Advertisement Placeholder
গাজায় যুদ্ধ বিরতি ও জলবায়ু ইস্যুতে কালক্ষেপণ

বাইডেনের নির্বাচনী অফিসে হামলা : গ্রেফতার ২১

বিশেষ সংবাদদাতা   |   মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৬৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বাইডেনের নির্বাচনী অফিসে হামলা : গ্রেফতার ২১

দেলওয়ারে স্টেটে বাইডেনের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে জোরপূর্বক ঢুকে ভাংচুর এবং কার্যালয়ের দরজা অবরোধ করে বিক্ষোভ করার সময় গ্রেফতার করা হয় ‘সানরাইজ মুভমেন্ট’র কর্মীদের। ছবি-সংগ্রহ।

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে কালক্ষেপণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে টালবাহানার নিন্দা ও প্রতিবাদে সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারি শতাধিক ক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রী প্রেসিডেন্ট বাইডেনের পুননির্বাচনি প্রচারনার সদর দফতরে জোরপূর্বক ঢুকে ভাংচুর এবং অফিসের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছিল। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ অন্তত: ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে উইলমিংটন পুলিশের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছে। উল্লেখ্য, বাইডেনের নিজ বাড়ি দেলওয়ারে স্টেটের উইলমিংটন সিটিতে ব্র্যান্ডিওয়াইন ভবনের অষ্টম তলায় নির্বাচনী প্রচারণা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘটের সময় স্লোগান উঠে, ‘ফান্ড ক্লাইমেট, নট জেনোসাইড’ (জলবায়ুর জন্যে তহবিল চাই, গণহত্যার জন্যে নয়)। বিক্ষোভকারিদের হাতে প্লেকার্ডও এমন বক্তব্য লেখা ছিল। ‘সানরাইজ মুভমেন্ট’ নামক বামিপন্থি চিন্তা-চেতনায় উজ্জীবিত একটি সংগঠনের ব্যানার ছাড়াও বিক্ষোভকারিরা পরিধান করেছিলেন ‘সানরাইজ মুভমেন্ট’ লেখা টি-শার্ট। এ কর্মসূচির প্রচারণার সময় ‘এক্স’ এ পোস্ট দেয়া হয়, যুবসমাজ কখনোই প্রেসিডেন্ট পদে এমন কাউকে সমর্থন জানাতে পারে না যিনি জলবায়ু পরিবর্তন রোধে পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে (ফ্লিপ-ফ্লপ) থাকেন এবং গণহত্যায় তহবিল প্রদান করেন।
উইলিমিংটন সিটির পুলিশ সুপার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বেআইনী তৎপরতায় লিপ্ত হওয়া এবং জোরপূর্বক নির্বাচনী প্রচারনার অফিসে ঢুকে পড়ার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এজন্যে তাদেরকে জেল-জরিমানার শিকার হতে হবে। গ্রেফতার করে গাড়িতে নিয়ে যাবার সময়েও তারা ‘ফান্ড ক্লাইমেট, নট জেনোসাইড’ স্লোগানে গোটা এলাকা প্রকম্পিত করেন। অবস্থান ধর্মঘটে থাকা অন্যেরা বলতে থাকেন যে, বাইডেনকে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে জরুরী পদক্ষেপ এবং গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিতে হবে, অন্যথায় নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারবেন না। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্ক সিটিতে তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে যোগদানের সময় গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার প্রতিবাদকারিগণের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। সে সময় পুলিশ গ্রেফতার করেছিল ৬১ জনকে এবং গ্রেফতারকৃত সকলেই ছিলেন ইহুদি। কলম্বিয়া সার্কেলের পর নিকটস্থ মেট্রপলিটন আর্ট অব মিউজিয়ামের তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানস্থলের বাইরেও শতশত মানুষ বাইডেনের ইসরায়েলি নীতির কঠোর সমালোচনা করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। সেখানেই ছিলেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইহুদি (জুইশ)। ‘জুইশ ভয়েস ফর পীস’ নামক একটি ব্যানারও দেখা গেছে গাজায় ইসায়েলিদের বর্বরতার প্রতিবাদের সময়। এসব ইহুদির গায়ে ছিল ‘ইহুদিরা এক্ষুনি যুদ্ধ বিরতি চায়’, ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’।
এদিকে, অন্তত: ৬ সপ্তাহের জন্যে গাজায় যুদ্ধ-বিরতির অভিপ্রায়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন কার্যকর একটি প্রক্রিয়া অবলম্বন করছেন বলে সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে বাইডেন নিজেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। এ জন্যে ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে একটি সমঝোতার চেষ্টা চলছে-যার মধ্যদিয়ে ৭ অক্টোবর অপহৃত জিম্মির মধ্যে অবশিষ্টদেরকেও হামাসের কব্জা থেকে মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। জর্দানের বাদশা আব্দুল্লাহর সাথে বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট বাইডেন আরো বলেছেন, গাজায় কিছুটা সময় যুদ্ধ-বিরতি চলার পর আমরা আরো সময় নিতে সক্ষম হবো পুরো পরিস্থিতি সামাল দেয়ার পক্ষে। বাইডেন উল্লেখ করেন যে, তিনি এ লক্ষে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং কাতার ও মিসরের নীতি-নির্ধারকদের সাথে কথা বলেছেন। বাইডেন অবশ্য উল্লেখ করেন, যুদ্ধ-বিরতির পর স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুনির্দিষ্ট কোন প্রস্তাবন এখনও উপস্থাপন বা তৈরী হয়নি। তা নিয়ে এখনও কিছুটা মতভেদ রয়েছে। তবে আমি ইসরায়েলি নেতাদের আহবান জানিয়েছি সমঝোতায় উপনীত হবার জন্যে। আর এজন্যে যুক্তরাষ্ট্র সবকিছু করবে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার