Advertisement Placeholder

বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষার প্রসারে এক প্রশংসনীয় নাম ড. গোলাম মাতবর

বিশেষ সংবাদদাতা   |   রবিবার, ১০ মার্চ ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৬১৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষার প্রসারে এক প্রশংসনীয় নাম ড. গোলাম মাতবর

ড. গোলাম মাতবর। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

“আত্মীয়-স্বজনের কেউই সন্তুষ্ট নন। ভেতরে ভেতরে নাখোশও। বাংলাদেশে যাবার সময় কারোর জন্যে কিছুই নিতে পারি না। কারণ, ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় দুটি লাগেজের একটিতে থাকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা-কার্যক্রমে সহায়ক বই-পুস্তক। এসব গ্রন্থ আমি প্রদান করেছি খ্যাতনামা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে’’-এ কথা বলেছেন আমেরিকার ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০০ সমাজকর্ম শিক্ষা কর্মসূচীর স্বীকৃত সংস্থা ‘সিএসডব্লিউই’ (কমিশন অব দ্যা কাউন্সিল অন সোশ্যালওয়ার্ক এডুকেশন)’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. গোলাম মোহাম্মদ মাতবর। মাহমুদ নামেও যিনি পরিচিত। বাংলাদেশের শিক্ষা প্রসারে নিবেদিতপ্রাণ ড. গোলাম মাতবর যুক্তরাষ্ট্র এবং আমেরিকার মধ্যেকার শিক্ষা ও শিক্ষার্থী বিনিময় কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে আরো বেগবান করতেও সচেষ্ট রয়েছেন। সাদা-মাটা জীবন-যাপনে অভ্যস্ত (যাকে কখনোই প্রচলিত শব্দ অনুযায়ী কোথাও মাতব্বরি করতে দেখা যায় না) নিউজার্সিতে বসবাসরত ড. মাতবর পেশাগত জীবনের ঘনিষ্ঠ সকল সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে সাড়া দিতে কখনো কার্পণ্য করেন না। বিশেষ করে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি সম্পর্কিত যে কোন আলোচনায় নিজের অভিজ্ঞতা-গবেষণার প্রয়োগ ঘটাতেও দ্বিধা করেন না এই শিক্ষানুরাগী।
চট্রগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপের কইয়ারবিল নামের এক প্রত্যন্ত ইউনিয়নের সম্মানিত ‘নজর আলী মাতবর পরিবারে’ জন্মগ্রহণকারি গোলাম মাতবর কুতুবদিয়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং চট্রগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস (সমাজকল্যাণ), এমএসএস (সমাজকল্যাণ), এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে অধ্যাপক মাতবর কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি এমএসডব্লিও এবং সমাজকর্ম অনুষদ, ক্যালগেরি বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা থেকে সামাজিক নীতি বিশ্লেষণের উপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ড. মাতবর বিশ্ববিখ্যাত হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রোগ্রাম’ ( Management Development Program (MDP)-টিও কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেন।
২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ড. মাতবর নিউজার্সির মনমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টর অব সোশ্যাল ওয়ার্ক (হিউম্যান রাইট সলিডারশীপ)’র অধ্যাপক এবং প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি আমেরিকার কমিশন অন গ্লোবাল সোশ্যালওয়ার্ক এডুকেশন ও কমিশন অব দ্যা কাউন্সিল অন সোশ্যালওয়ার্ক এডুকেশন (সিএসডব্লিউই- আমেরিকার ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০০ সমাজকর্ম শিক্ষা কর্মসূচীর স্বীকৃত সংস্থা) এর সভাপতি এবং সিএসডব্লিউই-ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষার প্রসারে গুরত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। উদাহারণ হিসেবে বলা যায়- অধ্যাপক মাতবর গত ২৫ বছরে ২২ বারের মত বাংলাদেশ সফর করেছেন। তার সফরকালে ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের লাগেজের পাশাপাশি আলাদা করে একটি ব্যাগ নিয়ে যান শুধুমাত্র বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারসমূহ ও শিক্ষকদের মাঝে আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশিত বই প্রদানের জন্য। একটি পরিসংখ্যাণ দিলে বুঝা যায় যে, অধ্যাপক মাতবর প্রতিবার বাংলাদেশে যাবার সময় ২৮-৩০ টির মত বই নিয়ে যান, যদি তিনি বাংলাদেশে ২২ বার সফর করেন তাহলে তার বইয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬১৬-৬৬০ টি, যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৬,০০০ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মত। বইগুলো সাধারণত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী; জামালপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারে ও শিক্ষকদের দান করেছেন। প্রত্যকটি বইয়ের গুনগত মান আন্তর্জাতিক মানের এবং বিখ্যাত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত। প্রদানকৃত বইগুলো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ পড়ার মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষার প্রসারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বই প্রদানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আয়োজিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন যেমন ২০১৮ সালের ১৮-১৯ ডিসেম্বর কুমিলা বার্ড-এর আয়োজনে ‘‘ 5th International Integrative Research Conference on Governance and Modernization in Changing Environment ” সম্মেলনে আমন্ত্রিত হন এবং “Governance and Modernization of Higher Education in Changing Environment ’ উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। ২০২০, ২০২২ এবং এ বছরের ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি সংস্থাটির নবম কনফারেন্সেও (people-planet relationship for peace and stability )মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। এসব কনফারেন্সে সারা বাংলাদেশের লোকপ্রশাসন ও সামাজিক বিজ্ঞাণ বিভাগের শিক্ষকরা অংশ নেন। বিচারপতিগণও অংশ নিয়েছেন এসব কনফারেন্সে। অধ্যাপক মাতবর গত বছরের ৪-৬ জানুয়ারি সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে ‘International Conference on Social Work and Sustainable Social Development ’ এ মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। ড. মাতবর ২০১৫ সালের ৭-৮ আগস্ট আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে ‘‘ Strategic Management and Effective Leadership in Higher Education ” জাতীয় সম্মেলনে প্রধান আয়োজক, সভাপতি, এবং মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। এছাড়া অধ্যাপক মাতবর ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর আখতার হামিদ খান রিসোর্স সেন্টারের আয়োজনে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ইসলামাবাদ, পাকিস্তান)এর নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত ড. আখতার হামিদ খানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ‘ ঊভভবপঃরাবহবংং ড়ভ ঈড়সসঁহরঃু চধৎঃরপরঢ়ধঃরড়হ রহ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ওহরঃরধঃরাবং’র উপর মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। অধিকিন্তু তিনি ২০১৩ সালের ১২-১৫ মার্চ মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত মেক্সিকো ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আয়োজনে ‘‘ Effectiveness of Community Participation in Development Initiatives ” নামক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন।এছাড়া ২০১১ সালের ৩-৭ জানুয়ারিতে ঢাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত “Good Governance: Building Knowledge for Social Development Worldwide ” শিরোনামে ১৭তম আইসিএসডি আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামের সভাপতি এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। এই সম্মেলনে ৪৮টি দেশের প্রায় ৩৮৮ জন বিদেশী প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। প্রত্যক অংশগ্রহণকারীর নিবন্ধন ফি ছিল ৫০০ মার্কিন ডলার, প্রত্যকে গড়ে ৫ দিন করে বাংলাদেশে অবস্থান করেন, ফলে তাদের দৈনন্দিন ব্যয় হয় ১০০০ মার্কিন ডলার করে অর্থাৎ সোট ৫০০০ মার্কিন ডলার। সুতরাং ঐ সম্মেলন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে প্রায় ১৯,৪০,০০০ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় ২৩ কোটি ৬৬ লাখের উপরে। এরইমধ্যে ২০১৫ সালের আগস্টে আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে “Strategic Management and Effective Leadership in Higher Education ” শিরোনামে সপ্তাহব্যাপী জাতীয় সম্মেলনে প্রধান আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষায় ব্যাপক অবদান রেখেছেন। উক্ত সম্মেলনে বাংলাদেশের ২২টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২০ জন উপাচার্য, শিক্ষক, প্রশাসক-সহ অন্যান্য শিক্ষাবিদ অংশগ্রহণ করেছেন। সম্মেলনে উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। সম্মেলন থেকে প্রাপ্ত সুপারিশমালা বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পৌছে দিয়েছেন বর্তমানে তার অনেক সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে অধ্যাপক মাতবরকে প্রধান অতিথি করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও জামালপুরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দুইদিন ব্যাপী ৩২০ জন সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য করণীয় শীর্ষক এক কর্মশালার আয়োজন করেছিল।
অন্যদিকে আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ-এ (২০১২-১৬ এবং ২০১৬-২০২০ মেয়াদে) পরপর দু’বার সভাপতি থাকাকালীন বাংলাদেশ এবং আমেরিকার উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি যোগসূত্র স্থাপন করেছেন। তারই অংশ হিসেবে তিনি ৫০-৬০ জন শিক্ষক, গবেষক, এবং শিক্ষার্থীকে আমেরিকায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। তাছাড়া উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য ২৫টি সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। চুক্তির আওতায় আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে একটি যোগসূত্র তৈরি করেছেন ফলে অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। স¤প্রতি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ, সমাজবিজ্ঞান, ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অস্বচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘প্রফেসর ড. গোলাম মোহাম্মদ মাতবর’ নামে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছেন। এই ফান্ড থেকে প্রতিবছর ১০ শিক্ষার্থীদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই সহায়তার পরিধি অব্যাহত থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চালু থাকা পর্যন্ত। এই ধরণের অসংখ্য কাজের মাধ্যমে অধ্যাপক ড. গোলাম মোহাম্মদ মাতবর বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষার প্রসারে প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার