Advertisement Placeholder

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত সম্পর্কে যা জানা গেল

বিশ্ব ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ০৭ মে ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৭৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত সম্পর্কে যা জানা গেল

ফাইল ছবি

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় হামলা বন্ধে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতার। এই তিন দেশের মধ্যস্থতাকারীরা যে প্রস্তাব দিয়েছেন তাতে ইতোমধ্যে সম্মতি দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা–সিআইয়ের প্রধান বিল বার্নস। তিনি সোমবারই কাতারের দোহা থেকে জেরুজালেমে পৌঁছেছেন।

এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন টেলিফোনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। বাইডেন ইসরায়েলের গাজার রাফায় স্থল অভিযানের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হামাসের হাতে জিম্মি ব্যক্তিদের রক্ষায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি সর্বোত্তম পথ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়নি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাস যে প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে তাতে ইসরায়েলের দাবিগুলো পূরণ হয়নি। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য কায়রোয় মধ্যস্থতাকারীদের একটি দল পাঠানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা রাফায় অভিযান চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

হামাসের সম্মতি পাওয়া প্রস্তাবিত ওই চুক্তিতে কী কী শর্ত আছে, সেগুলোও এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে চুক্তির শর্তসমূহ তুলে ধরেছে।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীরা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিন ধাপে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে হামাসের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। চুক্তির প্রথম ধাপে ৪০ দিনের মধ্যে ৩৩ জন জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এই দফায় যারা মুক্তি পাবেন তাদের মধ্যে থাকবেন- নারী, শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। বিনিময়ে কয়েক শ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল।

দ্বিতীয় ধাপে পরবর্তী ৪২ দিনের মধ্যে বাকি সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। বিনিময়ে আরও কয়েক শ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল। পাশাপাশি গাজা থেকে সব ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে।

চুক্তির তৃতীয় ধাপে ৪২ দিনের মধ্যে ৭ অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলায় নিহত বা জিম্মি অবস্থায় যারা নিহত হয়েছে, তাদের সবার মরদেহ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিনিময়ে ইসরায়েলে বন্দী অবস্থায় মারা যাওয়া ফিলিস্তিনিদের মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

চুক্তির প্রথম ধাপেই গাজা পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাতে গাজার সড়ক, বিদ্যুৎ, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন এবং যোগাযোগ অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ করা হবে। আর চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে গাজার ঘর–বাড়ি ও বেসামরিক স্থাপনা পুনর্গঠনের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হবে। অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে চুক্তির তৃতীয় ধাপে। সূত্র: আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার