Advertisement Placeholder

গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৮ হাজার ৬০০টি বাড়ি কিনেছে বাংলাদেশিসহ বিদেশিরা

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   বুধবার, ২০ জুলাই ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ৯৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৮ হাজার ৬০০টি বাড়ি কিনেছে বাংলাদেশিসহ বিদেশিরা

চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, আরিজোনা স্টেটে ৯৮ হাজার ৬০০টি বাড়ি কিনেছেন বিদেশিরা। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিও রয়েছেন। ‘ন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব রিয়েল্টরস’ (এনএআর) কর্তৃক ১৮ জুলাই প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের একইসময়ের চেয়ে তা ৭.৯% কম। করোনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হওয়া এবং যুদ্ধ-জনিত পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে হাউজিং মার্কেটেও। বাড়ি ক্রয়ের সংখ্যা কমলেও এ খাতে বিনিয়োজিত অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ৮.৫% এবং এর পরিমাণ ৫৯ বিলিয়ন ডলার। এটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায়। মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে যত বাড়ি বিক্রি হয়েছে তার ১.৬% ক্রেতাই হলেন বিদেশি। এরা বিনিয়োগ ভিসায় গ্রিনকার্ড পেয়েছেন অথবা অবকাশ যাপনের ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা-যাওয়া করেন।

এনএআরের তথ্য অনুযায়ী, এসব ক্রেতার সিংহভাগ হচ্ছেন চাইনিজ। এনএআরের চীফ ইকনোমিস্ট লরেন্স ইয়ুন উল্লেখ করেছেন যে, বিদেশি ক্রেতার মাত্রা আরো বাড়বে। কারণ চীনসহ বিভিন্ন দেশে কিছু মানুষের অর্থ সংগ্রহের পথ সুগম হয়েছে। অনেক দেশের আমলারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ হরিলুটে লিপ্ত রয়েছেন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে দুর্নীতি চরমে উঠায় কিছু মানুষ বিপুল অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে পাচারে সক্ষম হচ্ছেন। এনএআরের বিশ্লেষণ এবং রিয়েল এস্টেট সেক্টরের বাংলাদেশি এজেন্টদের মতে গত দু’বছরে নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাসে শতশত বাংলাদেশি নগদ মূল্যে বাড়ি ক্রয় করেছেন। চাইনিজদের বড় একটি অংশও নগদ মূল্যে বাড়ি ক্রয় করছে টেক্সাস ও ফ্লোরিডায়। করোনার ধাক্কা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ জনিত কারণে যুক্তরাষ্ট্রেও মুদ্রাস্ফীতি চরমে উঠায় সুদের হার বৃদ্ধি করেছে সরকার। এর ফলে স্থানীয় ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে ঋণ নিয়ে বাড়ি ক্রয়ের আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় বিদেশিরা নগদে ক্রয় করছেন তুলনামূলক কম দামে।

বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী, বিশেষ কয়েকটি এলাকায় নির্দিষ্ট পরিমাণের অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ রয়েছে। সেটিকেও লুফে নিচ্ছেন বাংলাদেশি এবং চাইনিজরা। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কিছুটা কঠোরতা আনা হলেও করোনা মহামারীর কথা বিবেচনায় রেখে সেই আইন প্রয়োগে ফেডারেল প্রশাসন ধীরে চলার নীতি অবলম্বন করায় নিজ দেশের অর্থ চুরি করে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিক হবার প্রবণতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে বলেও রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা উল্লেখ করেছেন।

নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে কর্মরত রিয়েল-এস্টেট এজেন্ট পারিসা এম আফখামী সোমবার (১৮ জুলাই) গণমাধ্যমে বলেছেন যে, তার আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আসছেন দলেদলে সপরিবারে। বিত্তশালী এবং বাড়ি ক্রয়ে আগ্রহীরা সহজে ভিসা পাওয়ায় সামনের বছরের মধ্যে বিদেশি ক্রেতার সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলেও আশা করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে বিদেশিরা ১৫৩ বিলিয়ন ডলারের বাড়ি ক্রয় করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশী পরিমাণের বিনিয়োগ হাউজিং মার্কেটে। সে বছর চাইনিজদের বিনিয়োগ ছিল ৩১.৭ বিলিয়ন ডলার। আর এ বছরের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে সে পরিমাণ কমে ৬.১ বিলিয়নে এসেছে। এক্ষেত্রে অবশ্য চাইনিজ সরকারের একটি নীতিকে দায়ী করা হয়েছে। বিদেশে সম্পদ ক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং বিনিয়োজিত অর্থের সোর্স জানার চেষ্টা করছে চীনের সরকার। একই ধরনের একটি আইন যুক্তরাষ্ট্রেও তৈরী হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিদেশি ক্রেতার ৫৭% হলেন গ্রিনকার্ডধারী অথবা ট্যুরিস্ট ভিসাধারী। বাংলাদেশি ক্রেতার বড় একটি অংশ হচ্ছেন ব্যবসায়ী। সরকারি আমলার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে বলেও রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা জানান।

 

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার