
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি | বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট | ২৮৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্কে ‘সিরাজুল আলম খান স্মৃতি পরিষদ’র উদ্যোগে ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় সংগঠনের আহবায়ক সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের ডিন ড. মহসিন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্সের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. মোস্তফা সারওয়ার বলেছেন, সিরাজুল আলম খান ছিলেন নির্লোভ, আজীবন একজন দেশপ্রেমিক। তিনি এই পৃথিবীতে বউ, বাচ্চা বাড়ি-ঘর,ব্যাংক ব্যালেন্স কিছুই রেখে যাননি। সেজন্য তিনি বলেছিলেন ‘আমার মৃত্যুর পর কোন শোক সভা হবে না, শহীদ মিনারে নেওয়ার দরকার নেই। আমার মায়ের একটা সাদা কাপড় রেখেছি, ওটা দিয়ে মুড়িয়ে মা/ বাবার কবরের পাশে পূতে দিও।’ কত উঁচু মনের দুরদর্শিতার মানুষ হলে এরকম কথা বলে যেতে পারেন। এধরনের মানুষকে দলমতের উর্ধে রেখে তার জীবনাদর্শ চর্চা করলে আমরা সবাই উপকৃত হবো। সেই লক্ষ্যে নিউইয়র্কে ‘সিরাজুল আলম খান স্মৃতি পরিষদ’ গঠনকে সাধুবাদ জানান।
সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য-সচিব শাহাবউদ্দিন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এডভোকেট মুজিবুর রহমান,বীরমুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান , বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মুজিবুল হক, ওয়ালিউল ইসলাম সেলিম, লিগ্যাল কনসালটেন্ট মুজিবুর রহমান, হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন প্রমুখ।
ড. সারওয়ার বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছিলাম। বিশেষ করে কাজী আরেফ আহমেদ, সিরাজুল আলম খানের খুব প্রিয় ছিলাম। আমি ছাত্র থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জীবনের খুব কাছে থেকে সিরাজুল আলম খানকে দেখেছি। তিনি সব সময় কর্মীদের বুকে আগলে রাখতেন। আদর্শিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতেন। বঙ্গবন্ধু অথবা বেগম মুজিবের (বঙ্গবন্ধুর কারা-জীবনকালে) কাছ থেকেই পয়সা এনে ঢাকার নীলখেতের আনোয়ারা রেস্টুরেন্টে কর্মীদের ভাত খাওয়ার বিল দিতেন। কিন্তু তিনি নিজে খেতেন না। তিনি রুমে এসে ডাল,ভাজি দিয়ে খেয়ে ফ্লোরে শুয়ে পড়তেন। তিনি তোফায়েল আহমেদ, আ স ম রব সহ বহুনেতা সৃষ্টি করেন। জয় বাংলা শ্লোগান, শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধি, বাংলাদেশের পতাকা, জয়বাংলা বাহিনী গঠন করে দেশকে পাকিস্তানীদের কবল থেকে মুক্তির জন্য সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের দিকে নিয়ে স্বাধীন করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে দেশের মানুষ ও ছাত্রসমাজ পরিচালিত করেছিলেন। এককথায় বলা যায় সিরাজ ভাই ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভেনগার্ড ও বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রস্টা।
ড. সারোয়ার বলেন, তার দেশপ্রেম, সততার জন্য বঙ্গবন্ধু খুবই স্নেহ করতেন। জাসদ গঠনের পরও সব সময় বঙ্গবন্ধু খোঁজ খবর নিতেন। একদিন অসুস্থতার খবর শুনে আমার সামনে বঙ্গবন্ধু বলেন, কীরে সিরাজ তোর না শরীর খারাপ। যা রাশিয়ায় গিয়ে চিকিৎসাটা করে আয়। কিন্তু তিনি (সিরাজুল আলম) অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলেন, না ভাই আমি ভালো আছি। এরকম আরও অনেক ঘটনা আমার সামনেই হয়েছে। ড. সারোয়ার উল্লেখ করেন, একটি দল থেকে বেরিয়ে এসে সেই সময় জাসদ প্রধান বিরোধী দল হওয়া সত্তে¡ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে কত মধুর সম্পর্ক ছিল এখন তা কল্পনাও করা যায়না। ড. মোস্তফা সারোয়ার আরো বলেন, আজ হত্যা, হিংসা ও ধ্বংসের রাজনীতি দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। এই ধারা পরিবর্তন করা একান্ত জরুরী। একটি গণতান্ত্রিক দেশে মতদ্বৈততা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এটা আদর্শিক মতবাদিক সংগ্রামের মাধ্যমেই মোকাবেলা করতে হবে। মাসলম্যান পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে নয়।
ড. মোস্তফা সারোয়ার বলেন, সিরাজ ভাইর সাথে শেষ দিন পর্যন্তও আমার যোগাযোগ ছিল। দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট, শ্রমিক কৃষক , ছাত্র সহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ নিয়ে বহু গবেষনামূলক লেখা রেখে গেছেন। এসব লেখা সংগ্রহ করে সরকার ও বিরোধী দল দেশের কাজে লাগাতে পারেন। এবং আমাদের নূতন প্রজন্মের গবেষণার জন্যও এগুলোকে সংকলিত করা একান্ত জরুরী।
উল্লেখ্য, আগামী ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ছয়টা জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারের ‘বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে সিরাজুল আলম খানের ভূমিকা “শীর্ষক একটি আলোচনা-সমাবেশের প্রস্তুতি উপলক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।



