
নিজস্ব প্রতিনিধি | রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট | ১৪৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হায়েনার গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবিতে ৯ ডিসেম্বর শনিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা মানববন্ধন করেছেন। সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১’র যুক্তরাষ্ট্র শাখা আয়োজিত এ মানববন্ধনে কম্যুনিটির বিশিষ্টজনেরাও ছিলেন। কর্মসূচী চলাকালে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনি গুতেরেসের প্রতিনিধি হিসেবে মহাসচিবের রাজনৈতিক সম্পর্কিত কর্মকর্তা আদিত্য অধিকারী সেখানে এসে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। সে সময় আদিত্য বলেন, স্মারকলিপিটি খুব শীঘ্র যথাস্থানে পৌছে দেয়া হবে।
৯ ডিসেম্বর ছিল আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস এবং গণহত্যার ভিকটিমদের স্মরণ করা ছাড়াও সামনের দিনগুলোতে গণহত্যা প্রতিরোধে শপথ গ্রহণেরও দিন। সে আলোকে ৮ ডিসেম্বর নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংকালে বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের গণহত্যাকেও স্বীকৃতি প্রদানের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন উত্তর আমেরিকা সংস্করণের নির্বাহী সম্পাদক (সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা) লাবলু আনসার। জবাবে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফ্যানি ডোজারিক বলেন যে, কোনো ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া মহাসচিবের কাজ নয়। এটি উপযুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের উপর নির্ভর করে। আদিত্য অধিকারী ডোজারিকের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করেই জানিয়েছেন যে, নেদারল্যান্ডের হ্যাগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তা প্রেরণ করা হবে। স্মারকলিপিতে ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবিবের স্মাক্ষর রয়েছে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন হোস্ট সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার। সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারীর সঞ্চালনায় এ সময় আরো বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, কম্যুনিটি লিডার জাকির হোসেন বাচ্চু, নারী বিষয়ক সম্পাদক সবিতা দাস, এবং জেনোসাইড একাত্তর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ কর।
বক্তারা বলেন, বিংশ শতাব্দিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হত্যাযজ্ঞের একটি হচ্ছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ৯ মাসে ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা, ৪ লাখের অধিক নারীর সম্ভ্রমহানীর ঘটনা। অথচ আজ অবধি তা জাতিসংঘের স্বীকৃতি পায়নি। অথচ জাতিসংঘ দাবি করে আসছে যে, তারা মানবাধিকার সুরক্ষা, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শান্তি সুসংহত করতে নিরন্তরভাবে সচেষ্ট রয়েছে। একাত্তরে পাক হায়েনাদের সেই নৃশংসতা তথা গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ব্যতিত সভ্য সমাজে জাতিসংঘ তার সনদের পরিপূরক কাজে সচেষ্ট রয়েছে বলে প্রমাণ দেবে কীভাবে-এ প্রশ্নও করেন বক্তারা।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার বলেছেন, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এ তৎপরতা অব্যাহত রাখবো।
মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মীসবাহউদ্দিন প্রমুখ।



