
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | রবিবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৪ | প্রিন্ট | ১৮৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দুই তরুনীর হিজাব খোলার খেসারত হিসেবে ১৭.৫ মিলিয়ন ডলার দিতে হচ্ছে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে। ২০১৭ সালে জামিলা ক্লার্ক এবং আরওয়া আজিজ নামক দুই মুসলিম আমেরিকানকে পৃথক দুটি অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল নিউইয়র্কের পুলিশ। বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পাসপোর্ট সাইজের ছবি উঠানো হয় পরবর্তী রেকর্ডের জন্যে। এই দুই তরুনীর ছবি উঠানোর সময় হিজাব খোলা হয়। সে সময় তারা তীব্র আপত্তি করেছিলেন কিন্তু পুলিশ তা আমলে নেয়নি। তারা বলেছিলেন যে, হিজাব তাদের নৈমিত্তিক পোশাক, তা খোলার অর্থ হবে তাদেরকে নগ্ন করার সামিল এবং জনসমক্ষে অপদস্থ করা। এরপর তারা আইনী লড়াইয়ের মুক্তি লাভের পর ২০১৮ সালে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করেন। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) আদালত সূত্রে জানা যায় যে, পুলিশ ডিপার্টমেন্ট মামলাটির নিষ্পত্তি করেছে সাড়ে ১৭ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ প্রদানের অঙ্গিকারে।
মামলার বিবরণে প্রকাশ, পারিবারিক ঝামেলায় ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি জামিলা ক্লার্ককে এবং ৩০ আগস্ট আরওয়া আজিজকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর জেলে পাঠানোর প্রাক্কালে তাদের ‘মাগ শট’ (পাসপোর্ট সাইজের ছবি) নিতে চাইলে উভয়েই ধর্মীয় কারণে আপত্তি করেন। পুলিশ আপত্তি তোয়াক্কা না করে হিজাব খুলতে বাধ্য করে এবং ছবি উঠানো হয়। মামলার শুনানীকালে জামিলা ক্লার্ক উল্লেখ করেন, পুরুষ পুলিশ অফিসার এবং বন্দিদের সামনে যখন আমার হিজাব খোলা হয় তখোন মনে হলো ওরা আমাকে নগ্ন করলো। ঘটনাটি এমনি অমর্যাদাকর যে, আমার মনে হয় এই কথার মধ্যদিয়েও আমি আমার দু:খবোধের অনুভ’তি প্রকাশ করতে পারছি না। জামিলা উল্লেখ করেন যে, হিজাব খুলতে আপত্তি করায় পুলিশ অফিসারেরা মুসলমানদের বিদ্বেষমূলক মন্তব্য এবং হুমকি-ধমকিও প্রদান করেছিলেন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ ডিপার্টমেন্ট যুক্তি দেখায় যে, তারা তাদের নিয়ম পালন করেছে। এর দু’বছর পর মাগ শটের নামে হিজাব খোলা, শিখ সম্প্রদায়ের টারবাইন খোলার নামে ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভ’তির সাথে খেলা করার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠলে ২০২০ সালেই ধর্মীয় অনুভ’তিতে আঘাত না দেয়ার নির্দেশনা জারি হয়।
ক্ষতিপূরণের অঙ্গিকারের মাধ্যমে মামলাটির নিষ্পত্তি ঘটার পর এক বিবৃতিতে ওই দুই তরুণীর আইনজীবী এলবার্ট ফক্স ক্যাহন বলেন, নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের ধর্মীয় অধিকার এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এর মধ্যদিয়ে একটি জোরালো বার্তা নাগরিকদের মধ্যে প্রদান করা হলো যে, পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ইচ্ছা করলে যা খুশী তাই করতে পারে না। তাদেরকেও জরিমানার মুখোমুখী হতে হয়।
জামিলা ক্লার্ক মামলাটির নিষ্পত্তির পর প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, হাজারো মানুষের জন্যে ন্যায় বিচার আদায়ে বড় একটি ভূমিকা পালন করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আর এই ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, নিউইয়র্কের পুলিশ কতবড় অপরাধ করেছে। এই সিদ্ধান্তের সুফল পাবেন ২০১৪ সালের ১৬ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৩ আগস্টের মধ্যে যারা মাগ শটের নামে টপুলিশ কর্তৃক হেনস্থা হয়েছেন। সে সংখ্যা ৪১০০ জন বলে অ্যাটর্নিরা জানান।



