকারিরা উল্লেখ করেছেন। ৬০% উল্লেখ করেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা প্রতিরোধে ঐসব দেশের সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা দূরের কথা, এমন একটি ভয়ংকর পরিস্থিতির ব্যাপারে সতর্কবার্তাও নাগরিকদের কাছে প্রদান করা হচ্ছে না।
বিজ্ঞানী এবং রাজনীতিকরা জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ংকর প্রভাব এবং তার আলামত ইতিমধ্যেই (অতিবন্যা, দাবানল, হারিকেন, খরা) শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহকে অবহিত করা সত্ত্বেও রাষ্ট্রযন্ত্র তা গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে না। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ১৬ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে। জরিপে অংশগ্রহণকারিগণের মধ্যে তুরস্কের ৬৮%, ব্রাজিলের ৬১% এবং ভারতের ৫৭% আশংকা প্রকাশ করেছেন যে, শিগগিরই তারা বসতভিটা হারাবেন জলবায়ু পরিবর্তনের তান্ডব রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে। এমন আশংকার কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫%। সবচেয়ে কম মানুষ এমন পরিস্থিতির ভিকটিম হওয়ার কথা ভাবছেন নেদারল্যান্ডের-১৯%। জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থা ইপসোসের চীফ সাসটেইনেবিলিটি অফিসার লোরেন ডিমার এক বিবৃতিতে বলেছেন, উপরোক্ত ৩১ দেশের প্রতি ১০ জনের ৭ জনই মনে করছেন যে, সামনের দশকেই তাদের এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ে নিপতিত হবে। নিউজউইকসহ প্রধান প্রধান মার্কিন গণমাধ্যমে এ গবেষণা-জরিপ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।



