
বিশেষ সংবাদদাতা | শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪ | প্রিন্ট | ৬৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারি সন্তান অথবা বৈধভাবে বসবাসরত স্ত্রী/স্বামী রয়েছেন-এমন কাগজপত্রহীনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ঐতিহাসিক একটি রুলিং দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ৯ সদস্যের বিচারক প্যানেলের ৬ জনই এমন সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন। ইমিগ্রেশন কোর্টের জজ কর্তৃক এক ব্যক্তিকে বহিষ্কারের নির্দেশ কার্যকর করতে ২০১৯ সালে সিতু কামু উইলকিনসিন নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। ত্রিনিদাদ-টব্যাগো থেকে ট্যুরিস্ট ভিসায় আসা সিতু পরবর্তীতে ভিসার নিয়ম লংঘন করায় তার বিরুদ্ধে আপনা-আপনি বহিষ্কারের নির্দেশ জারি হয়। সিতু এবং তার গার্লফ্রেন্ডের গর্ভে একটি সন্তান জন্মেছে আমেরিকায়।
সন্তানটি শারিরীক প্রতিবন্ধী। এ অবস্থায় সিতুকে বহিষ্কার করা হলে অমানবিক দুর্দশায় নিপতিত হবে সন্তানটি-এমন যুক্তি দেখিয়ে সিতুর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়েছিল। সেই আপিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন সিতু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি পেল এবং সন্তানটি প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর তার জন্যে স্ট্যাটাস এডজাস্টমেন্টের সুযোগ পাবে। জানা গেছে, সিতু টানা ১০ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকালে কোন ধরনের অন্যায়-অপকর্মে লিপ্ত হননি। এটা প্লাস পয়েন্ট। এছাড়া, তাকে বহিষ্কারের জন্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) গ্রেফতারের পর সন্তানটি মানসিকভাবেও ভেঙ্গে পড়েছে। কারণ, তাকে পুষ্টিকর খাদ্য প্রদানে সক্ষম হচ্ছেন না তার মা-কারণ তিনিও কাগজপত্রহীন।
এই সিদ্ধান্ত প্রদানকারি ৬ বিচারকের তিন জনই ডোনাল্ড ট্রাম্প আমলে নিয়োজিত। অন্য তিন জন হলেন উদারপন্থি। অর্থাৎ মানবিকতার প্রশ্নে ঐতিহাসিক এক ঐক্য প্রকাশিত হলো সুপ্রিম কোর্টে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীও স্বস্তি পেলেন বলে এটর্নীরা উল্লেখ করেছেন। কারণ, এসব প্রবাসীর স্ত্রী/স্বামী/সন্তানের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন অথবা গ্রীণকার্ডধারী। সর্বশেষ এই রুলিংয়ের রেফারেন্স দিয়ে (Wilkinson v. Garland, No. 22-666 ) তারা ডিপোর্টেশনের ঝুঁকি থেকে পরিত্রাণ পেতে পারবেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ট্যাক্স প্রদান করেছেন এবং আয়-রোজগার করছেন-তারা এটর্নীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করতে পারবেন। তবে যারা বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত থাকার দায়ে জেল-জরিমানার শিকার হয়েছেন তাদের জন্যে এ রুলিং কোন ফায়দা বয়ে আনবে না।



