রবিবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সিঙ্গাপুরে মাত্র ১৪ দিনের ভিসা পেয়েছেন গোতাবায়া রাকাপাকসে

বিশ্ব ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই ২০২২ | প্রিন্ট  

সিঙ্গাপুরে মাত্র ১৪ দিনের ভিসা পেয়েছেন গোতাবায়া রাকাপাকসে

নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট ও গণআন্দোলনের মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজপাকসেকে ১৪ দিনের ভিসা দিয়েছে সিঙ্গাপুর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৪ জুলাই ‘ব্যক্তিগত সফরে’ সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করেন গোতাবায়া। এরপর থেকে প্রায় সপ্তাহখানেক চুপ থাকলেও বুধবার (২০ জুলাই) সাবেক এই লঙ্কান প্রেসিডেন্টকে স্বল্পমেয়াদী ভিসা দেওয়ার কথা প্রকাশ করে দেশটি। খবর পিটিআই।

চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাতের আঁধারে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট পদে থাকা অবস্থায়ই একটি সামরিক বিমানে করে গোতাবায়া রাজাপাকসে মালদ্বীপ পালিয়ে যান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ অনুমোদনের পর রাজাপাকসে এবং তার স্ত্রী কাতুনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুই দেহরক্ষীসহ মালদ্বীপে পাড়ি জমান। মূলত বিমান বাহিনীর একটি ফ্লাইটে তাদের দেশত্যাগের সুযোগ দেওয়া হয়।

সংবাদমাধ্যম বলছে, শ্রীলঙ্কার কোনো আইনেই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের বিধান নেই। তবে পদত্যাগের পর গ্রেপ্তার হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে গোতাবায়া বিদেশে পালিয়ে যান বলে ধারণা করা হয়।

অবশ্য মালদ্বীপে পৌঁছানোর পর একইদিন রাতে দেশটি ছেড়ে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমাতে চেয়েছিলেন গোতাবায়া রাজাপাকসে। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত ফ্লাইটে তিনি আরোহণ করেননি। পরে সৌদি আরবের একটি বিমানে করে মালদ্বীপ ছেড়ে গত ১৪ জুলাই সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান ৭৩ বছর বয়সী গোতাবায়া। এরপর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতেই অবস্থান করছেন তিনি।

পিটিআই বলছে, রাজাপাকসের সফর সম্পর্কে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে বুধবার সিঙ্গাপুরের ইমিগ্রেশন এবং চেকপয়েন্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশে (সিঙ্গাপুরে) আগমনের সময় তাকে একটি স্বল্পমেয়াদী ভিজিট পাস (এসটিভিপি) দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া দ্য স্ট্রেইট টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, গোতাবায়া রাজাপাকসে গত ১৪ জুলাই সিঙ্গাপুরে আসার সময় তাকে ১৪ দিনের ভিজিট পাস জারি করা হয়েছিল। তবে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র গত সপ্তাহে বলেছিলেন, রাজাপাকসে তাদের দেশে আশ্রয় চাননি এবং তাকে কোনো আশ্রয়ও দেওয়া হয়নি।

সিঙ্গাপুরের ইমিগ্রেশন এবং চেকপয়েন্ট কর্তৃপক্ষ (আইসিএ) জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কা থেকে যারা পরিদর্শনের জন্য সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করে তাদের সাধারণত ৩০ দিন সময়কাল পর্যন্ত একটি স্বল্পমেয়াদী ভিজিট পাস (এসটিভিপি) ইস্যু করা হয়ে থাকে।

তবে সিঙ্গাপুরে প্রবেশের পর যাদের এখানে থাকার মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হয় তারা তাদের এসটিভিপি-র মেয়াদ বাড়ানোর জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। আইসিএ বলেছে, মেয়াদ বাড়ানোর এই আবেদনগুলো প্রতিটি আলাদা করে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। করোনা মহামারি, জাতীয় অর্থনীতি পরিচালনায় সরকারের অদক্ষতা, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ তলানিতে নেমে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কায় বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি, খাবার এবং ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর আমদানি মূল্য পরিশোধ করতে পারছে না শ্রীলঙ্কা। ডিজেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না শ্রীলঙ্কার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো। ফলে গত কয়েক মাস ধরে সেখানে দিনের বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না।

ফলে নজিরবিহীন এই সংকটের জন্য রাজাপাকসে পরিবারসহ দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারকে দায়ী করে শ্রীলঙ্কায় গণআন্দোলন প্রকট আকার ধারণ করেছে। আন্দোলনের কারণে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে আগেই পদত্যাগ করেছিলেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। এমনকি রাজাপাকসে পরিবারের অন্য সদস্যরাও সরকার থেকে সরে এসেছিলেন।

বাকি ছিলেন কেবল দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। গত সপ্তাহের বুধবার তার পদত্যাগের কথা থাকলেও দিনের আলো ফোটার আগেই সামরিক বিমানে করে দেশ ছেড়ে মালদ্বীপে পাড়ি জমান তিনি। পরে ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে তিনিও আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের পদ ছাড়েন।

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:২৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই ২০২২

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar