
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৪ | প্রিন্ট | ৮৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার যে নির্দেশ দিয়েছেন তা আরব ও মুসলিম আমেরিকান ভোটারদের জন্যে তাঁর (বাইডেন) কফিনে আরেকটি পেরেক বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বখ্যাত নিউজউইকের পর্যালোচনায় এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মুসলিম আমেরিকান এবং আমেরিকায় মুসলমানদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনার ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ভোট ব্যাংকে এমন বিপর্যয়ের কথা ১৪ জানুয়ারি ‘ইয়েমেন স্ট্রাইকস আর অ্যানাদার নেইল ইন জো বাইডেন্স কফিন ফর মুসলিম ভোটারস’ (Yemen Strikes Are Another Nail in Joe Biden’s Coffin for Muslim Voters) শিরোনামে প্রকাশ করেছে নিউজউইক।
বাইডেন ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের দমনে একাধিক বিমান হামলার নির্দেশ দেন লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে আক্রমণ বন্ধের একটি কৌশল হিসেবে। কূটনৈতিক তৎপরতার এটিও একটি অংশ বলে যুক্তি দেখিয়েছেন বাইডেন ও তার নীতি-নির্ধারকরা। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বৃহস্প্রতিবার যুক্তরাজ্যের সাথে মিলে প্রথম দফা হামলা চালায় এবং এতে সমর্থন ছিল অষ্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, কানাডা এবং নেদারল্যান্ডের। পরদিন শুক্রবার হুথিদের বিরুদ্ধে আবারো বিমান হামলা চালায়। এ অবস্থায় হুথিরা প্রতিশোধ নিতে লোহিত সাগরে তাদের আক্রমণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
‘কাউন্সিল অন আমেরিকান রিলেশন্স’ (কেয়ার)র উপ-নির্বাহী পরিচালক এডোয়ার্ড আহমেদ মিচেল নিউজউইককে বলেছেন, নাগরিক অধিকার গোষ্ঠি-কেয়ার ইয়েমেনে ‘অবৈধ বিমান হামলায় গভীরভাবে বিরক্ত’। ‘আমরা গাজায় চলমান গণহত্যা, যা সংকটের মূলে, সমাধান করার পরিবর্তে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইয়েমেনে বোমা হামলা চালিয়ে বাইডেন প্রশাসন সংকটকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে দেখে আমরা গভীরভাবে বিচলিত। গণহত্যার সমাপ্তি ঘটলেই ওই অঞ্চলের উত্তেজনা হ্রাস পাবে’-মন্তব্য আহমেদ মিচেলের। তিনি যোগ করেন, আমরা মনে করছি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইয়েমেনে বিমানে বোমা হামলার ঘটনা বেআইনি, এটি বিপজ্জনক এবং শেষ পর্যন্ত তা শান্তি আনতে পারবে না। এটি কেবল যুদ্ধের ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।
ইয়েমেনে বিমান হামলার পক্ষে যুক্তি প্রদর্শনকালে জো বাইডেন বলেছেন, ‘হুথিরা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোর অন্যতম একটিতে অবাধ চলাচলের অধিকার বিপন্ন করেছে। এ অবস্থায় বিমান হামলার মধ্যদিয়ে আমরা একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের পার্টনাররা আমাদের লোকজনের উপর আক্রমণ সহ্য করবে না।’ প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এমন বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে কেয়ারের উপ-নির্বাহী পরিচালক বলেন, আমি মনে করছি যে, আমাদের প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো রক্ষায় খুবই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু গাজায় খুন হওয়া হাজার হাজার শিশুকে রক্ষায় দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছে না। আমরা খুশী হতাম যদি বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে একইধরনের জরুরি প্রক্রিয়া যদি গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে নেয়া হতো।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গাজায় ইসলায়েলি হামলার পক্ষে অবস্থান নেয়ায় বাইডেনের বিরুদ্ধে প্রচন্ড ক্ষোভ বিরাজ করছে মুসলিম আমেরিকানদের মধ্যে। সে অবস্থাকে আরো ত্বরান্বিত করলো ইয়েমেনে বোমা হামলার মধ্যদিয়ে এবং এর প্রভাব সামনের নির্বাচনে ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



