Advertisement Placeholder

বাংলাদেশি তরুণ উইন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ অব্যাহত

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   মঙ্গলবার, ০২ এপ্রিল ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১৫৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বাংলাদেশি তরুণ উইন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ অব্যাহত

ঘটনার ৫ দিন পরও পুলিশের বডি ক্যামেরা প্রকাশ না করায় ১ এপ্রিল সোমবার বিকেলেও নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় প্রবাসীরা তুমুল বিক্ষোভ করেছে। এ বিক্ষোভে ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদা, মূলধারার রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী গিয়াস আহমেদ, যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মনসুর খান, মানবাধিকার সংস্থার শরিফ লস্কর, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি মো. রব মিয়া এবং সেক্রেটারি রুহুল আমিন সিদ্দিকী, শেখ আল আমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারীরা।

গাজীপুর জেলা এসোসিয়েশনের সভাপতি এমডি জুয়েলের সমন্বয়ে সেক্রেটারি ইসহাক মোল্লাহ বাবুর পরিচালনায় এ বিক্ষোভে বক্তব্যের সময় কন্সাল জেনারেল নাজমুল হুদা বলেন, উইন রোজারিওকে নিজ বাসায় তার মায়ের শাড়ির আচলের নীচে থাকাবস্থায় পুলিশের ৫/৬ রাউন্ড গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। এটা অমানবিক এবং সেজন্যে সকলেই দাবি জানাচ্ছেন হত্যাকান্ডের প্রকৃত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের পর দায়ী ব্যক্তিদের সঠিক বিচারের সম্মুখীন করার। এরফলে নিরপরাধ পরিবারটি, যারা মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হলো তারা অন্তত: সুবিচার পাক। কনসাল জেনারেল বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট ভিকটিম পরিবারের পাশে রয়েছে। তাদের সাহস এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছে এবং কম্যুনিটির সাথে তাদের কার্যক্রমকে সমন্বয় ঘটিয়ে এটার যাতে সুষ্ঠু বিচার হয় সে লক্ষে সরব রয়েছে।

মূলধারার রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ বলেন, নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ অনেক ভালো কাজ করছে। এমনি অবস্থায় এ ধরনের আচরণ করতে পারে তা আশা করিনি। সেজন্যে এই হত্যাকাণ্ডের সুবিচার হওয়া উচিত, যদি বিচারে গড়িমসি করা হয়, তাহলে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ উইন রোজারিও কিন্তু সাদা চামড়ার ছিলেন না, কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানের মতোও দেখতে নন, ছিলেন বাংলাদেশী চামড়া তথা বাদামী রংয়ের, সেজন্যে আমার মনে হয় অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। গিয়াস বলেন, ঈদের আগে যদি সঠিক তদন্ত না হয়, তাহলে রমজানের পর আমাদেরকে সিটি মেয়রের অফিসের সামনে বিক্ষোভ করতে হবে। মেয়রকে স্মারকলিপি দিতে হবে। বাংলাদেশ সোসাইটি এই স্মারকলিপি তৈরীর পর শত-সহস্র প্রবাসীর স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে পারে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসেও স্মারকলিপি দেয়া যেতে পারে অধিকতর তদন্তের দাবিতে। গিয়াস আহমেদ উল্লেখ করেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে পরবর্তী আরো অসহায় মানুষ পুলিশের হাতে নিহত হবেন এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ‘উইন রোজারিওর নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার চাই’, ‘রেইজ ইউর ভয়েস এগেইনস্ট পুলিশ ভায়োলেন্স’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘অ্যল লাইভস ম্যাটার’ ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড। গগনবিদারি স্লোগানেও একই দাবি উচ্চারিত হয়।

এদিকে, সোমবার সকালে উইনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে লুথারেন চার্চের প্যাস্টোর জেমস রয় এ সংবাদদাতাকে জানান। শনিবার তাকে দাফনের পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, মানসিক বিকারগ্রস্ত উইন বাসায় পাগলামি করছিল বলে পুলিশের জরুরী সেবা দফতরে ফোন করা হয়। দু’মিনিটের মধ্যে ওজোনপার্কের বাসায় পুলিশ হাজির য় এবং বাসায় ঢুকে উইনকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা হয়। সে সময় রান্না ধরের ড্রয়ার থেকে উইন কেচি হাতে নিয়ে পুলিশের প্রতি তেড়ে আসেন বলে নিউইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে জানান। পুলিশের দাবি মানতে নারাজ ইউনের মা ইভা কোস্টা এবং ছোট ভাই উৎস রোজারিও। তারা বলেছেন, কেচি হাতে নিলেও উইনকে জাপটে ধরে রেখেছিলেন ইভা কোস্টা। এমনি অবস্থায়ও পরপর ৬ রাউন্ড গুলিতে উইনের প্রাণ কেড়ে নেয়ার গুরুতর অভিযোগ করেছেন উইনের বাবা ফ্রান্সিস রোজারিও।

এদিকে, নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে যে, অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদ্বয়ের অস্ত্র কেড়ে নেয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপম গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশী আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন (বাপা)’র কর্মকর্তারা নাম গোপন রাখার শর্তে এ সংবাদদাতাকে বলেছেন যে, তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে বডি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করেছেন। উইন পুলিশের দিকে কেচি হাতে তেড়ে আসায় আত্মরক্ষার্থে গুলি করতে বাধ্য হয়েছেন কর্তব্যরত অফিসারেরা। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, উইন হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্যে ফ্রান্সিস রোজারিও একটি ল’ ফার্ম ভাড়া করেছেন। এই ফার্মের সহযোগী এটর্নী মঈন চৌধুরী ১ এপ্রিল সন্ধ্যায় এ সংবাদদাতাকে জানিয়েছেন যে, এ ধরনের অন্যান্য হত্যাকাণ্ডে ইতিপূর্বে যে সব আইনজীবী/এক্সপার্ট কাজ করেছেন তারা ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার