Advertisement Placeholder

ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন

হ্যানয় প্রতিনিধি   |   বৃহস্পতিবার, ০৭ মার্চ ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ২৬১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন

হ্যানয়স্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানটির সূচনা করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্যসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদ-এর রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনা পর্বে মূল বক্তব্য রাখেন ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান। বক্তব্যের শুরুতে তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ৭ মার্চে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জাতিরপিতার ১৮ মিনিটের ভাষণটি ছিল বাঙ্গালি জাতির মুক্তির মূলমন্ত্র। এই ঐতিহাসিক ভাষণের শক্তি এতটাই গভীর ছিল যে, তা দল-মত নির্বিশেষে পুরো বাঙালি জাতিকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার নিমিত্ত ঐক্যবদ্ধ করেছিল। কালজয়ী এই ভাষণের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। তাই, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আমাদের অস্তিত্বেরই অংশ। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণ ইতোমধ্যে আমাদের দূতাবাস ভিয়েতনামের মাতৃভাষায় অনুবাদ করেছে যার মাধ্যমে আমাদেও ভিয়েতনামের বন্ধুরাও বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারবে। সর্বোপরি, বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পকের্ জানতে পারবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মিশনের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান নাসিরউদ্দীন।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আগামীর উন্নয়নের অনুপ্রেরণা : রাষ্ট্রদূত ড. মো. মনোয়ার হোসেন :

ইয়াঙ্গুনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্বের সাথে “ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ” পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন, আলোচনাসভা ও রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য। বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ড. মোঃ মনোয়ার হোসেন মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী নির্যাতিত নারীদের প্রতিশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে জাতির জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির দিকনির্দেশনা, মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার গঠন এবং যুদ্ধকালীন দেশের অর্থনৈতিকনীতির রুপরেখা হিসেবে অভিহিত করেন। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু এই ভাষণের মাধ্যমে জনগণের আবেগ ও আকাক্সক্ষাকে ক‚টনৈতিকভাবে অসাধারণ বাগ্মিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় একসূত্রে বেঁধেছিলেন। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের চুম্বক অংশ ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরোক্ষ ঘোষণা যা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে আসে।

7th march in Vietnam

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে পৃথিবীর ইতিহাসের বিখ্যাত ভাষণগুলোর সাথে তুলনা করে ড. হোসেন বলেন, ভাষণটি শুধ রাজনৈতিক বক্তব্যই নয়, মানুষের কাছে আবেদন ও গ্রহণ যোগ্যতার বিচারে এটি একটি কালজয়ী অনন্য সাধারণ দলিল। ভাষণটির গুরুত্ব উপলব্ধি করে ২০১৭ সালে টঘঊঝঈঙ এটিকে ডড়ৎষফ’ং উড়পঁসবহঃধৎু ঐবৎরঃধমব এর মর্যাদা দিয়ে গবসড়ৎু ড়ভ ঃযব ডড়ৎষফ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ জবমরংঃবৎ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। রাষ্ট্রদূত ড. হোসেন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে সঠিক পথে রয়েছে। তিনি বলেন যে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উদযাপন আমাদেরকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের শিক্ষা এবং উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারণের সুযোগ দেয়।

অনুষ্ঠানে মিয়ানমারে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকরা ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার