Advertisement Placeholder
স্টেটগুলোর বেতনের অর্ধেকেরও কম পাচ্ছেন তারা

১৪ বছরেও যুক্তরাষ্ট্র ফেডারেল কর্মীদের বেতনভাতা বাড়েনি!

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৫২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, গত ১৪ বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ফেডারেল কর্মীগণের বেতন-ভাতা বাড়েনি। অথচ এ সময়ে চাল-ডাল-আটা-তেল-নুন-পেয়াজ-ডিম-মাংসের দাম বেড়েছে ২২%। বাড়ি ভাড়াও সমানতালে বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, টেক্সাস, মিশিগানসহ ২২ স্টেটের বিধি অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি ঘন্টা বেড়ে ১৬ ডলার হচ্ছে নতুন বছরে। আর ফেডারেল কর্মীরা আগের মতোই পাবেন প্রতি ঘন্টায় মাত্র ৭ ডলার ২৫ সেন্ট করে। কংগ্রেস কিংবা হোয়াইট হাউসে এ নিয়ে দেন-দরবার চালাচ্ছেন শ্রমিক নেতারা। কিন্তু ২০০৯ সালের পর কোন সাড়া মেলেনি। অথচ বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের শ্রমিকের মজুরি-ভাতা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের মাথাব্যাথার শেষ নেই বলে অভিযোগ করেছেন সচেতন প্রবাসীরা। সর্বশেষ ১৫ ডিসেম্বরও ৮ কংগ্রেসম্যান যুক্ত স্বাক্ষরে একটি পত্র দিয়েছেন আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন ল্যামারকে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরের কর্মপরিবেশের উন্নয়নের পাশাপাশি মাসিক বেতন কমপক্ষে ২০৮ ডলার (২৫ হাজার টাকা ) করতে বাংলাদেশ সরকার ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ীগণের ওপর চাপ প্রয়োগের দাবি রয়েছে সেই পত্রে। বাংলাদেশের শ্রমিকের জন্যে এমন মায়াকান্নায় দোষের কিছু নেই, তবে নিজ দেশের ফেডারেল কর্মীগণের ব্যাপারে আরো বেশী সরব হওয়া উচিত উপরোক্ত কংগ্রেসম্যানদের-এমন অভিমত প্রবাসীদের।
জানা গেছে, নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই নিউইয়র্কে ন্যূনতম মজুরি ঘন্টা ১৫ ডলার থেকে ১৬ ডলারে বৃদ্ধি পাবে। এটি কার্যকর হবে নিউইয়র্ক সিটি এবং সাফোক, ওয়েস্টচেস্টার ও নাসাউ কাউন্টিতে। এর বাইরে এই স্টেটের সর্বত্র প্রতি ঘন্টায় ন্যূনতম মজুরি হবে ১৫ ডলার করে। ক্যালিফোর্নিয়া এবং ওয়াশিংটন স্টেটেও ন্যূনতম মজুরি ঘন্টা ১৬ ডলার হবে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই। আরো ২২ স্টেটের ন্যূনতম মজুরি বাড়বে নতুন বছরে। নেভাদা এবং ওরেগণে কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকে। ফ্লোরিডায় বাড়বে ৩০ সেপ্টেম্বর। তবে ২০ স্টেটে ফেডারেল কর্মচারিরা আগের মতই পাবেন প্রতি ঘন্টায় ৭.২৫ ডলার করে। এটি ২০০৯ সাল থেকে কার্যকর হয়েছে।
করোনা মহামারি ছাড়াও নানাবিধ কারণে মূল্যস্ফীতি ঘটায় স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন-যাপন যেখানে নিদারুণ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে, তেমন অবস্থায় ফেডারেল প্রশাসন তাদের কঠোর পরিশ্রমী কর্মচারিদের ব্যাপারে একেবারেই নীরব রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অর্থ এবং কৃষি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য, বাড়ি ভাড়া বেড়েছে গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবুও কেন কংগ্রেস ফেডারেল কর্মচারিগণের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে না-সে প্রশ্নের জবাব আসেনি।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার