
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪ | প্রিন্ট | ২১৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজকে মাণিকগঞ্জ কল্যাণ সমিতির ফুলেল শুভেচ্ছা। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
কালো টাকার কাছে হেরেছেন বলে মন্তব্য করে জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী মমতাজ বললেন, এলাকার মানুষ এবং গানপ্রিয় মানুষের ভালবাসা নিয়েই বাকিটা জীবন কাটাতে চাই। যুক্তরাষ্ট্র সফররত সাবেক এই সংসদ সদস্য মমতাজ ২৪ এপ্রিল নিউইয়র্কে সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাথে। সে সময় গত নির্বাচনে নৌকা প্রতিক পেয়েও কেন জিততে পারেননি, সংসদ সদস্য হিসেবে টানা তিন টার্ম দায়িত্ব পালনের সময়ে তার প্রতি ভক্তদের আন্তরিকতায় কোন ভাটা পড়েছে কিনা ইত্যাদি স্থান পায় এ আলাপচারিতায়। হাসির ফোয়ারা উড়িয়ে মমতাজ বললেন, ‘কথায় বলে না, যে রাধেঁ সে চুলও বাঁধে। আমি সমানতালে সবকিছুই করি। আমি গানের মানুষ। মূল পেশাটাই হচ্ছে গান। গানের মধ্যেই ডুবে আছি। পাশাপাশি যেহেতু মানুষের সেবা করি। সেবার জন্যেই মূলত: রাজনীতি করা। আগে থেকেই করতাম। তারপরে সংসদ সদস্য হয়ে আরো জোরালোভাবে কিছু করেছি। কয়েকগুণ বেশী করতে পেরেছি মানুষের জন্যে। সবই মানুষের জন্যেই। রাজনীতির মত গানও মানুষের সাথেই সম্পর্কিত। মানুষের ভাল লাগা, ভালবাসা থেকেই করি। মমতাজের সাক্ষারটি গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ প্রতিদিন উত্তর আমেরিকা সংস্করণের সাংবাদিক আনিসুর রহমান।
সংসদ সদস্য হবার পর গানের প্রতি আপনার আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে? জনপ্রিয়তা কী বেড়েছে, নাকি কমেছে? জবাবে মুচকি হেসে মমতাজ বললেন, আমি জানি না, কোন জায়গায় আছি। তবে আমি তো সবসময় একইস্থানে রয়েছি। আমার মনে হয় গানের চাহিদা ২০/২৫ বছর ধরে একইভাবে রয়েছে। আমি হয়তো কখনো বেশী, আবার কখনো কম সময় দিতে পারি। কিন্তু আমি গানের মধ্যে, গানের সাথেই আছি।
গত নির্বাচনে সবাই আপনার বিজয়ের প্রত্যাশায় ছিলেন। কিন্তু ফলাফল উল্টো হয়েছে। এর কারণ কী তা সবাই জানতে চায়। জবাবে মমতাজ বললেন, এর একটাই কারণ, সেটি হলো প্রচুর কালো টাকার কাছে আমি হার মানছি। আর এটা আমার এলাকার মানুষ এবং বাংলাদেশের সকলেই প্রায় জানে যে আমার বিরুদ্ধে প্রচুর কাল টাকার ছড়াছড়ি হয়েছে। যে কারণে এক পর্যায়ে কিছু নেতা ঐ টাকার দিকে ঝুঁকে গেছে। তারপরও আলহামদুলিল্লাহ, যেটা গত ৫০ বছরেও নৌকা মার্কার কোন প্রার্থী এত ভোট কখনোই পায়নি, যা আমি টাকা-পয়সা ছাড়া, মানুষের ভালবাসা ও দোয়ায় প্রায় ৮৩ হাজার ভোট মানুষ আমাকে দিছে। এবং বিনিময়ে আমি মানুষকে একটি সাবানও দিতে পারিনি। আর এটা মানুষ খোঁজ নিলেই জানবে যে, মাথাপিছু প্রচুর টাকা খরচ করা হয়েছে আমার বিপক্ষে। তারপরও অল্পকিছু ভোট, আর মাত্র সাড়ে তিন হাজার ভোট পেলেই আমি পাশ করতাম। এটা কোন বিষয় নয়। এতটাকার বিপক্ষে আমি একা লড়ছি। এটা আমার জন্যে অনেক বড় পাওয়া। দল আমাকে ভালবাসে। শেখ হাসিনা আমাকে ভালবাসেন। চতুর্থবারের মত আমাকে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছেন, এটাও তো আমার জীবনে অনেক বড় পাওয়া। নৌকার মনোনয়ন পাওয়াটাও তো বিশাল একটা অর্জন। এবং চতুর্থবারের মত। এলাকার মানুষ আছে আমার সাথে। এই দোয়া নিয়েই থাকবো।
মমতাজ নিজের ব্যাপারে উল্লেখ করেন, এলাকায় বাউলদের জন্যে মুক্তমঞ্চ করেছি, মা-বাবার নামে মধুরমেলা, মায়ের মেলা করেছি। মা-বাবার কবরের পাশে নিজের কবর বানাবো, সেখানেই যেন আমাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
এদিকে, নিউইয়র্কে মানিকগঞ্জ কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা আলতাব হোসেনের বাসায় ২৪ এপ্রিল দুপুরে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এলাকার সার্বিক ইস্যুতেও কথা বলেছেন মমতাজ। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বিশ্বাস এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সজিব চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, গাজী আলতাব হোসেন, লুৎফর রহমান, যোবায়ের, মনজুর হাসান, আনিসুর রহমান , সাইফুল ইসলাম, মজিবর রহমান জাহিদ, মাহমুদুল আলম, নুরজাহান ঋতু প্রমুখ। সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ এ সময় বলেন, আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত থাকলে এলাকার কল্যাণে অনেক কিছুই করা সম্ভব হবে। এ সময় মমতাজকে প্রবাসের মাণিকগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। উল্লেখ্য, ১৯ মে পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্যে মমতাজ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন বলেও জানিয়েছেন।



