Advertisement Placeholder

একুশে বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে ড. মোস্তফা সারোয়ারের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প : উলঙ্গ সম্রাট’ বইটি

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি   |   রবিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১৪২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

একুশে বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে ড. মোস্তফা সারোয়ারের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প : উলঙ্গ সম্রাট’ বইটি

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প: উলঙ্গ সম্রাট’-সময়ের সাহসী উচ্চারণ। গ্রন্থটি বাংলা ও ইংরেজীতে (উঙঘঅখউ ঞজটগচ: ঞঐঊ ঘঅকঊউ ঊগচঊজঙজ ) একইসাথে প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশি আমেরিকান লেখক-কলামিস্ট এবং পেশাগতভাবে একজন প্রথিতযশা শিক্ষক ড. মোস্তফা সারোয়ার। অত্যন্ত মেধাবী কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী মোস্তফা সারোয়ার সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতির আঙ্গিনাতেও বিশেষভাবে সমাদৃত বলেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত একজন বহুল আলোচিত/সমালোচিত রাষ্ট্রনায়ক সম্পর্কে এমন অনবদ্য একটি রচনায় ব্রতি হতে পেরেছেন। ড. মোস্তফা সারোয়ারের আরো কটি গ্রন্থ রয়েছে, সেগুলোও শিক্ষাঙ্গনে অতি প্রয়োজনীয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়।

রাজনীতি, সমাজ, বিশ্ব পরিস্থিতির আলোকে এই বইটির ভূমিকায় লেখক উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বর্ণময় ও বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর সর্বপ্রথম মুদ্রিত বাংলাভাষায় মতামত-প্রবন্ধের এই পূর্ণদৈর্ঘ্য বইটি লিখতে পেরে ভালো লাগছে। এই ভালোলাগাটা আমার প্রেরণার উৎস ছিল না। আনন্দ অনুভূত হল লেখার সমাপ্তিতে। প্রেরণার উৎস ছিল এক ধরনের নৈতিকতার প্রতীয়মান উৎপ্রেক্ষা। কোভিড-১৯ নামে এক মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধির আবির্ভাব ঘটেছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে, চীনে। কয়েক মাসের মধ্যেই এর সংক্রমণ বিশ্বজুড়ে এক ভয়ংকর অতিমারিতে রূপ নেয়। পরিণামে প্রায় একষট্টি কোটি মানুষ আক্রান্ত হয় এবং মৃত্যু ঘটে পঁয়ষট্টি লক্ষেরও বেশি; ফলে পৃথিবীর অর্থনীতিতে নেমে এসেছিল দুর্যোগের ঘনঘটা।

২০২০ সালের শেষভাগে কোভিড-১৯ যখন যমদূতের মতো মানুষের প্রাণ ছিনিয়ে নিচ্ছিল ও অর্থনীতির টুঁটি চেপে ধরছিল ঠিক তখনই পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ও শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ, ধর্মান্ধতা, ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ও ফ্যাসিবাদেও এক উন্মাদ নৃত্য দেখতে পেলাম। ইউনিপোলার বিশ্বে জেগে উঠেছিল ফ্যাসিবাদের ঘুমন্ত দৈত্য। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছিলেন এর মধ্যমণি। সেই ক্রান্তিকালেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বাংলাভাষীদের কাছে তুলে ধরব এই বিতর্কিত মহাশক্তিধর বিলিয়নারের কীর্তি কাহিনি যা পৃথিবীর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণে হয়তো শংকাজনক ভূমিকা রাখবে। ২০২০ সালের শেষ সময় থেকে ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ও উত্তর-আমেরিকার প্রথমশ্রেণির বাংলা পত্রিকাগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আমার বাইশটি মতামত-প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। প্রকাশিত মতামত-প্রবন্ধগুলো নিয়ে সংকলিত হল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প : উলঙ্গ সম্রাট।’ একই শিরোনামের মতামত-প্রবন্ধটি বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ প্রকাশিত হয়েছিল ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি। ট্রাম্পের ওপর লেখা, প্রকল্পটির পথচলা শুরু হল…।

লেখক আরো উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প তখনও সমাসীন ছিলেন প্রেসিডেন্ট পদে। নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতে বদ্ধ-পরিকর। আমার বসবাস লুইজিয়ানা স্টেটে, যেটা ট্রাম্প-অনুরাগীদের সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ। এই লুইজিয়ানা স্টেটেরই নিয়ন্ত্রণাধীন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডেলগাডো’র ডিন এবং সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ও প্রভোস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলাম। ভয় যে পাইনি তা দিব্যি করে বলব না! তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী প্রদত্ত মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমাকে সাহস জুগিয়েছে। লেখার কাজে যাঁদের কাছ থেকে উৎসাহ ও সহায়তা পেয়েছি, তাঁরা হলেন বাংলাদেশ প্রতিদিন উত্তর-আমেরিকার নির্বাহী সম্পাদক ভ্রাতৃপ্রতিম লাবলু আনসার ও বাংলাদেশ প্রতিদিন’র সম্পাদক নঈম নিজাম; একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান পরিকল্পনা সম্পাদক এবং একাত্তর মঞ্চ ও একাত্তর জার্নালের কিংবদন্তি সঞ্চালক নূর সাফা জুলহাস; বিডিনিউজ২৪.কম-এর সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালেদি এবং বিভাগীয় সম্পাদক হাবিব ইমরান, রাজু আলাউদ্দিন ও রাজীব নূর। ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ওপর আমার লেখা ইংরেজি মতামত-প্রবন্ধ প্রকাশের জন্য উল্লেখ করব দ্য ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং বিভাগীয় সম্পাদক আশা আমিন ও সুস্মিতা পৃথার নাম। সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবি শিক্ষার্থী এবং পরবর্তীতে শিক্ষকতা পেশায় বাংলাদেশের গন্ডি পেড়িয়ে মার্কিন মুল্লুক, এমনকি ইউরোপেও প্রশংসিত হওয়া এই লেখক ড. মোস্তফা সারোয়ার সময়ের অতি প্রয়োজনীয় এই গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছেন অনাগত ভবিষ্যতের কান্ডারি তাঁর নাতিকে। সেখানেও তাঁর সরল স্বীকারোক্তি, ‘আমাদের একমাত্র নাতি ডেসমন্ড-এর জন্য বইটি উৎসর্গ করতে পেরে ধন্য হলাম। বর্তমানে পৃথিবীকে এক অনিশ্চয়তার কালো মেঘ যেন জাপটে ধরছে। কোভিড-১৯ অতিমারী শেষ হতে-না-হতেই যুদ্ধ, জেনোসাইড, উগ্র-জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক মন্দা, এসব ভয়ংকর দৈত্যরা যেন ধেয়ে আসছে। সর্বোপরি রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন ও তার সহযোগী বৈশি^ক উষ্ণায়ন। এই বইটিতে রয়েছে উগ্র-জাতীয়তাবাদী ঘণ্টাধ্বনির ইঙ্গিত। তুমি যখন বড় হবে, হয়তো তুমি বাংলায় লেখা এই বইটি সরাসরি পড়তে পারবে না; এটাই হল নিয়তি। তবুও আমি আশাবাদী অনুবাদ টেকনোলজি তোমাকে সহায়তা করবে, তখন দাদুর লেখা বইটি পড়বে। অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডের অজানা প্রান্তে তখন অর্থহীন আমার বিক্ষিপ্ত কণাগুলো হয়তো দেখবে না!’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথম প্রকাশিত বইটি ঢাকায় বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে বুথ নম্বর-৩৩১ (স্বরে-অ)-এ। এর দাম ৪০০ টাকা (৪০ ডলার)। বইটির প্রকাশক মনি মুহম্মদ রুহুল আমিন, অগ্রদূত অ্যান্ড কোম্পানী, ৬৫/বি, কনকর্ড অ্যাম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, কাঁটাবন, ঢাকা-১২০৫। প্রচ্ছদ করেছেন রুহুল বিশ্বাস।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার