
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | প্রিন্ট | ৩০৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

এটর্নী জান্নাতুল রুমা। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
স্টুডেন্ট ভিসায় অনেকে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। অধ্যয়নরত স্বামী-স্ত্রীও ভিসা পেয়েছেন। তাদের অনেকেই শিক্ষা খরচ বহনের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন স্টোর/রেস্টুরেন্ট/অফিসে কাজ করছেন। ওয়ার্ক পারমিট না থাকায় নগদে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনি অবস্থায় কেউ কাজ থেকে বিতাড়িত হলে কঠিন সংকটে পড়া দম্পতির মধ্যে ঝগড়া বিবাদ বাড়ছে। পরস্পরকে দোষারোপ করার এক পর্যায়ে মতলববাজদের পরামর্শে তালাকের পথে পা বাড়াতেও দ্বিধা করছেন না কেউ কেউ। ডিভোর্সের জন্যে এক দম্পতি এসেছিলেন নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে জুরিস ডক্টর এটর্নী জান্নাতুল রুমার কাছে। উচ্চ শিক্ষার জন্যে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা মেধাবি এই দম্পতির কাছে বিস্তারিত জানার পর এটর্নী রুমা পেশাগত দায়িত্বের চেয়ে নৈতিক দায়িত্বকে প্রাধান দেন এবং উভয়কে একত্রে এবং আলাদাভাবে পরামর্শ দিতে থাকেন। বাস্তবতার আলোগে দেয়া পরামর্শ মন্ত্রের মত কাজ করেছে এবং সেই দম্পতি তালাকের চিন্তা একেবারেই দূরে ঠেলে নবউদ্যমে শিক্ষায় মনোনিবেশ করেছেন বলে ২৪ ফেব্রুয়ারি এ সংবাদদাতাকে জানালেন প্রিয়ভাষী এটর্নী রুমা। রুমা বললেন, আমার প্রধান দায়িত্ব ছিল ডিভোর্স ফাইল করার। কিন্তু একই দেশের বাসিন্দা হিসেবে সামাজিক দায়িত্বটি এড়াতে পারিনি। এ ধরনের আরো কটি সংসার আমি কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি। এটর্নী বলেন, মামুলি কারণে সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে অনেকের। কর্মজীবীরা সবচেয়ে বেশী ডিভোর্সের পথে পা বাড়াচ্ছেন। কর্মস্থলে দুষ্ট সহকর্মীরা কোন কোন ক্ষেত্রে এহেন পরিস্থিতির জন্যে দায়ি বলে মনে হয়। তবে কোন কোন স্বামী তার কর্মজীবী স্ত্রীকে অযথা সন্দেহ করার জন্যেও ডিভোর্সের মত ভয়ংকর একটি পথে পা বাড়াচ্ছেন তারা। এটনী রুমা বলেন, ডিভোর্স ঠেকানো যাবে ৫০%, যদি কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা থাকে। এক্ষেত্রে প্রফেশনাল ম্যারিজ কাউন্সেলিংয়ের সহায়তা নেয়াই উত্তম। আবার পরিবারের ঘনিষ্ঠ কেউ থাকলে তার কাছ থেকেই পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। এটা সবচেয়ে বেশী অ্যাফেক্টিভ। এটর্নী রূমা বলেন, বিবাদ চরমে উঠে তর্কাতর্কির মধ্য দিয়ে। এরপর মারপিটের ঘটনা এবং কখনো কখনো পুলিশ ডাকা হয়। এমন নাজুক পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট কোর্স নিলে রাগটা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
কম্যুনিটিতে ম্যারিজ কাউন্সেলর, এমনকি অ্যাঙ্গারম্যানেজ কোর্সেও ব্যবস্থা নেই। তাহলে কীভাবে ভিকটিমরা সে সার্ভিস পাবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে এটর্নী রুমা উল্লেখ করেন, এসব বিষয়ে অভিজ্ঞ এটর্নী রয়েছেন। তাদের শরনাপন্ন হওয়া যাবে।
অভিবাসনেও ইতিমধ্যেই খ্যাতি অর্জনকারি এটর্নী রুমা বলেন, সেন্ট্রাল আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অনেক লোকজনের মধ্যে বাংলাদেশ থেকেও আসা অনেকে ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। এমন অভিবাসীদেরকে মুক্তি প্রদানের একটি পরিকল্পনা নিয়েছেন বাইডেন প্রশাসন। রিপাবলিকানরা সীমান্ত সুরক্ষাসহ অভিবাসনের ব্যাকলগ কমানোর অভিপ্রায়ে বাইডেনের প্রস্তাবিত বাজেটে সাড়া না দেয়ায় আইস এমন হুমকি দিয়েছে। এটর্নী রূমা উল্লেখ করেন, এর বাইরেও খুব সহজে প্যারলে মুক্তি পাচ্ছেন অনেকে। সেটি নির্ভর করছে আটক ব্যক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যে হুমকিস্বরূপ কিনা।
এটর্নী রূমা বলেন, এখন অনেকে প্যারলে রিলিজ পাচ্ছেন কোন ধরনের বন্ড ছাড়াই। নির্দ্ধারিত তারিখে নিকটস্থ ইমিগ্রেশন কোর্টে হাজিরার অঙ্গিকার নিয়েই রিলিজ দেয়া হচ্ছে অনেক বিদেশীকে। তবে সব ক্ষেত্রেই এটর্নীর পরামর্শ নেয়া জরুরী। পরবর্তীতে গ্রীণকার্ডের পথ সুগম রাখতেই এটর্নীর শরনাপন্ন হতে হয়।
বাংলাদেশ থেকে এসে যারা এসাইলাম চেয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই বহুবছর অপেক্ষায় রয়েছেন। ওয়ার্ক পারমিটের পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ইমিগ্রেশন কোর্টে। অপরদিকে আবেদনকারি বছরের পর বছর ট্যাক্স রিটার্ন করছেন। আইন মেনে দিনাতিপাত করছেন। এমন প্রবাসীদের অনেক আবেদন আইসের পক্ষ থেকেই খারিজ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে এটর্নী রুমা বলেন, কেস ডিসমিশ করার ঘটনা ইদানিং বেশী হচ্ছে। তবে অনেক সময় ইমিগ্রেশন কোর্ট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/এটর্নীর মতামত জানতে চায়। সে সময় আমরা মক্কেলের মতামত অনুযায়ী চ্যালেঞ্জ করি। আবার অনেকে ফাইট করতে চান না। অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি যতদিন খুশী ততদিন নিশ্চিন্তে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করতে পারবেন। তবে তার কোন ওয়ার্ক পারমিট থাকে না।



