
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪ | প্রিন্ট | ১১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মা এব্ং ছোট ভাইয়ের সামনে নিজ বাসায় ভরদুপুরে উইন রোজারিয়ো(১৯)কে ৫/৬ রাউন্ড গুলিতে হত্যার ৬০ ঘণ্টা পরও পুলিশের বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ এবং অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা ২৯ মার্চ শুক্রবার বিকেলে প্রচন্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। উল্লেখ্য, ২৭ মার্চ দুপুরে নিউইয়র্ক সিটির ওজোনপার্কে উইন রোজারিয়ো খুন হন পুলিশের গুলিতে। এ ধরনের নৃশংসতার পরপরই সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট কিংবা সিটি মেয়রের উদ্যোগে পুলিশের বডি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণের পর ক্ষুব্ধ জনগণকে শান্ত করতে বক্তব্য প্রদান করা হয়। বাংলাদেশি আমেরিকান উইনের ক্ষেত্রে তা না ঘটায় সর্বস্তরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় ‘প্রবাসী বেঙ্গলী খ্রিস্টান এসোসিয়েশন’র র্যালিতে। সেখানে জড়ো হয়েছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্বস্তরে প্রতিনিধিত্বকারিরা। ছিলেন পেশাজীবী এবং ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতৃবৃন্দের সাথে গণমাধ্যম কর্মীরাও। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও প্রচন্ড ক্ষোভ দেখায় এই র্যালি থেকে। র্যালিতে ছিলেন এটর্নী মঈন চৌধুরী। তিনি জানান যে, উইন রোজারিয়োর পরিবার তার সহযোগী ফার্মকে নিযুক্ত করেছেন এই হত্যাকান্ডের জন্যে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনী লড়াই চালানোর জন্যে। ইতিমধ্যেই তারা যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন। অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার দ্বয়ের বডি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। আনুসঙ্গিক সবকিছু তাদের ফার্মের বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখবেন।
ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরী এ সংবাদদাতাকে আরো জানান, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী উইন রোজারিয়োর হত্যাকান্ডের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছেন স্টেট এটর্নী জেনারেল। পাশাপাশি আমাদের ফার্মও তদন্তে নেমেছে। ন্যায় বিচারের জন্যে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়ে যাবো। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আমাদু দিয়ালো নামক ২৩ বছর বয়েসী গিনির এক ছাত্রকে ব্রঙ্কসে নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ ৪১ রাউন্ড গুলিতে হত্যা করেছিল। সেই হত্যাকান্ডে কৃষ্ণাঙ্গ দিয়ালোর পরিবার ভাড়া করেছিল অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর সহযোগী এই ল’ ফার্মকে। সে মামলায় পুলিশ ডিপার্টমেন্ট নিহত দিয়ালোর পরিবারকে ৩ মিলিয়ন ডলার প্রদান করে মামলাটির নিস্পত্তি করেছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ‘প্রবাসী বেঙ্গলী খ্রিস্টান এসোসিয়েশন’র সাবেক সভাপতি গ্যাব্রিয়েল তাপস গমেজ, বিকাশ গমেজ, লুথারেন চার্চের প্যাস্টর জ্যামস রয়, দক্ষিণ এশিয়ান-আমেরিকানদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত ‘স্যাফেস্ট’র প্রধান নির্বাহী মাজেদা এ উদ্দিন, কম্যুনিটি অ্যাক্টিভিস্ট এ এফএম মেসবাহউজ্জামান প্রমুখ। মাজেদা উদ্দিন বলেন, একই এলাকায় ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মোদাসসের খন্দকার (৩৬) নামক এক বাংলাদেশিকে নিজ বাসার সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি এখনও শনাক্ত হয়নি, গ্রেফতার দূরের কথা। বস্টনে বছর দেড়েক আগে আরেক বাংলাদেশি ছাত্রকে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। সেই হত্যাকান্ডেরও বিচার এখন পর্যন্ত হয়নি। এভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের মত ব্রাউন কালারের বাঙালিরাও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। পুলিশী বর্বরতার ভিকটিম হচ্ছি। এহেন অবস্থার অবসানে চাই দুর্বার ঐক্য। উইন রোজারিয়োর হত্যাকান্ড আমাদেরকে সে আহবানই জানাচ্ছে।
১৯ বছর বয়েসী বাংলাদেশি আমেরিকান উইন রোজারিয়োর ছবিসহ প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। প্রত্যেকে ছিলেন সরব। একইদাবিতে ১ এপ্রিল সোমবার অপরাহ্নে একইস্থানে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘গাজীপুর জেলা এসোসিয়েশন’। এই সংগঠনের সেক্রেটারি ইছহাক মোল্লা বাবু এ সংবাদদাতাকে জানান, নিহত উইনের বাড়ি হচ্ছে গাজীপুর জেলার পূবাইলের হারবাইদ গ্রামে। উইনের বাবা ফ্রান্সিস রোজারিয়ো এবং মা ইভা কোস্টা পুত্রকে এভাবে হারানোর বেদনায় কাতর। ২৯ মার্চ শুক্রবার ছিল ইস্টার ফ্রাইডে, সে উপলক্ষে চার্চে গেলেও কারো সাথে কোন কথা বলেননি। পুত্রশোকে বাক শক্তি হারিয়ে ফেলার উপক্রম হয়েছে বলে জানালেন চার্চের প্যাস্টর জ্যামস রয়।
এদিকে, নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে যে, অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদ্বয়ের অস্ত্র কেড়ে নেয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপম গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন (বাপা)’র কর্মকর্তারা নাম গোপন রাখার শর্তে এ সংবাদদাতাকে বলেছেন যে, তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে বডি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করেছেন। উইন পুলিশের দিকে কাঁচি হাতে তেড়ে আসায় আত্মরক্ষার্থে গুলি করতে বাধ্য হয়েছেন কর্তব্যরত অফিসারেরা। যদিও উইনের মা ইভা কোস্টা বলেছেন যে, সামান্য মানসিক বিকারগ্রস্ত উইন উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় ৯১১ এ কল করা হয়েছিলো পুলিশের জরুরী সহায়তার জন্যে। দ্রুত আসেন পুলিশ অফিসারেরা। তারা বাসায় ঢুকেই উইনকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন। উইন তাতে সাঁয় দেননি। অধিকন্তু রান্না ঘরে ব্যবহৃত কাঁচি হাতে নিয়ে পুলিশকে ভয় দেখায়। সে অবস্থায় তিনি উইনকে জাপটে ধরেন যাতে সে কোন অপকর্ম করতে না পারে। এমনি অবস্থায় অন্তত ৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে উইনকে হত্যা করা হয়েছে।



