Advertisement Placeholder

আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের অভিধায় একজন বাদল

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৫৬১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের অভিধায় একজন বাদল

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম কন্সট্রাকশন কোম্পানী ‘টুলি’র কর্পোরেট সেক্রেটারি কেনেথ ডব্লিউ টুলি জুনিয়র লং আইল্যান্ডে বাংলাদেশি আমেরিকান আকতার হোসেন বাদলের মালিকানাধীন ‘আরএলবি গ্রুপ’র পঞ্চম স্টোরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে নিবেদিত প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবেই আকতার হোসেন বাদলকে আমরা ২০ বছর আগে থেকে সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছি। এই সহযোগিতার দিগন্ত প্রসারিত করতে আত্মপ্রত্যয়ী বাদলই আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছেন। ২০ বছরের ব্যবধানেও বাদলের সেই কর্মনিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং স্বপ্নের পথে ধাবিত হতে বিন্দুমাত্র অবহেলা-অবজ্ঞা দেখছি না। এজন্যে টুলি বিগতদিনের ন্যায় সামনের দিনগুলোতে আরএলবি গ্রুপের পাশে থাকার অঙ্গিকার করছে।’

গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে কংগ্রেসম্যান এ্যান্থনী পি ডেসপসিটো, লং আইল্যান্ড এলাকার স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান, কাউন্টি ও সিটির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াও চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দ এসে মাইনোরিটি কম্যুনিটির একজন হিসেবে বাদলের অদম্য গতিতে এগিয়ে চলাকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রক্লেমেশন, সাইটেশন এবং প্রশংসাসূচক স্মারক-পত্র হস্তান্তর করেন বাদলকে। এগুলো প্রদান করেন নাসাউ কাউন্টি এক্সিকিউটিভ ব্রুঙ্কস ব্ল্যাকম্যান, টাউন অব হ্যামস্টিডের সিনিয়র কাউন্সিলওম্যান ডরোথি গুসবি, হ্যামস্টিড চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট লাশোন লিউকস, ভিলেজ অব হ্যামস্টিডের মেয়র ওয়ানি হোবস এবং ট্রাস্টি, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর কেভিন থমাস, নাসাউ কাউন্টির কম্পট্রোলার ইলেইন ফিলিপ প্রমুখ। করতালিতে মুখরিত পরিবেশটি এক অভাবনীয় দৃশ্যের অবতারণা করে- যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কষ্টকর। সাদা-কালোর সাথে ব্রাউনের সংমিশ্রণে পুরো এলাকা একাকার হয়েছিল ওয়েস্ট হ্যামস্টিড সিটির ১৪ ওয়েস্টমিনিস্টার রোডের কর্ণারে ‘আরএলবি ইউএসএ গ্রুপ’র পঞ্চম এই স্টোরের উদ্বোধনকালে। মধ্যমনি ছিলেন কেনেথ টুলি।

কেক কাটার পর বহিরাঙ্গনে ফিতা কেটে বিশাল এই স্টোরের উদ্বোধনকালে প্রদত্ত বক্তব্যে চাঁদপুরের সন্তান বাদল টুলি কোম্পানীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা এবং এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনারা আন্তরিক অর্থেই সহযোগিতা দিচ্ছেন এবং তার সুফলও পাচ্ছেন। দোর-গোড়ায় সবকিছু পৌঁছে দিচ্ছি তুলনামূলকভাবে কমদামে। সকলের সাথে সম্পর্ক গড়েই বাদল টিকে থাকতে চায়। ভাগ্য-গড়ার উর্বর ভূমি এই আমেরিকায় ‘জিরো থেকে হিরো’ বাদল বলেন, সামনে আমার টার্গেট হচ্ছে ফাস্টফুড বেকারি স্টোর এবং আরএলবি ফ্র্যাঞ্চাইজ চালু করার। আশা করছি মানবিকতায় পূর্ণ এলাকাবাসী সে সহযোগিতাও অব্যাহত রাখবেন। বাদল উল্লেখ করেন, আপনাদের মধ্যে আরএলবি গ্রুপের প্রতি আস্থার যে ভীত তৈরী হয়েছে তা যে কোনো মূল্যে যেন অটুট রাখতে পারি-সে দোয়া চাচ্ছি।

নিউইয়র্ক সিটির ফ্লাশিং ছেড়ে বাদলের ‘আরএলবি গ্রুপ’র লং আইল্যান্ড যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে লিমব্রুকে সানরাইজ হাইওয়েতে স্টোর চালুর মধ্যদিয়ে। এরপর ওসেনসাইড, কোপ্যেইগ সিটির মন্টক হাইওয়েতে ৩টি স্টোর চালু করেছেন। সবকটিতে ফুলটাইম এবং খন্ডকালিন কর্মচারির সংখ্যা ৩৮ এবং কন্সট্রাকশনে কাজ করছেন আরো ৭০ জন।

ব্যবসার পাশাপাশি মার্কিন রাজনৈতিক দল ডেমক্র্যাটিক পার্টির সাথেও সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে জোরদার করেছেন আকতার হোসেন বাদল, যাকে রাজনীতিকরা মৌ হিসেবে ডাকেন। ব্যবসার দিগন্ত প্রসারের সাথে মূলধারার সম্পর্কের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বাদল। এজন্যে রিপাবলিকানদের সাথেও গভীর সম্পর্ক তৈরী করেছেন বাদল। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ অধ্যূষিত লং আইল্যান্ডে টিকে থাকতে সকলের সাথে মিশে যাবার বিকল্প নেই এবং সে চেতনা লালন করছেন বাদল ওরফে মৌ। যা দৃশ্যমান হলো পঞ্চম স্টোরের উদ্বোধনকালেই। কেক এবং স্ন্যাক্স গ্রহণের পরই অনেকে লাইন ধরে সেইফটি সামগ্রী ক্রয় করলেন। সহাস্যবদনে মূল্য পরিশোধের পর আপন গন্তব্যে পাড়ি জমালেন তারা।

RLB-2

টাউন অব হ্যামস্টিডের ডেপুটি সুপারভাইজার ডরোথি এল গুসবী উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, মাইনোরিটি বিজনেস ওউনার হিসেবে বাদলের অবদান এই এলাকায় অপরিসীম। ব্যবসায়ী হলেও তিনি এলাকাবাসীর কল্যাণে নিয়োজিত থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানেই নিজেকে আমাদেরই একজনে পরিগণিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

ডেমক্র্যাটিক পার্টি থেকে নিউইয়র্ক স্টেট এ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-১৮’র প্রার্থী লিসা রিটজ আরএলবি গ্রুপ প্রসঙ্গে বলেন, বাদল তার অমায়িক ব্যবহারে সকলের হৃদয় জয় করেছেন বলেই দ্রুত বিস্তৃত ঘটছে তার বাণিজ্যিক অভিযান এবং সমৃদ্ধ হচ্ছে অভিবাসীদের আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের কথকতা।

বড় ভবন, ব্রিজ কিংবা ফেঞ্চি দেয়ালসহ বাড়ি তৈরীর সবধরনের উপাদান বিক্রি হচ্ছে আরএলবি স্টোর থেকে। এসব দ্রব্য-সামগ্রি ব্রাজিল, কলম্বিয়া, মেক্সিকো প্রভৃতি দেশ থেকে নিজেই আমদানি করছেন।
চাঁদপুরের শাহরাস্তির সন্তান বাদল নব্বইয়ের দশকে উচ্চ শিক্ষার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। লেখাপড়া শেষ করার পর কর্মজীবনের শুরুতে ব্রঙ্কসে একটি জুতার দোকানে সেলসপার্সনের কাজ নেন। সে সময় মহাসংকটে নিপতিত ছিলেন। এমনি অবস্থায় সেই জুতার দোকানেই হৃদ্যতা তৈরী হয় স্থানীয় এক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সাথে। তার সহায়তায় চাকরির পরিবর্তে কন্সট্রাকশন ব্যবসায় ঢুকেছেন তিনি। গত ৩০ বছরে অনেক চড়াই-উৎরাই পেড়িয়ে বাদল এখন বহুজাতিক এ সমাজে নিজের ফ্র্যাঞ্চাইজ হতে চলেছেন। লং আইল্যান্ড এলাকার ৫টি স্টোরের গ্রাহকের হান্ড্রেড পার্সেন্ট ভিনদেশী। আশপাশের সকল কন্ট্রাক্টরের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবার পর কয়েক মাইলের ব্যবধানে ৫টি স্টোর চালু করা সম্ভব হলো বলে উল্লেখ করেন বাদল।

উল্লেখ্য, একমাত্র কন্যা রুদসীর জনক বাদল ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছেন দলমত-নির্বিশেষে সকলের সাথে। ইতিপূর্বে কোপ্যেইগ কাউন্টি চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের সদস্য হবার পর এবার হ্যামস্টিড চেম্বারেরও সদস্য পদ লাভ করেছেন।

RLB-4

মার্কিন কংগ্রেস, মানবাধিকার সংস্থা, স্টেট ডিপার্টমেন্টেও রয়েছে যোগাযোগ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক সাফল্যের এই ধারাকে আমি মাতৃভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত করতে চাই। তেমন পরিবেশ বিরাজ করলেই চাঁদপুরের মানুষের সামগ্রিক কল্যাণে কিছু একটা করার স্বপ্ন রয়েছে। তবে এখনও কমিউনিটির দুঃস্থ মানুষের পাশে রয়েছি সবসময়। আমি সকলের দোয়া চাই যেন সকলকে সাথে নিয়েই আরো সম্মুখে যেতে পারি সততা-নিষ্ঠার সাথে কাজের মধ্যদিয়ে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার