Advertisement Placeholder

জনগণকে নিয়েই বাংলাদেশ পাল্টে দেয়ার ইতিবাচক যাত্রা অব্যাহত থাকবে : নিউইয়র্কে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   শনিবার, ০৪ মে ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১৩৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

জনগণকে নিয়েই বাংলাদেশ পাল্টে দেয়ার ইতিবাচক যাত্রা অব্যাহত থাকবে : নিউইয়র্কে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ও আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া সরল স্বীকারোক্তি করলেন, বিএনপি-জামায়াতের মিথ্যাচার প্রতিরোধে আমাদের কিছু ব্যর্থতা আছে বলে আমি মনে করি, বিশেষ করে এখানে যারা আওয়ামী লীগের আছে, তারা যথাযথভাবে এসব অপপ্রচারের জবাব দিতে পারেনি। বিএনপির বক্তব্য/তথ্য যে মিথ্যা তার জবাব জোরালোভাবে দিতে পারেনি। কিংবা ওইসব ন্যারেটিভের বিরুদ্ধে কাউন্টার ন্যারেটিভ অর্থাৎ বিশ্বাসযোগ্যতার সাথে সত্য কথাটা তুলে ধরতে পারেনি। আমি মনে করি এখানে যারা আওয়ামী লীগের আছে, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে বসবাস করেন, তারা দলকে দেশকে কন্ট্রিবিউট করতে পারেন। আর এটা শেখ হাসিনার জন্য বা আওয়ামী লীগের জন্য নয়। বাংলাদেশের স্বার্থেই আমি মনে করি এ দায়িত্বটি সকলের করা উচিত।

লন্ডন হয়ে ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের জন্যে ৩ মে জেএফকে ত্যাগের প্রাক্কালে নিউইয়র্কে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদের মিয়ার বাসায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে প্রদত্ত এ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ বিরোধী লাগাতার অপপ্রচার প্রতিরোধে প্রবাসীদের করণীয় প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া আরো বলেন, গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে এসেছিলেন প্রফেশনাল, ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, কর্পোরেশনের বড় কর্তারা-তাদেরকে জানিয়েছি যে, বাংলাদেশ ছেড়ে এলেও আত্মীয়-স্বজনেরাও তো রয়েছেন। পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিতো দায়িত্ববোধ আছে। সে বোধ থেকেই তাদের উচিত মার্কিন প্রশাসন-রাজনীতিক, নীতি-নির্ধারকদের কাছে বাংলাদেশের সঠিক চিত্র তুলে ধরা। প্রপাগান্ডা মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। এমন আহবান রেখেছি তাদের কাছে।

বিপ্লব বড়ুয়া কিছদিন আগে র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকতর্কার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশন প্রসঙ্গে বলেন, তা ভুলভাবে করা হয়েছে। আমি মনে করি তা ন্যায্যতার সাথে হয়নি। আমরা নির্যাস হয়েছি। ভুলভাবে তা করা হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। বিএনপি তো বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড শুরু করেছে এবং দায়ীদেরকে ইমডেমনিটিও দিয়েছিল। যেভাবে জাতিরজনককে হত্যাকারিদের দেয়া হয়েছিল। এর চেয়ে বর্বর ন্যাক্কারজনক ঘটনাতো বাংলাদেশের ইতিহাসে নেই।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এই নেতা আরো জানালেন, বিএনপি যেসব তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে মূলধারার মিডিয়ায় নিউজ করিয়েছে সেগুলোকে আমরা চ্যালেঞ্জ করেছি যে, তার কোনোটাই সত্য নয়। বাংলাদেশের কারাগারে বিএনপির এতলোক আছে এবং এতজন মারা গেছে, তার কোনোটিই সত্য নয়। ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে আমি আইজি প্রিজনের সাথে কথা বলে জেনেছি, প্রতিমাসে ব্ংলাদেশের কারাগারে গড়পরতা ৪০ থেকে ৪৫ জন মারা যায় বিভিন্ন রোগে। বিএনপি যখোন ক্ষমতায় ছিল তখোনও একই রকম ছিল। এটা স্বাভাবিক। এখন জেলে কাউকে হত্যা করা হয়েছে-এমন কোন ঘটনা নেই। এবং জেলে যারা মারা গেছে অনেকেরই রাজনীতির সাথে কোন সম্পর্ক নেই। অনেকে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে ছিলেন। বিএনপির আমলেই তারা কারাগারে গিয়েছিলেন। তারা (বিএনপি) ভুলভাবে এমন ভুল তথ্য বিদেশীদের কাছে উপস্থাপন করে তাদের পক্ষে করুনা আদায়ের জন্যে। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্যে তারা এমন বানোয়াট তথ্য তাদেরকে (বিদেশিদেরকে) দেয়।

Biplob Barua

বাংলাদেশের কারাগারসমূহের ধারণ ক্ষমতা ৮০ হাজারের বেশী নয়। অথচ বিএনপি তার বিদেশী প্রভূদের বলেছে যে, কারাগারে নাকি তাদের লাখ লাখ লোক রয়েছে। এ ধরনের মিথ্যা তথ্য, বিএনপির নেতারাতো দন্ডপ্রাপ্ত এবং পলাতক-সাজাপ্রাপ্ত হাওয়া ভবনের মালিক তারেক জিয়ার নির্দেশেই এসব অপপ্রচার চালায়। বিএনপির অনেক নেতার সাথেই আমাদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগ আছে। এবং তারাও সেটি জানে। কিন্তু তারা তাদের নেতাকে তুষ্ট করার জন্য এ ধরনের মিথ্যাচার চালিয়েই যাচ্ছে।
ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণই আওয়ামী লীগের মূল শক্তি, শেখ হাসিনার মূল প্রেরণা এবং জণগণকে সাথে নিয়েই বাংলাদেশের রূপান্তর শেখ হাসিনা করেছেন, শেখ হাসিনার বাংলাদেশকে পাল্টে দেয়ার যে ইতিবাচক যাত্রা তা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি বিশেষভাবে উল্লেখ করলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ‘সপ্তম আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু সম্মেলন’-এ যোগদানের পর নেভাদা, টেক্সাস হয়ে নিউইয়র্কে এসেছি। আগে থেকেই জানি যে, যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো স্টেটেই বিরাটসংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন। সে সংখ্যা ১৫ লাখের বেশী। সকলেই দেশ নিয়ে ভাবেন। আওয়ামী লীগার যেমন আছেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাও আছেন। প্রবাসে থাকলেও হৃদয়টা বাংলাদেশে। একটি আদর্শ দিয়ে এদেরকে একত্রিত রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা এদেশে কাজ করছেন। সবকিছু দূরে ঠেলে আওয়ামী লীগ এবং মুজিব আদর্শের সৈনিকেরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে সেপ্টেম্বরে জননেত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘ সফরের সময় বাংলাদেশ বিরোধী শক্তির বিক্ষোভ প্রদর্শন করা সম্ভব হবে না।

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশে বিএনপি-জামাতের কোনো সমর্থন নেই। তারা নির্বাচনে আসেনি। ভোটও দেয়নি। এ অবস্থায় তারা বেছে নিয়েছে এই মিথ্যাচার, প্রপাগান্ডা। তারা যে সময়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল, সে সময় তারা যে লুটপাট করেছে, সেই অর্থ বাইরে এনে লবিস্ট ফার্ম ভাড়া করেছে। পশ্চিমা মিডিয়াগুলোতে এ ধরনের প্রপাগান্ডা অত্যন্ত সাকসেসফুল্লি তারা করতে পেরেছে। এসব কারণে গত নির্বাচনটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এবং দেখা গেছে যে, সেই নির্বাচন-বিরোধী ষড়যন্ত্র পরাজিত হয়েছে। এবং বাংলাদেশের জনগণ পুনরায় গণতন্ত্রের পক্ষে, নির্বাচনের পক্ষে, নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থার পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার