Advertisement Placeholder

‘বাংলাদেশ হেরিটেজ মানথ’ উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের বাসায় জমকালো অনুষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি   |   শনিবার, ০৯ মার্চ ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ২৪৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

‘বাংলাদেশ হেরিটেজ মানথ’ উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের বাসায় জমকালো অনুষ্ঠান

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যে ৪ বাংলাদেশি আমেরিকানকে সম্মাননা জানানোর মধ্য দিয়ে ৭ মার্চ বৃহস্প্রতিবার নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের বাসভবনে ‘বাংলাদেশ হেরিটেজ মান্থ’ উদযাপিত হলো। সিটি মেয়রের বিশেষ সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন রুহিন হোসেন, ডা. শামীম আহমেদ, মনিকা চৌধুরী এবং আব্দুল চৌধুরী।

মেয়র এরিক এডামসের উদ্যোগে শুরু হওয়া বাংলাদেশিদের ঐতিহ্যের মাস উদযাপনের এটি ছিল দ্বিতীয় বার্ষিক অনুষ্ঠান। কম্যুনিটির বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিত্বকারি আড়াই শতাধিক প্রবাসীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে। আড়াই ঘণ্টার এ অনুষ্ঠানব্যাপী ছিল ‘জাফরান গ্রীল’র পরিবেশিত বাঙালি রসনায় পরিপূর্ণ নানান ধরনের পিঠা ছাড়াও বিরিয়ানি এবং মিষ্টান্ন। আপ্লুত সকলে পছন্দের খাবার গ্রহণের মাধ্যমে। সিটি মেয়র এরিক এডামস তার বক্তব্যে বহুজাতিক এই সমাজকে আরো বৈচিত্রমণ্ডিত করতে অন্যান্য কম্যুনিটির মত বাংলাদেশিরাও অপরিসীম অবদান রাখছেন বলে উল্লেখ করেন।

মেয়র এডামস বলেন, আমি হচ্ছি ১১০ নম্বর মেয়র এই সিটির। অথচ এর আগে কখনোই সিটিস মেয়রের বাসায় ‘বাংলাদেশ ডে’ অথবা ‘বাংলাদেশ হেরিটেজ মান্থ’ উদযাপিত হয়নি। ঐতিহাসিক বাউলিং গ্রিণ পার্কেও ঘটা করে উড্ডীন করা হয়নি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হালাল খাদ্য এবং মসজিদের মাইকে আযান প্রচারের ব্যবস্থাও ছিল না। এখন সবকিছু ঘটছে সগৌরবে বাঙালিদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের আলোকে। মেয়র তার বক্তব্যে আরো উল্লেখ করেন, আমরা কাউকে বলিনা যে তারা ‘আমেরিকান বাংলাদেশি’ অথবা ‘আমেরিকান আফ্রিকান’ কিংবা ‘আমেরিকান জুইশ’, সে স্থলে বলা হচ্ছে ‘বাংলাদেশি আমেরিকান’, ‘আফ্রিকান আমেরিকান’, ‘জুইশ আমেরিকান’, ‘ভারতীয় আমেরিকান’ ইত্যাদি। অর্থাৎ নিজ নিজ মাতৃভূমিকে স্বীকৃতি দিয়েই এই সিটি তথা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীগণের রক্ত-ঘামকে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। মেয়র এই সিটির উন্নয়ন অভিযাত্রায় বাঙালিদের মেধা আর শ্রম বিনিয়োগেরও প্রশংসা করেছেন।

Heritage Month-2

সিটি মেয়রের চীফ এডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মীর বাশারের নির্দেশনা ও সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদা, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমার, মেয়রের চীফ এডভাইজার ইংগ্রিড ল্যুইস-মারটিন বক্তব্য রাখেন। ভারতীয় আমেরিকান জেনিফার রাজকুমার তাঁর বক্তব্যে বাঙালি জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধুকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এবং দু’বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের অনুরোধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উপলক্ষে স্টেট পার্লামেন্টে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালিগের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে একটি রেজ্যুলেশন পাশের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। জেনিফার নিজেকে বাঙালি জনগোষ্ঠির বিশ্বস্ত একজন প্রতিনিধি হিসেবেও উল্লেখ করেন। একইসাথে মেয়র এরিক এডামসের ইমিগ্র্যান্ট-কম্যুনিটির জন্যে দরদী মনোভাবেরও প্রশংসা করেছেন জেনিফার।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদা তার বক্তব্য শুরু করেন জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে। একইসাথে তিনি স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং সম্ভ্রম হারানো দুলাখের অধিক নারীকে। কন্সাল জেনারেল জাতীয় চারনেতা এবং বীর মুিক্তযোদ্ধাগণের কথাও স্মরণ করেন। কারণ তাদের চরম আত্মত্যাগের মধ্যদিয়েই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। তিনি বলেন, এই সিটিতে বসবাসরত বাংলাদেশীরা তাদের আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের মধ্যদিয়ে প্রকারান্তরে আমেরিকাকে আরো সমৃদ্ধশালী করতেও অবদান রেখে চলেছেন। নাজমুল হুদা সিটি মেয়রকে ধন্যবাদ জানান বাঙালি ঐতিহ্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করায়।

উল্লেখ্য, দিবসটি ছিল ৭ মার্চ, তবে কেউই একাত্তরের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক বক্তব্য কিংবা জয় বাংলা স্লোগানের কথা উল্লেখ করেননি। এমনকি জাতীয় সঙ্গীতও পরিবেশিত হয়নি। ব্যাকগ্রাউন্ডের মিউজিকেও তেমন কোনো বিষয় ছিল না। এ নিয়ে অনেকে উষ্মা প্রকাশ করেছেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার