
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ | প্রিন্ট | ১৪০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে একটি পার্টি হলে ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হল প্রবাসী শেরপুর জেলা সমিতির পিঠা উৎসব ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা সাংবাদিক মো. আবুল কাশেম। সংগঠনের সভাপতি নাহিদ রায়হান লিখনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি মামুন রাশেদ, কৃষিবিদ সৈয়দ মিজানুর রহমান, এডভোকেট যুবাইয়ের আহমেদ, জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাংগীর হোসাইন, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাকসেস কনসাল্টিং ফার্মের সিইও আখতারুজ্জামান, এবং সংগঠনের উপদেষ্টা প্রকৌশলী প্রদোষ চন্দ্র চক্রবর্তী।
প্রধান অতিথি সাংবাদিক আবুল কাশেম বলেন, পিঠা উৎসব গ্রামীণ বাংগালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। যুগ যুগ ধরে এই সংস্কৃতি আমরা লালন করে আসছি। অগ্রাহায়ণ ও পৌষ মাসে ঘরে নুতন ফসল উঠার সময় গ্রামীণ জনগোষ্টী ধনী-দরিদ্র সকল শ্রেনীর মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে অথবা সম্মিলিতভাবে এই উৎসবের আয়োজন করে থাকে। তিনি বলেন, সত্তর ও আশির দশকে আমি যখন গ্রামে বসবাস করতাম তখন প্রাণভরে তা উপভোগ করেছি। বর্তমানে অতি আধুনিকতার যুগে আমরা তা হারিয়ে যেতে বসেছি। তিনি আরও বলেন, এই প্রবাস জীবনে নুতন প্রজন্মের মাঝে আমাদের হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে চাইলে এধরনের পিঠা উৎসবের আয়োজন অনস্বীকার্য। তিনি এত সুন্দর পিঠা উৎসব আয়োজন করার জন্য আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানান।
কূটনীতিক জাহাংগীর হোসাইন তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি কমিউনিটির অনেক পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণ করেছি, কিন্তু আজকের মত এত বাহারী পিঠার আয়োজন কোথাও দেখিনি। তিনি শেরপুরের ভাবী-বোনদের হাতে তৈরী বাহারী পিঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এবং তিনি ভবিষতে এ ধরনের পিঠা উৎসবে আমন্ত্রণ পেলে মিস করবেন না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংগঠনের সাবেক সভাপতি রাশেদ মামুন বলেন, নুতন প্রজন্মকে আমাদের সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত রাখতে চাইলে প্রত্যেক বাবা-মাকে নিজে উদ্যোগি হয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠানে নিয়ে আসতে হবে। যাঁরা সংগঠনের নেতৃত্বে আসতে আগ্রহী তাদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাশেদ মামুন।
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক সাধারন নির্বাচনে শেরপুর -১ আসন থেকে নির্বাচি নুতন সংসদ সদস্য ছানুয়ার হোসেন ছানুকে অভিনন্দন জানানো হয়। এবং শেরপুরে রেল লাইন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্হাপনের জন্য সরকার তথা নুতন সংসদ সদস্যের কাছে জোর দাবী জানানো হয়। অনুষ্ঠানে হৃদয় ছোঁয়া কবিতা আবৃত্তি করেন রানা রায়হান, প্রদোষ চক্রবর্তী ও নাহিদ রায়হান লিখন। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শামীম রেজা, সিরাজুল ইসলাম, মুহাম্মদ এন রহমান, নিপা , অনুভা ও সায়মা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে চিতৈই পিঠা ,তেলের পিঠা, ভাঁপাপিঠা, পাটিসাপটা, গোটা পিঠা, পায়েস পিঠা, নারুপিঠা, কলাপিঠা, আউলা খেসী, নারিকেল বরা পিঠা, খির পিঠা, তাল পিঠা, লবংগ পিঠা, সন্দেশপিঠা, ঝাঁলপিঠা ,ফুলপিঠা, চাপরিপিঠা, চিরাপিঠা, মোয়াপিঠা,ও সেমাই পিঠাসহ প্রায় ৩৫/৩৬ প্রকারের পিঠা দিয়ে আমন্ত্রিত উপস্থিত সবাইকে আপ্যায়িত করা হয়। যে সকল ভাবী-বোনেরা অনেক কষ্ট করে নানা ধরনের পিঠা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তাদের সবাইকে পুরস্কৃত করা হয়। মুখরোচক ভূণা খিচুরী ও গরু/ খাসীর মাংসের রেজালা/কারী দিয়ে রাতের খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সাবেরা জামান কচি, রুমা জামান, মাসুদ মুক্তা, রেখা জামান ডলি, গৌতম চক্রবর্তী মিন্টু, ফেরদৌসী কাশেম, রাকিবুল হাসান রাসেল, হাজী শহিদুল ইসলাম শাহীন,জিনাত কামাল ও প্রফেসর শামীম আহমেদ প্রমুখ।



