সোমবার ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

একাত্তরে বাংলাদেশে ও গাজায় গণহত্যায় মদদ দিচ্ছে একই শক্তি : জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত মুহিত

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট  

একাত্তরে বাংলাদেশে ও গাজায় গণহত্যায় মদদ দিচ্ছে একই শক্তি : জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত মুহিত

৫২ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ এবং গাজায় গণহত্যায় একটি মিল রয়েছে। যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যায় মদদ দিয়েছিল, গণহত্যা বন্ধে যারা সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়নি, তারাই আজকে গাজায় হণহত্যা চলতে দিচ্ছে। তা বন্ধের জন্যে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। একই পৈশাচিকতা দৃশ্যমান হচ্ছে সভ্যতাকে কালিমালিপ্ত করে। মানবাধিকারের সবক দিতে অভ্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এম এ মুহিত ১৬ ডিসেম্বর শনিবার বিজয় দিবসের সমাবেশে আরো উল্লেখ করেন, তবে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে ৩০ লাখ অর্থাৎ দুই মাসে ৬ লাখ ৬৬ হাজার তাজা প্রাণ কেড়ে নেয়া হয়। আজকে গাজায় ভয়াবহ হত্যাকান্ড, ধ্বংসযজ্ঞ চলছে, সেখানে গত ২ মাসে ২৫ হাজারের মত নিরস্ত্র মানুষ মারা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীনরাও রেহাই পাচ্ছে না ইমরায়েলি নৃশংসতা থেকে।

রাষ্টৃদূদ মোহিত উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মেধাশূন্য করার নীলনকশার অংশ হিসেবে একাত্তরের ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রথিতযশা ৯৯১ শিক্ষক, ৯৩ সাংবাদিক, ৪৯ চিকিৎসক, ৪২ আইনজীবী, এবং ১৬ বিজ্ঞানী ও দার্শনিককে হত্যা করে ঘাতকের দল। পৃথিবীর জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড হিসেবে একটি দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। পাকিস্তানি হায়েনার দল ও তাদের দোসর আলবদর-রাজাকারের সদস্যরা সম্ভ্রমহানী ঘটায় ৪ লাখ নারীর, যার মধ্যে শহীদ হয়েছেন অন্তত ৪০ হাজার। রাষ্ট্রদূত মুহিত বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে পাক হায়েনাদের বর্বরতার অনেক তথ্যই পশ্চিমাবিশ্বের গণমাধ্যমে তেমনভাবে স্থান পায়নি বলে বিবেক জাগ্রত হতে সময় লেগেছে। গাজার পরিস্থিতিও সঠিকভাবে পশ্চিমা মিডিয়ায় তেমনভাবে আসছে না।

আল জাজিজার মত সংবাদ মাধ্যম না থাকলে হয়তো আমরা প্রকৃত চিত্র কখনোই জানতে পারতাম না। এ সময় সমাবেশে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সচেতন প্রবাসীরা নির্বিচার গণহত্যার নেপথ্য শক্তির উদ্দেশ্যে ঘৃণাবোধক ধ্বনি তোলে। অনেকে চিৎকার বলে বলতে থাকেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ভয়ংকর গণহত্যায় মদদ দিচ্ছে, অথচ তারাই মানবাধিকারের সবক দেয়ার চেষ্টা করে আসছে। এমন সবিরোধী আচরণের বিরুদ্ধে গোটাবিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।

বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশের স্লোগান ছিল বঙ্গবন্ধু উক্তি ‘আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সেই গণতন্ত্র-যা সাধারণ মানুুষের কল্যাণ সাধন করে থাকে’। জাতির পিতা এবং ৩০ লাখ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালনের পর নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডে আহলুল বায়ত মিশন মসজিদের ইমাম ড. সাঈয়েদ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রাব্বানীর নেতৃত্বে বিশেষ দোয়া-মাহফিলের মধ্যদিয়ে শুরু সমাবেশে রাষ্ট্রদূত মুহিত ৫২ বছরের উন্নয়ন-অগ্রগতির একটিম ধারাবিবরণী দিয়েছেন। একাত্তরে পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা, মাথাপিছু আয়, আমদানি-রফতানি, মানুষের গড় আয়ু, স্বাক্ষরতার হার, শিশু মৃত্যুর হার, মাথাপিছু জাতীয় আয়, কত ছিল এবং ৫২ বছর পর পাকিস্তানের তুলনায় সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রদূত। এসব অভূতপূর্ব উন্নয়ন-অগ্রগতির সিংহভাগই ঘটেছে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে-উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মুহিত। তিনি বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে দেশপ্রেমিক প্রতিটি প্রবাসীর ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য কামনা করেছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে রূপকল্প ২০২১, রূপকল্প ২০৪১ ও ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ইতোমধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটেগরি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছি যা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের মর্যাদা ও সক্ষমতার স্বাক্ষর। বিগত কয়েক বছরে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন, মেট্রো রেল ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল নির্মাণসহ নানাবিধ মেগা প্রজেক্টের বাস্তবায়ন আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতার অন্যতম নির্দেশক। বাংলাদেশ আজ ৩৫ তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।”

দারিদ্র্য দূরীকরণে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্যের প্রসংগ টেনে রাষ্ট্রদূত মুহিত বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দারিদ্যের হার ২০২২ সালে কমে হয়েছে ৫ শতাংশ যা ২০১০ সালে ছিল ১১.২ শতাংশ। রাষ্ট্র হিসেবে সামষ্টিক অর্থনীতিতে সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী সকলের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকরনে দিয়েছেন বিশেষ অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত আশ্রয়ণ প্রকল্পের মত উদ্যোগ আজ জাতিসংঘের রেজ্যুলেশনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এছাড়া অতিমারি কোভিড-১৯ এর ধাক্কা এবং তদ্পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে যখন পৃথিবীর সকল দেশ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন, অর্থনীতির এমন প্রতিকূল সময়েও বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক অনেক সূচকে প্রতিবেশি দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে আছে।”

বিজয় দিবসের চেতনায় আরো বক্তব্য রাখেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়্যার ভেটারন্স’৭১ এর প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের সেক্রেটারি বীর মুক্তিয্দ্ধোা ফারুক আহমেদ, স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের কিংবদন্তি শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, বীর প্রতিক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব) মঞ্জুর আহমেদ, জেনোসাইড একাত্তর ফাউন্ডেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ কর, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি আজিজুল হক খোকন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মাসুদুল হাসান খান। শেষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগানিয়ে নৃত্য-গীতে অংশ নেন সবিতা দাসের নেতৃত্বে বহ্নিশিখা সঙ্গীত নিকেতনের শিল্পীরা।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:১২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar