
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৪ | প্রিন্ট | ১১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্ক স্টেটের বাফেলোতে দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে আটক ৩১ বছর বয়েসী ড্যাল ও কিউমিংস-কে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছেন বাফেলোস্থ এরিক কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী মাইকেল জে কীন। ২৯ এপ্রিল সোমবার অপরাহ্নে বাফেলো সিটি মেয়র বাইরেন ডাব্লিউ ব্রাউন, বাফেলো পুলিশ কমিশনার জোসেফ গ্রেমাগলিয়াকে পাশে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী আরো জানান, গ্রেফতারকৃত যুবকের কাছে একটি অটোমেটিক রাইফেল পাওয়া গেছে। সেটি বেআইনিভাবে তার দখলে ছিল। তা পরীক্ষা করা হচ্ছে ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে কিনা। ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী আরো জানান, ড্যাল ও কিউমিংস-এর বিরুদ্ধে বাফেলো ক্রিমিনাল কোর্টে বেশ কটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা না থাকায় (গৃহহীন) ঐসব মামলার একটিতেও সে হাজিরা দেয়নি। এমনি অবস্থায় ২৭ এপ্রিল ভরদুপুরে যিনার স্টিটের ১০০ ব্লকে গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হবার আশপাশের ভিডিও ফুটেজে প্রায় একইসময়ে তার অস্তিত্ব দৃশ্যমান হয়েছে।
এর পরদিন ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ১৭ মিনিটে বাফেলো সিটির ইস্ট ডেলাভ্যান এবং নরফোক এভিনিউ থেকে পুলিশ ড্যাল ও কিউমিংস-কে গ্রেফতার করেছে। সে সময় তার কাছে গুলিভর্তি রাইফেল-সহ ভয়ংকর কিছু সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। রাইফেলটি সে বেআইনিভাবে বহন করছিল। সোমবার তাকে বাফেলো সিটি কোর্টে মাননীয় জজ স্যামুয়েল পি ডেভিসের এজলাসে সোপর্দ করা হয়। সে সময় মাননীয় আদালত তাকে জামিনহীন আটকাদেশ দেন। একইসাথে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ মে সকাল পর্যন্ত রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে। বেআইনিভাবে এই অস্ত্র রাখা ও বহনের মামলাতে সে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদন্ড হতে পারে বলে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি উল্লেখ করেছেন। জোড়া খুনের দায়ে জড়িত থাকলে সারাজীবন তাকে কারাগারেই কাটাতে হবে বলে একজন আইনজীবী উল্লেখ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র এবং পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, দুই বাংলাদেশী আবু ইউসুফ (৩৯) এবং বাবুল মিয়া (৫৯) যে পরিত্যক্ত বাড়িতে কাজের জন্যে গিয়েছিলেন, সেটি বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে। ড্যাল ও কিউমিংস ওই বাসায় বাস করছিল। সেটি মেরামতের পর বিক্রি হয়ে গেলে সে থাকবে কোথায়-এ আশংকা থেকেই হয়তো ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে গুলি করেছে। তবে সে টার্গেট করে কিংবা বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে গুলি ছুড়েনি বলে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি দাবি করেন। অর্থাৎ সে সময় অন্য কেউ গেলেও গুলিবিদ্ধ হতেন। পুলিশ কমিশনার জানান, গুলির শব্দ পেয়েই ৯১১ এ ফোন করা হয়। সাথে সাথে টহল পুলিশ সেখানে গিয়ে দেখেন যে, একজন মারা গেছেন, আরেকজনকে গুরুতর অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেছেন।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি উল্লেখ করেন যে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সেজন্যে তিনি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির ছবি প্রকাশে সম্মত হননি। যদিও আগেই ড্যাল ও কিউমিংস-এর সন্ধান চেয়ে সাড়ে ৭ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছিল। জোড়া খুনের মামলাটি তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহকারি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ক্রিস্টফার এস সাফোকো এবং বাফেলো পুলিশের হোমিসাইড ব্যুরোর চীফ গ্যারি ডব্লিউ হ্যাকবুশ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গুলিতে নিহত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ইউসুফ ৭ সন্তানের জনক ছিলেন। আরেকজন কুমিল্লার বাবুল মিয়ার দুই সন্তান এবং তার স্ত্রীর গর্ভে রয়েছে আরেকজন। উভয়ের স্ত্রী এখন শিশু সন্তান নিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় নিপতিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটি থেকে ৩৯০ মাইল দূর বাফেলো হচ্ছে বিশ্বখ্যাত নায়েগ্রা ফল্স’ সংলগ্ন এবং কানাডা সীমান্ত ঘেষা একটি পিছিয়ে পড়া জনপদ। সাম্প্রতিক বছরসমূহে নিউইয়র্ক সিটি থেকে ৪০ হাজারের অধিক বাংলাদেশী সেখানে সস্তায় বাড়ি কিনে বসতি গড়েছেন। জরাজীর্ণ বাড়িসমূহ মেরামতের মাধ্যমে বাফেলো সিটির চেহারাও পাল্টে দিচ্ছেন বাংলাদেশিরা। তেমনি একটি সিটিতে উঠতি কম্যুনিটি হিসেবে বাংলাদেশিরা এ রকম পরিস্থিতির ভিকটিম হওয়ায় এক ধরনের ভীতির সঞ্চার ঘটেছে। এ অবস্থায় কম্যুনিটির নিরাপত্তার দাবি উঠেছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে বাফেলো সিটি মেয়র বাইরেন ডাব্লিউ ব্রাউন সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, বাফেলোর আইন শৃঙ্খলা সুরক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। তারই প্রমাণ মিললো হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সন্দেহভাজন দুর্বৃত্ত গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে। এ সময় পুলিশ কমিশনার উল্লেখ করেন যে, পুলিশি টহল স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্নই উঠে না।



